নতুন চিটফান্ড বিরোধী বিল লগ্নিকারীদের কাছে কেন সুবিধাজনক

সংক্ষেপে বললে, সরকার নিয়ন্ত্রিত নয় এমন যে কোনও ধরনের বিনিয়োগ প্রকল্প এই বিলের মাধ্যমে নিষিদ্ধ হয়ে গেল। এ ধরনের প্রকল্পে যদি অর্থ যে সংস্থার কাছে গচ্ছিত রাখা হচ্ছে তারা সে অর্থ ফেরত না দিতে পারে…

By: New Delhi  Updated: July 30, 2019, 07:30:14 PM

মঙ্গলবার রাজ্যসভায় পাশ হয়ে গেল চিটফান্ড বিরোধী বিল। ব্যানিং অফ আনরেগুলেটেড ডিপোজিট স্কিম বিল, ২০১৯ শীর্ষক বিলটি গত ১৯ জুলাই লোকসভায় পেশ করেছিলেন নির্মলা সীতারমণ। লগ্নিকারীদের বিভিন্ন পঞ্জি স্কিম সহ ভুয়ো লগ্নি সংস্থার হাত থেকে রক্ষা করতেই এ বিল। এর আগে আইনে বিভিন্ন ভাবে ছোট লগ্নিকারীদের টাকা সংগ্রহ করে বড় অঙ্কের অর্থ পাচার করে দেওয়ার যে সুযোগ ছিল, সে ফাঁক থাকছে না এই আইনে।

সংক্ষেপে বললে, সরকার নিয়ন্ত্রিত নয় এমন যে কোনও ধরনের বিনিয়োগ প্রকল্প এই বিলের মাধ্যমে নিষিদ্ধ হয়ে গেল। এ ধরনের প্রকল্পে যদি অর্থ যে সংস্থার কাছে গচ্ছিত রাখা হচ্ছে তারা সে অর্থ ফেরত না দিতে পারে তাহলে মূলধনের বড়সড় ক্ষতি হয়। যেমনটা ঘটেছে পুনের ডিএস কুলকার্নি ডেভেলপার্সের ক্ষেত্রে। এরা গচ্ছিত অর্থের উপর বড়সড় রিটার্ন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০০০ কোটি টাকারও বেশি জমা করার পর আর তা ফেরত দিতে পারেনি।

বিল অনুযায়ী আমানত ও আমানত গ্রহণকারীর সংজ্ঞা কী?

পিআরএস ইন্ডিয়ার করা একটি বিশ্লেষণ অনুসারে, সংজ্ঞানুসারে আমানত হল, “একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ যা অগ্রিম হিসাবে, ঋণ হিসাবে বা অন্য যে কোনও উপায়ে গ্রহণ করা হয়েছে এই প্রতিশ্রুতিসহ যে তা সুদসহ বা সুদবিহীন ভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।” তবে কোনও আত্মীয়ের কাছ থেকে পাওয়া ঋণ বা অংশীদারি সংস্থায় অংশীদারের দেওয়া অর্থ এর আওতায় আসবে না।

আমানত গ্রহণকারী বলতে বিল অনুযায়ী বোঝানো হয়েছে একজন ব্যাক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টি বা কোনও কোম্পানিকে যারা এই আমানত গ্রহণ করছে বা তার হয়ে সওয়াল করছে। এই বিল অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে যারা আমানত গ্রহণ কারী তাদেরই এর আওতায় আনা হবে, যাঁরা আমানতকারী তাঁরা এর আওতায় আসবেন না।

অনিয়ন্ত্রিত আমানত প্রকল্প কী, পঞ্জি প্রকল্পই বা কাকে বলে?

এই বিলের আওতায় যদি কোনও এ ধরনের প্রকল্প ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় এবং ৯টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার একটিতেও নথিভুক্ত না হয়, তাহলে সেগুলি অনিয়ন্ত্রিত বলে গণ্য হবে।

এ ধরনের দুর্নীতির একটা সাধারণ ধরন হল পঞ্জি প্রকল্পে অনিয়ন্ত্রিত আমানত, যে ধরনের ভুয়ো লগ্নিতে একটি পক্ষ সামান্য লগ্নিতে বড় রিটার্নের আশ্বাস দিয়ে থাকে। এ ধরনের পঞ্জি প্রকল্পে প্রাথমিক লগ্নিকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয় নতুন লগ্নিকারী নিয়োগের মাধ্যমে। এর পর যখন আর নতুন কোনও লগ্নি আসে না, তখন গোটা প্রকল্প ভেঙে পড়ে এবং বিনিয়োগকারীরা তাঁদের অর্থ ফেরত পান না।

আমানত সংগ্রহকারীকারী প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

মোট ৯টি সংস্থা রয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি), কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক (এমসিএ), এবং রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারসমূহ। সব কর্তৃপক্ষই আমানত গ্রহণকারী প্রকল্পের উপর নজর রাখে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক দেখাশোনা করে নন ব্যাঙ্কিং অর্থনৈতিক সংস্থা (এনবিএফসি)গুলির উপরে এবং সেবি নজর রাথে মিউচুয়াল ফান্ডের দিকে। সমস্ত আমানত গ্রহণকারী প্রকল্পকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্বারা অনুমোদিত হতে হয়।

বিল অনুসারে আইন না মানলে কী শাস্তি হতে পারে?

এই বিলের আওতায় তিন ধরনের অপরাধকে চিহ্নিত করা হয়েছে- অনিয়ন্ত্রিত আমানত গ্রহণ প্রকল্প (এর মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞাপন করা এবং এ ধরনের প্রকল্পের জন্য অর্থ গ্রহণ অবধি), নিয়ন্তিরত প্রকল্পে জমা দেওয়া অর্থ প্রতারণা করে ফেরত না দেওয়া, এবং জেনেশুনে অনিয়ন্ত্রিত আমানত প্রকল্পে অর্থ জমা করার জন্য লগ্নিকারীদের উৎসাহিত করা।

প্রথম ধরনের অপরাধের জন্য ২ থেকে ৭ বছরের জেল এবং ৩ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। দ্বিতীয় ধরনের অপরাধের জন্য ৩ থেকে ১০ বছরের জরিমানা এব ২ লক্ষ টাকা থেকে আমানতকারীদের কাছ থেকে জমা নেওয়া অর্থের দ্বিগুণ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। একই অপরাধ পুনর্বার করলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাবাস ও ১০ লক্ষ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

Read the Full Story in English

Get all the Latest Bengali News and West Bengal News at Indian Express Bangla. You can also catch all the Explained News in Bangla by following us on Twitter and Facebook

Web Title:

Banning of unregulated deposit schemes bill ponzi scheme investors interest

The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com.
Advertisement