/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/17/bondi-beach-shooting-2025-12-17-14-18-40.jpg)
Bondi Beach Shooting: অস্ট্রেলিয়ায় জঙ্গি হামলা, ছক কষা হয়েছিল ফিলিপিন্সে বসে?
Bondi Beach Shooting: অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে সাম্প্রতিক ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, বরং এর পিছনে উঠে আসছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দীর্ঘদিনের সংঘাতপূর্ণ ইতিহাস। অস্ট্রেলিয়ান তদন্তকারী সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী বাবা-ছেলের জুটি ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে ফিলিপিন্স সফর করেছিল, যা এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফিলিপিন্সের বিদেশ দফতর জানিয়েছে
ফিলিপিন্সের অভিবাসন দপ্তরের তথ্য বলছে, সাজিদ আক্রম ও তার ছেলে নাভিদ আক্রম নভেম্বরের শুরুতে সিডনি থেকে ম্যানিলা গিয়েছিল। সেখান থেকে দক্ষিণের দ্বীপ মিন্দানাওয়ের দাভাও শহরে ছিল। প্রায় একমাস পরে তারা ফিলিপিন্স ছাড়ে। এই সফরকালীন সময়ে তারা সামরিক ধাঁচের প্রশিক্ষণ নিয়েছিল বলেই অস্ট্রেলিয়ার কাউন্টার টেররিজম সংস্থার দাবি।
আরও পড়ুন- তরুণদের আকস্মিক মৃত্যু বেড়েছে, হৃদরোগই আসল কারণ নাকি কোভিডের টিকা, কী বলছে এইমস?
মিন্দানাও দ্বীপ ফিলিপিন্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ এবং এটি দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি কার্যকলাপ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের কেন্দ্র। ফিলিপিন্স মূলত একটি খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও মিন্দানাও অঞ্চলে মুসলিম জনসংখ্যা তুলনামূলক বেশি। ইতিহাসবিদদের মতে, এই অঞ্চলের মুসলিম জনগোষ্ঠী বা ‘মোরো’ সম্প্রদায় শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক।
আরও পড়ুন- পায়ের দুর্গন্ধে নাজেহাল? ঘরোয়া উপায়ে দূর করুন দুর্গন্ধ, ফিরবে আত্মবিশ্বাস!
স্প্যানিশ ও পরে মার্কিন উপনিবেশ শাসনের সময় থেকেই মোরো জনগোষ্ঠীর জমি দখল, সাংস্কৃতিক অবমূল্যায়ন এবং খ্রিস্টান বসতি স্থাপনের ফলে তাদের মধ্যে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়। স্বাধীনতার পরেও এই পরিস্থিতির খুব একটা বদল হয়নি। এই বঞ্চনা থেকেই ষাট ও সত্তরের দশকে গড়ে ওঠে মোরো ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট এবং পরবর্তী সময়ে আরও কট্টরপন্থী গোষ্ঠী।
আরও পড়ুন- অর্শ সারাতে কাজে লাগান এই ঘরোয়া উপাদানগুলো, জানুন চিকিৎসার সহজ পদ্ধতি!
এইসব সংগঠনের মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত ছিল আবু সায়্যাফ গ্রুপ, যারা অপহরণ, বোমা হামলা এবং প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদের মতো নৃশংস কৌশলের জন্য কুখ্যাত। সময়ের হাত ধরে এই গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ বাড়তে থাকে। ২০১০-এর দশকে ইসলামিক স্টেট বা আইএসআইএস এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে।
আরও পড়ুন- শাড়ি পরলেও হতে পারে ক্যানসার? লক্ষণ জেনে সাবধানে থাকার পথ বাতলেছেন বিশেষজ্ঞরা
২০১৫ সালে আইএসআইএস-ঘনিষ্ঠ একাধিক গোষ্ঠী একত্রিত হয়ে মিন্দানাওকে একটি তথাকথিত ‘উইলায়াত’ বা প্রদেশে পরিণত করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল। এরই পরিণতিতে ২০১৭ সালে মারাউই শহরে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়। পাঁচ মাস ধরে চলা সেই যুদ্ধে ফিলিপিন্স সেনাবাহিনীকে ব্যাপক বিমান হামলার সাহায্য নিতে হয় এবং শহরের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যায়।
এই সংঘর্ষে হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং কয়েক লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হন। সেই সময় অস্ট্রেলিয়া-সহ একাধিক দেশ ফিলিপিন্স সেনাকে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া পরে মারাউই পুনর্গঠনের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তাও করে। যদিও এই অভিযানে আইএসআইএস-ঘনিষ্ঠ বহু নেতা মারা গিয়েছিল, তবুও একক হামলা বা ‘লোন উলফ অ্যাটাক’ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলিতেও মিন্দানাওয়ে ধর্মীয় স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলে এখনও জঙ্গি মতাদর্শবাদীদের ভিড় রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বন্ডি বিচ হামলার আগে হামলাকারীদের মিন্দানাও সফর অস্ট্রেলিয়ান তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে হামলাটি আইএসআইএস দ্বারা অনুপ্রাণিত হতেও পারে। ফলে এই ঘটনা শুধু অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জঙ্গি ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us