বড় খবর

দশমের ইংরাজি প্রশ্নে ধরণী দ্বিধা হও, অর্ধেক আকাশে শিকল, কী ভাবে?

দশম শ্রেণির ইংরাজি প্রশ্নের কমপ্রিহেনশন প্যাসেজে বিপুল বিড়ম্বনায় সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন।

CBSE Question Paper
দশম শ্রেণির ইংরাজি প্রশ্নের কমপ্রিহেনশন প্যাসেজে বিপুল বিড়ম্বনায় সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন।

দশম শ্রেণির ইংরাজি প্রশ্নের কমপ্রিহেনশন প্যাসেজে বিপুল বিড়ম্বনায় সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন। বিস্ফোরক গদ্যের বিষয়। প্রবল পুরুষতান্ত্রিক, নারী বৈষম্যের ধ্বজাধারী, এক বার চোখ বোলালেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। বলা যেতে পারে, চাপের মুখে পড়ে এ নিয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছে সিবিএসই। তবে তা– অনেকটা নমো-নমো গোছের বা অশ্বত্থামা হত, ইতি গজ জাতীয়! বলছেন অনেকেই। কারণ, বোর্ড বলেছে, নাকি ‘হালকা ভাবে জীবনকে দেখা’ হয়েছে এই গদ্যে। ড্যামেজ কন্ট্রোলে ওই প্যাসেজটি অবশ্য নাকচ করে দিয়ে, তাতে যা নম্বর ছিল সকলেই পাবে বলে জানানো হয়েছে বোর্ড তরফে। প্রশ্নপত্র তৈরির যে প্রক্রিয়া, সেই বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখা হবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে তাতে কৃতকর্মের ফল সামান্যই হ্রাস পাচ্ছে, বলছে নাগরিক সমাজের প্রায় গোটাটাই।

গদ্যাংশে আছেটা কী?

যা লেখা গদ্যে, ছত্রে ছত্রে সেটা বিধ্বংসী, সামান্য কয়েক লাইন বলতে চেষ্টা করছি। যেমন, ‘বাচ্চারা তাদের বাবামায়ের কথা এখন আর শুনছে না, তার কারণ স্বামীদের কথা শুনছেন না স্ত্রী-রা। এতে শিশু এবং চাকরবাকররাও তাঁদের অবস্থান বুঝতে পারছে না।’ আরও বলা হয়েছে যে, ‘মেয়েদের উচিত আরও বেশি বাচ্চাদের দেখভাল করা। স্বামীরা বাড়ি না থাকলেও তাঁদের কথা মেনে চলা উচিত।’ বলে দিতে হবে না, এই প্যাসেজ থেকে আলোকবর্ষ পিছিয়ে-পড়া মানসিকতার কটু গন্ধ বেরুচ্ছে। পুরুষরা উপরের তলায় থাকবে এবং রোজগার করবে, স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ করবে। স্ত্রীদের কর্তব্য স্বামীর কথা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলা। কারণ পুরুষটিই গৃহের প্রভু। স্ত্রী প্রায় ভৃত্যের সমগোত্রীয়। স্বামী বাড়িতে না থাকলেও ঈশ্বরের মতো তাঁর অদৃশ্য উপস্থিতি থাকবে। তাঁর নির্দেশ সেই অনুপস্থিতিকালেও মেনে চলা বাধ্যতামূলক। এ সব তো প্রায় মধ্যযুগের ব্যাপার। মাধ্যমিকের প্রশ্নে মাটি ফুঁড়ে কী ভাবে যে তা হাজির হল! জামানা তো কবে বদলে গিয়েছে, হয়তো শতাব্দীপ্রায় ঘুমিয়ে, হঠাৎ উঠে বসে প্রশ্ন তৈরি করে ফেলেছেন নির্মাতারা! তাঁদের দোষ দেওয়া যায় না!

আতসকাচে আরও লাইন

ইংরাজির গদ্যাংশের আরও কয়েকটি লাইনের বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘ধীরে ধীরে দেখা যাচ্ছে যে, বাচ্চাদের উপর অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মা নিজে নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন সন্তানদের।… এই ভাবে পুরুষকে তাঁর নিজের অবস্থান থেকে সরিয়ে দিয়ে স্ত্রী এবং মা নিয়মানুবর্তিতার স্বার্থে নিজের ক্ষতি করছেন।’ অনেকেই এই বাক্যগুলি দেখে ধরণী দ্বিধা হও বলছেন। কিন্তু এমনও অনেকে রয়েছেন, যাঁরা এতে কোনও ভুলই খুঁজে পাচ্ছেন না। মারাত্মক এটাই, তাই না! হ্যাঁ, সমাজে একটা স্রোত রয়েছে এই ধারণার। বোধেও রয়েছে। তাকে উসকে দেওয়ার জন্যই কি এই ব্যবস্থা তা হলে? কৈশোরেই পুরুষতান্ত্রিক বৈষম্যের বিষটা ঢুকিয়ে দাও– এই কি বাসনা নাকি? এ কি কোনও তালিবানি বাঁক নাকি? তা ছাড়া, মনোবিদরা বলছেন, এই যে ভুল কিছু দেখতে না পাওয়া, এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে গৃহ হিংসার বীজও। ঠিকঠাক পরিবেশে যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে মাঝেমধ্যেই।

‘হালকা’ উত্তর

কমপ্রিহেনশন প্যাসেজে আরও মণিমুক্ত আছে। এক জায়গায় বলছে, ‘বিংশ শতাংব্দীতে সন্তানের সংখ্যা কমেছে, এটা নারীবাদী আন্দোলনের ফলাফল।’ আর একটি জায়গায়, ‘পিতার বচন গুরুত্বহীন করে তোলার অর্থ বাইবেলকে স্থানচ্যুত করা, যা সন্তানের পক্ষে কিছুতেই ভাল নয়।’ শুধু বক্তব্যটি ভয়ঙ্কর তাই নয়, ব্যাকরণের ভুলও রয়েছে। যিনি এই গদ্যটির ‘মহান’ রচৈতা। তাঁর সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উঠে এসেছে। ওই ব্যক্তি কি মেল শভিনিস্ট বা পুরুষের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী কেউ, তিনি প্রবল রাগী একজন, হতাশ কোনও স্বামী নাকি– ইত্যাদি।

আরও পড়ুন ভ্যাকসিন পাসপোর্ট প্লিজ! এই পাসপোর্ট কী, এর কড়াকড়িতে কোথায়, কেমন কাজ?

বোর্ড ঝাঁক প্রশ্নের উত্তরে বলেছে, লাইট-হার্টেট অ্যাপ্রোচ টু লাইফ, মানে হল– হালকা ভাবে জীবনকে দেখা। এই ‘উত্তর’ গদ্যের চেয়েও বিস্ময়কর, অদ্ভুত, আশঙ্কারও। অনেকেই এমনটা বলছেন। তাঁদের মত, তা হলে কি বোর্ড সত্যিই ভাবছে মেয়েরা স্ত্রী কিংবা মায়ের খাঁচাতেই বন্দি হয়ে রয়েছে এখনও? আর যে সব কশোরী পরীক্ষাহলে বসে এটি পড়েছে, উত্তর লিখেছে, তাদের নিশ্চয়ই সব গুলিয়ে যাওয়ার উপক্রম। তাদের মধ্যে অনেকে নিশ্চয়ই মহাকাশে উড়ালের স্বপ্ন দেখছে, কিংবা এমন কিছু করবে বলে ঠিক করে বসে রয়েছে, যাতে সবাই চমকে অস্থির হবে, তাদের মধ্যে এক জনেরও যদি সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় এই গদ্যের ধাক্কায়, তার কী করবে বোর্ড?
হালকা ভাবে জীবনকে দেখার মানে কি বোর্ড বোঝে ঠিক মতো? গদ্যাংশটিকে হালকা করার জন্য কি তবে…? উত্তর দিতে গেলে একটা নীরস গোল্লাই জুটবে, তাই না!

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন

Get the latest Bengali news and Explained news here. You can also read all the Explained news by following us on Twitter, Facebook and Telegram.

Web Title: Explained what was wrong in the passage on women in cbses english question paper

The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com