scorecardresearch

বড় খবর

Explained: পৃথ্বীরাজের পথে কি ইতিহাস বইয়ের বদল হবে এবার? পাঠ্য বই বদলের পদ্ধতিটা কী?

সংবিধান অনুযায়ী শিক্ষা কেন্দ্র এবং রাজ্য– দুইয়ের দায়িত্ব। এর ফলে, দুয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এতে।

Manushi_Chillar

পৃথ্বীরাজ চৌহানের মতো শাসকের সম্পর্কে লেখা ইতিহাস বইতে থাকা উচিত। এ ব্যাপারটিতে যেন নজর দেয় কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। সম্রাট পৃথ্বীরাজ ছবি নিয়ে একটি সাক্ষাৎকারে এমনই বলেছেন ছবির নায়ক অক্ষয় কুমার। তাঁর কথা থেকে স্পষ্ট, পৃথ্বীরাজে টেক্সট বুক হোক, যাতে বাচ্চারা তাঁর বীরগাথা জানতে পারে। টেক্সট বুক বদলের এই আবেদনে বিতর্ক তৈরি করেছে রীতিমতো। এর প্রেক্ষাপটও তো তৈরি ছিল।

কারণ, নানা সময়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যের নানা সরকারের বিরুদ্ধে বার বার অভিযোগ ওঠেছে যে, তারা নিজের নিজের মতাদর্শ মতো পাঠ্যপুস্তক বদল করেছে, সুকৌশলে কাজ সারতে চাইলেও সব সময় তা সম্ভব হয়নি। আর পৃথ্বীরাজে অনেকেরই প্রশ্ন, এই সম্রাটের ইতিহাসই ধোঁয়াশায় ঢাকা, অনেকটা কল্পকাহিনি। তা হলে ইতিহাস বই বদল করে কি কল্পিত বীরগাথা ঢোকানো হবে নাকি!

এই পরিপ্রেক্ষিতে আসুন জেনে নিই, কারা ঠিক করেন পাঠ্য বইয়ের বিষয়বস্তু কী হবে, এবং কী ভাবেই বা তা হয়ে থাকে?

সংবিধান অনুযায়ী শিক্ষা কেন্দ্র এবং রাজ্য– দুইয়ের দায়িত্ব। এর ফলে, দুয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এতে। ভারত জুড়ে নানা শিক্ষা সংক্রান্ত বোর্ড রয়েছে, যারা স্কুলের সিলেবাস ঠিক করে, কী বই পড়ানো হবে, তা স্থির করে। বিভিন্ন রাজ্য শিক্ষা বোর্ড, সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE), কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এগজামিনেশন (CISCE)– এ রকম আরও। এগুলি সবই স্ব-শাসিত সংস্থা।

এরা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে কিছু গাইডলাইনের উপর নির্ভর করে, যা স্থির করে দেয় ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)। এটাও স্ব-শাসিত সংস্থা। এর গঠন করা হয়েছিল ১৯৬১ সালে। সরকারকে শিক্ষায় পরামর্শ ও সহযোগিতা করার জন্য এই সংস্থাটির জন্ম। কী ভাবে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি সাধন করা যায়, সে দিকে তাকিয়ে কাজ করতে হয় তাদের। এনসিইআরটি-র কাজের মধ্যে রয়েছে, মডেল টেক্সট বুক তৈরি করা এবং ছাপানো। এর চেয়ারম্যান নিয়োগ করে কেন্দ্রীয় সরকার।

টেক্সট বুক বা পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু কী হবে, সে জন্য এনসিইআরটি বর্তমানে একটি ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক (NCF) তৈরি করছে বা সেটি নতুন করে তৈরি করছে। এর আগে এইটি হয়েছিল ২০০৫ সালে, ইউপিএ সরকারের আমলে। তার আগে, ১৯৭৫, ১৯৮৮ এবং ২০০০ সালে এনসিএফ তৈরি হয়। এনসিএফ হল বোর্ড গাইড লাইন্স, যা সিলেবাসের কাঠামোটা তুলে ধরে, সেই অনুযায়ী টেক্সট বুকগুলি তৈরি করতে হয় নানা বোর্ডকে।

কী ভাবে এই গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে?
ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি বা এনইপি-র সুপারিশ অনুযায়ী এনসিএফ তৈরি হচ্ছে। ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি-টি ২০২০ সালের। এ বছরের এপ্রিলে এনসিএফ তৈরির গাইড লাইন কী হবে, সেই ঘোষণায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছিলেন, দর্শনের রাস্তাটা দেখাচ্ছে এনসিএফ, এনসিএফ হল সেই পথ, যা সংবিধান নির্ধারিত। উপনিবেশিকতা থেকে ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে মুক্ত করার পথে একটি পদক্ষেপ। যার লক্ষ্য, শিশুশিক্ষা, শিক্ষকদের ভূমিকা এবং মাতৃভাষা শিক্ষা এবং সাস্কৃতিক গোড়ার দিকে তাকানো।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে একটি কমিটি তৈরি করা হয় এই গাইডলাইন্স তৈরির জন্য। ন্যাশনাল স্টিয়ারিং কমিটিতে রয়েছেন ১২ জন সদস্য। এই ১২ জনের মধ্যে ইসরো-র প্রাক্তন প্রধান কে কস্তুরীরঙ্গন রয়েছেন। রয়েছেন ন্যাশনাল বুক স্ট্রাস্টের চেয়ারম্যান গবিন্দ প্রসাদ শর্মা। যিনি আবার আরএসএসের শিক্ষা-শাখা বিদ্যা ভারতীর সভাপতি। যারা সারা দেশে স্কুল চালায়।

২০১৬ হিসেবে বিদ্যা ভারতীর স্কুলের সংখ্যা সারা দেশে ১২ হাজার, পড়ুয়ার সংখ্যা ৩০ লক্ষ ২০ হাজার।
লস্ট রিভার: অন দ্যা ট্রেল অফ সরস্বতী-র লেখক মাইকেল ড্যানিনো, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমা আখতার, অঙ্কের দুনিয়ায় নোবেল প্রাইজ বলা হয় যাকে, সেই ফিল্ডস মেডেল জয়ী মঞ্জুল ভার্গব, এঁরাও এই কমিটিতে রয়েছেন।

এনসিএফ তৈরির প্রক্রিয়া
জেলাস্তরীয় আলোচনা, রাজ্য় এবং জাতীয় স্তরের সমীক্ষা বিশ্লেষণের পর বিজ্ঞান, জেন্ডার এডুকেশন ইত্যাদি ২৫টি বিষয়ের উপর নিজেদের মতামতের পেপার তৈরি করবে ন্যাশনাল ফোকাস গ্রুপ। বিচারবিশ্লেষণ থেকে রাজ্যগুলিও স্টেট কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্কের খসড়া তৈরি করবে। এনসিএফ তৈরি হবে এই দুই-কে বিশ্লেষণের মাধ্যমে। এনসিএফ তৈরির পর তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে রাজ্যগুলির কাছে। তাদের থেকে মতামতও চেয়ে পাঠানো হবে। এবং প্রয়োজনীয় বদলের পর তা কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রককের কাছে পাঠানো হবে অনুমোদনের জন্য।

আরও পড়ুন- রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের শাসনের ৭০ বছর, ব্রিটিশের শৃঙ্খলমুক্তির কাল

অনুমোদনের পর সেইটি রাজ্যগুলির কাছে পাঠানো হবে প্রয়োগের লক্ষ্যে। এনসিএফের বদল অনেক সময় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ২০০৫ সালের এনসিএফের সুপারিশে গৌতম বুদ্ধের উপর অষ্টম শ্রেণিতে পাঠ্য একটি বই বদল করে জওহরলাল নেহরুর জিসকভারি অফ ইন্ডিয়া ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এতে হইচই বাঁধে। অভিযোগ ওঠে, কংগ্রেস নিজেদের দলীয় স্বার্থসিদ্ধি করছে এই ভাবে।

ইতিহাসের টেক্সট বুকের শেষ বলার মতো বদল ঘটেছিল ২০১৯ সালে। নবম এবং দশম ও দশম শ্রেণির ইতিহাস বইতে যে সব চ্যাপ্টার বাদ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলির মধ্যে ছিল, পরিধানের ইতিহাস, ক্রিকেটের ইতিহাস, পুঁজিবাদ এবং উপনিবেশিকতার ইতিহাস। নতুন কী হবে, এ ব্যাপারে গত বছরের অক্টোবরে কমিটির সদস্য গবিন্দ প্রসাদ শর্মা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তাঁর বক্তব্য জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, এখন শেখানো হচ্ছে আমরা এখানে হেরেছি, আমরা ওখানে হেরেছি। কিন্তু আমাদের আলোচনা করতে হবে লড়াই প্রসঙ্গে, বিদেশি শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধকে গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা এটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিইনি। বৈদিক অংকশাস্ত্র পড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন শর্মা।

Read full story in English

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Explained news download Indian Express Bengali App.

Web Title: How are history textbooks written