/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/11/indian-post-2025-12-11-13-21-22.jpg)
Indian post: ভারতীয় ডাক পরিষেবা এবার নতুন পথে।
Indian post: ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে ডাক বিভাগ যাত্রা শুরু করেছে এক নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে—এর নাম ধ্রুব (DHRUVA)। এর পূর্ণরূপ হল ডিজিটাল হাব ফর রেফারেন্স অ্যান্ড ইউনিক ভার্চুয়াল অ্যাড্রেস (Digital Hub for Reference and Unique Virtual Address)। গোটা ব্যবস্থাটি খুব সাধারণভাবে বলতে গেলে ভারতের প্রতিটি ঠিকানাকে একটি নির্ভুল, একক এবং যাচাই করা ডিজিটাল পরিচয়ে রূপান্তরিত করবে। ঠিকানা ব্যবস্থাপনায় বহু অস্থিরতা যেভাবে সাধারণ মানুষের জীবনকে জটিল করে তোলে—কখনও ঠিকমতো ডেলিভারি না হওয়া, কখনও ভুল লোকেশন দেখানো, কখনও বাড়ির বর্ণনায় অসঙ্গতি—এসব সমস্যা কমিয়ে আনতেই এই নতুন উদ্যোগ।
দীর্ঘদিন ধরে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় ঠিকানার গুরুত্ব থাকলেও এর কোনও মান নির্ধারিত পদ্ধতি ছিল না। কারও বাড়ির বর্ণনায় গলির নাম থাকে, কারও বাড়িতে থাকে পাড়ার নাম, কারও ঠিকানা পাওয়া যায় কাছের কোনও স্কুল বা দোকানের নাম ধরে। ফলে ই-কমার্স হোক, অ্যাপ-ভিত্তিক পরিষেবা হোক, কুরিয়ার হোক কিংবা সরকারি সেবা—সব ক্ষেত্রেই সঠিকভাবে ঠিকানা খুঁজে পাওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
বিরাট পরিবর্তন
ডাক বিভাগ এই সমস্যার সমাধানে তৈরি করেছে একটি ডিজিটাল 'লেবেল'—যা দেখতে অনেকটা ই-মেলের মতো। একজন ব্যবহারকারী নিজের ঠিকানাকে ডিজিটালভাবে ভেরিফাই করে একটি ইউনিক লেবেল তৈরি করতে পারবেন। এরপর কোনও পরিষেবা প্রদানকারী—যেমন অনলাইন শপ, কুরিয়ার কোম্পানি, ট্যাক্সি সার্ভিস, খাবার ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ইত্যাদি—ব্যবহারকারীর সেই লেবেলে অনুরোধ পাঠাবে। ব্যবহারকারী অনুমতি দিলে প্রতিষ্ঠানটি পেয়ে যাবে দুটি তথ্য: ১) ব্যবহারকারীর বর্ণনামূলক ঠিকানা, ২) ব্যবহারকারীর অবস্থান-নির্ভর ডিজিপিন (DIGIPIN)
আরও পড়ুন- তামিলনাড়ুর টেঙ্গুমারাহাদা গ্রাম, কেন এখানে প্রবেশের আগে অনুমতি দরকার হয়?
সরকার ইতিমধ্যে ১০-সংখ্যার ডিজিটাল পিন কোড বা ডিজিপিনের ঘোষণা করেছে। এটি ব্যবহারকারীর বাড়ির সঠিক স্থানাঙ্ক ধরে তৈরি। ফলে ভুল ঠিকানায় ডেলিভারি, ভুল বাড়িতে নোটিস পাঠানো বা ভেরিফিকেশনের ঝামেলা অনেকটাই কমে যাবে। ডিএইচআরইউভিএ কেবলমাত্র লোকেশন নির্ধারণেই কাজ করবে না। এটি সরকারি সেবা প্রদানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সরকারি নথি পৌঁছে দেওয়া, বিভিন্ন ভেরিফিকেশন কাজকর্ম, জরুরি পরিষেবা, দুর্যোগের সময় সাহায্য—এই সব ক্ষেত্রেই সঠিক, যাচাইকৃত, ডিজিটাল ঠিকানা খুব দ্রুত ও কার্যকর উপায়ে কাজ করবে।
আরও পড়ুন- ইন্ডিগো ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রী কী ক্ষতিপূরণ পাবেন? জানুন বিস্তারিত
ডাক বিভাগ চাইছে এই প্ল্যাটফর্মটি এক প্রকার 'অ্যাড্রেস অ্যাজ অ্যা সার্ভিস' (Address-as-a-Service) হয়ে উঠুক। অর্থাৎ দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে তারা এই ডিজিটাল পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবে। এতে সময় বাঁচবে, খরচ কমবে এবং ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষাও আরও মজবুত হবে। ঠিকানা কোনও উন্মুক্ত তথ্য নয়—ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া এটি কেউ পাবে না। ব্যবহারকারী নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কোন সংস্থাকে কত তথ্য দেওয়া যাবে।
আরও পড়ুন- আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস, অশান্ত বিশ্বে এবারের স্লোগান কী?
সরকারের ধারণা, এই পুরো ব্যবস্থাটি ভারতের ডিজিটাল জনপরিকাঠামোর একটি বড় স্তম্ভ হয়ে উঠবে। যেমন পরিচয় নির্ধারণে আধার বড় ভূমিকা রেখেছে, আর্থিক লেনদেনে বদল এনেছে ইউপিআই—তেমনই ঠিকানা ব্যবস্থাপনার বিপ্লব ঘটাতে পারে ডিএইচআরইউভিএ।
আরও পড়ুন- ভারতে সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া সেরা ১০ এআই ওয়েবসাইট, আপনিও কি এর কোনওটা ব্যবহার করেন?
এই নতুন উদ্যোগের পাশাপাশি ডাক বিভাগ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পরিকাঠামোগত পরিবর্তনও আনছে। এর মধ্যে অন্যতম হল নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিতে পোস্ট অফিসকে আরও আধুনিক, সহজ, আরামদায়ক এবং সাংস্কৃতিক রঙে সাজানো। সম্প্রতি কেরলের কোট্টায়ামে একটি কলেজের ভিতরে নতুন ধরনের পোস্ট অফিস তৈরি হয়েছে যা সম্পূর্ণভাবে তরুণ প্রজন্মের ভাবনায় তৈরি। খোলা জায়গা, সামান্য আলো, কাঠের ডিজাইন, আর্টওয়ার্ক—সব মিলিয়ে এটি কোনও সাধারণ দফতর
নয়, বরং মনে হয় যেন কোনও ক্যাফে বা সৃজনশীল কর্মশালা।
When Gen Z design their own @IndiaPostOffice in the ‘City of Letters’, this is how it turns out…refreshing, creative & rooted in tradition.
— Jyotiraditya M. Scindia (@JM_Scindia) December 8, 2025
The Gen Z extension counter in Kerala’s CMS College, Kottayam brings together creativity, sustainability & modern service delivery in a… pic.twitter.com/WYMwuMyFZz
এই পোস্ট অফিসে বসার জায়গা, রঙিন প্রাচীরচিত্র, মুরাল, স্থানীয় সংস্কৃতির উপস্থিতি এবং আধুনিক পরিষেবার সন্নিবেশ—সব মিলিয়ে এটি প্রমাণ করেছে যে ভারতের ডাক পরিষেবা সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের বদলে নিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ধরনের পরিকাঠামো উন্নয়ন ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পাবে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us