/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/09/indigo-airlines-flight-cancellations-2025-12-09-21-36-08.jpg)
Indigo airlines flight cancellations: ইন্ডিগোর ফ্লাইট বাতিলের জেরে সমস্যায় পড়েছেন অসংখ্য যাত্রী।
Indigo airlines flight cancellations: ভারতের বিমানযাত্রীদের অধিকার নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আবারও উঠে এসেছে ইন্ডিগো (IndiGo)-র সাম্প্রতিক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা। হঠাৎ করে পরপর বহু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকেছেন। অনেকেই জানিয়েছেন যে তাঁরা সময়মতো কোনও তথ্য পাননি, ফলে তাঁদের ভ্রমণ পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভেস্তে গেছে। এর ফলে প্রশ্ন উঠছে—ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীদের অধিকার কী, কোন পরিস্থিতিতে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় এবং এয়ারলাইনস কতটা দায় বহন করতে বাধ্য।
ভারতের বিমানযাত্রীদের অধিকার নির্ধারিত হয় ডিজিসিএ (DGCA)-এর সিভিল অ্যাভিয়েশন রিকোয়ারমেন্টস (Civil Aviation Requirements) বা কার (CAR) দ্বারা। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য সেকশন ৩ (Section 3), সিরিজ এম (Series M), পার্ট ৪ (Part IV)। যেখানে বলা আছে, যাত্রীদের বোর্ডিং অস্বীকার, ফ্লাইট বাতিল বা ফ্লাইট দেরি হলে এয়ারলাইন কোন সুবিধা দিতে বাধ্য। নিয়মগুলো সর্বশেষ সংশোধিত হয়েছে জানুয়ারি ২০২৩-এ। এখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে—ফ্লাইট বাতিলের তথ্য যাত্রীকে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে জানাতে হবে। যদি এয়ারলাইন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জানাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যাত্রী ক্ষতিপূরণ পেতে বাধ্য এবং সেই সঙ্গে সম্পূর্ণ রিফান্ড বা বিকল্প ফ্লাইট দিতে হবে।
আরও পড়ুন- বুধবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস, অশান্ত বিশ্বে এবারের স্লোগান কী?
ফ্লাইট বাতিলের তথ্য সময়মতো না দিলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ভর করে ব্লক টাইমের ওপর। একঘণ্টা পর্যন্ত ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ পাঁচ হাজার টাকা, এক থেকে দুই ঘণ্টার ক্ষেত্রে সাড়ে সাত হাজার টাকা, আর দুই ঘণ্টার বেশি সময়ের ফ্লাইট হলে ক্ষতিপূরণ দশ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত। তবে যাত্রীর টিকিটের মূল ভাড়া এবং ফুয়েল সারচার্জ যদি এর চেয়ে কম হয়, সে ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ওই কম মূল্যের সমান হবে। এছাড়া যাত্রী যদি বিকল্প ফ্লাইটের জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করেন, তাহলে এয়ারলাইনসকে খাবার, রিফ্রেশমেন্ট এবং প্রয়োজনে হোটেল-আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
আরও পড়ুন- ভারতে সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া সেরা ১০ এআই ওয়েবসাইট, আপনিও কি এর কোনওটা ব্যবহার করেন?
তবে এয়ারলাইনস অনেক সময় ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় ফোর্স ম্যাজিওর (force majeure) বা অপ্রতিরোধ্য বাহ্যিক কারণ দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকার করে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ পরিস্থিতি, বিস্ফোরণ, সরকারি বিধিনিষেধ, এটিসি (ATC) সমস্যা, আবহাওয়ার কারণে অপারেশনাল বাধা—এসব বিষয় ক্ষতিপূরণ–মুক্ত কারণে পড়ে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতেও এয়ারলাইনসকে প্রমাণ করতে হয় যে, তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্ত যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত একেবারেই অনিবার্য ছিল।
আরও পড়ুন- ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জল খেয়ে সর্দি লেগেছে! শুনে হেসে ওড়ালেন চিকিৎসক, কিন্তু কেন?
শুধু নিয়মেই সীমাবদ্ধ নয়, বাস্তবে যাত্রীরা অনেক সময় ন্যায়বিচারের জন্য ভরসা করেন ভোক্তা আদালতের উপর। কনজিউমার প্রোটেকশন অ্যাক্ট, ২০১৯ (Consumer Protection Act, 2019) অনুযায়ী, যাত্রী যদি মনে করেন যে এয়ারলাইনস পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বা ভুল তথ্য দিয়ে ক্ষতি করেছে, তাহলে তিনি ডেফিসিয়েন্সি ইন সার্ভিস (deficiency in service) অভিযোগে ভোক্তা আদালতে মামলা করতে পারেন এবং অতীতে এমন বহু মামলায় আদালত যাত্রীদের পক্ষে রায় দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিস্ট্রিক্ট কনজিউমার ডিসপুর রিড্রেসাল কমিশনস (District Consumer Disputes Redressal Commissions) এবং ন্যাশনাল কনজিউমার ডিসপুটস রিড্রেসাল কমিশন (National Consumer Disputes Redressal Commission)—উভয়েই এয়ারলাইনসগুলোর বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে।
আরও পড়ুন- দুপুর ১টা–৩টার সময় শরীর কেন সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, জানাল বিশেষজ্ঞরা
২০২৩ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় এনসিডিআরসি এয়ার ইন্ডিয়া (NCDRC Air India)-কে চার যাত্রীর কাছে দুই লক্ষ টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। কারণ দীর্ঘ ফ্লাইট দেরি এবং পর্যাপ্ত খাবারের অভাব যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছিল। আদালত স্পষ্ট জানায়—টেকনিক্যাল রিজনস (technical reasons) বা অপারেশনাল ইস্যুস (operational issues) বলে দায় এড়ানো যাবে না। এসব কারণ প্রমাণ-সহ তুলে ধরতে হবে। একই যুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে ইন্ডিগো (IndiGo)-র বিরুদ্ধেও। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেরলের এরনাকুলাম ডিসিডিআরসি ইন্ডিগো (DCDRC IndiGo)-কে এক যাত্রীকে ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেয়। কারণ যাত্রীকে সময়মতো জানানো হয়নি এবং হঠাৎ সংযোগ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় মানসিক যন্ত্রণা তৈরি হয়েছিল।
কিছু ক্ষেত্রে আদালত এয়ারলাইনদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার জন্যও কড়া ভাষায় তিরস্কার করেছে। ২০২৪ সালে হায়দরাবাদের রঙ্গারেড্ডি ডিসিডিআরসি ইন্ডিগো (Rangareddy DCDRC IndiGo)-কে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। কারণ, যাত্রীদের হাতে বোর্ডিং পাস থাকা সত্ত্বেও মাত্র তিন ঘণ্টা আগে ফ্লাইট বাতিলের ইমেল পাঠানো হয়েছিল এবং পরে এয়ারলাইন দাবি করে যে যাত্রীরাই নাকি স্বেচ্ছায় বুকিং বাতিল করেছেন। আদালত এই দাবি হিউমিলিয়েশন (humiliation) এবং এক্সট্রিম নেগলিজেন্স (extreme negligence) বলে আখ্যা দেয়।
বৃহৎ সংখ্যক যাত্রী আক্রান্ত হলে আইন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কনজিউমার প্রোটেকশন অ্যাক্ট (Consumer Protection Act)-এর সেকশন ৩৫ (১) (Section 35(1)(c) অনুযায়ী, একই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত বহু যাত্রী একত্রে একটি রিপ্রেজেন্টেটিভ কমপ্লেন (representative complain) দাখিল করতে পারেন। ইন্ডিগো (IndiGo)-র সাম্প্রতিক গণহারে ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় হাজারো যাত্রী একই সমস্যায় পড়েছেন—যেমন রিফান্ড না পাওয়া, ক্ষতিপূরণ বঞ্চিত হওয়া বা সময়মতো তথ্য না দেওয়া। চাইলে ভোক্তারা একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলা করে যৌথ ক্ষতিপূরণের দাবি তুলতে পারেন, যা এয়ারলাইনগুলোর ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করতে পারে।
যাত্রীরা অসহায় নন
সব মিলিয়ে স্পষ্ট—ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রী অসহায় নন। ডিজিসিএ (DGCA) নিয়ম, ভোক্তা আদালতের রায় এবং আইনি প্রতিকার—সব মিলিয়ে যাত্রীদের জন্য উপযুক্ত সুরক্ষা রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সঠিক তথ্য জানা এবং প্রয়োজনে আইনের সাহায্য নেওয়া। এয়ারলাইন যদি যুক্তিযুক্ত কারণ ছাড়া দায় এড়ানোর চেষ্টা করে, আদালত যাত্রীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে—এটাই সাম্প্রতিক বিভিন্ন রায়ের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us