scorecardresearch

বড় খবর

Explained: আন্তর্জাতিক বিচার চাইছে ইউক্রেন, জানেন কি এমন বিচারের সওয়াল-জবাব কথায় চলে?

আদালতের এক তৃতীয়াংশ প্রতি তিন বছর পর নির্বাচিত হন।

Explained: আন্তর্জাতিক বিচার চাইছে ইউক্রেন, জানেন কি এমন বিচারের সওয়াল-জবাব কথায় চলে?

রাশিয়ার বিরুদ্ধে অন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের দরজা খটখটিয়েছে ইউক্রেন। তাদের অভিযোগ, রাশিয়া গণহত্যাকারী। যা রাষ্ট্রপুঞ্জের ১৯৪৮ সালের কনভেনশনের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, তাদের বক্তব্য, লুহানস্ক এবং দোনেৎস্কে ইউক্রেন গণহত্যা চালিয়েছে বলে যে রাশিয়া বলে যাচ্ছে, তা ডাহা মিথ্যেকথা। প্রিভেনশন অ্যান্ড পানিশমেন্ট অফ দ্য ক্রাইম অফ জেনোসাইড বা গণহত্যা প্রতিরোধ এবং শাস্তির জন্য কনভেনশন বা ছোট করে বলা হয়– জেনোসাইড কনভেনশন। এটি হল গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রথম আন্তর্জাতিক আইনি অস্ত্র। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণসভায় যা গৃহীত হয় ১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বরে। তার পর ১৯৫১ সালের ১২ জানুয়ারি সেইটি আইনের সিলমোহর পায়। আপাতত, এই প্রসঙ্গে আমরা একটু চোখ বুলিয়ে নেব আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের অলিগলিতে।

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত

ইন্টারন্যাশনাল ল অফ জাস্টিস বা আইসিজে। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত। রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রধান বিচারবিভাগীয় অঙ্গ। ১৯৪৫ সালের জুনে এটির প্রতিষ্ঠা। কাজ শুরু করে ১৯৪৬-এর এপ্রিলে। আগেও এমন একটি ছিল, তার নাম– পিসিআইজে, পুরো কথা– পার্মান্যান্ট কোর্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল জাস্টিস। আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালত এরই উত্তরসূরি। পিসিআইজে ইউনাইটেড নেশনসের পূর্বসূরি লিগ অফ নেশনস গঠন করেছিল, ১৯২২ সালে। নেদারল্যান্ডসের হেগে পিস প্যালেসে এই আদালত কাজ করত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর লিগ অফ নেশনসের নাম বদল হয়ে হল ইউনাইটেড নেশনস, পিসিআইজে-রও নাম বদলাল। পুরনোটি আনুষ্ঠানিক ভাবে ১৯৪৬ সালে বিলুপ্ত হয়ে গেল। যার শেষ সভাপতি, বিচারক হোসে গুস্তাভো গুয়েরেরো, এল সালভাদোরের বাসিন্দা। তিনিই আইসিজে-র প্রথম সভাপতি হয়েছিলেন।

প্রথম মামলাটি কী ছিল?

ব্রিটেন ছিল মামলাকারী। আলবেনিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল। মামলা দায়ের হয় ১৯৪৭ সালের মে মাসে। হ্যাঁ, এর অফিসটিও পূর্বসূরির অফিসবাড়িতে, মানে হেগের পিস প্যালেসে। রাষ্ট্রপুঞ্জের ছটি প্রধান অঙ্গের মধ্যে এটিই একমাত্র, যা নিউইয়র্ক সিটিতে নয়। অন্য পাঁচটি হল– সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, অছি পরিষদ এবং সচিবালয়।

আদালতের বিচারপতিরা
আইসিজে-র বিচারপতির সংখ্যা ১৫। যাঁরা রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ এবং নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। মেয়াদ নয় বছর। নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওই দুই পরিষদের ভোট হয় একই সময়ে, কিন্তু আলাদা ভাবে। নির্বাচিত হওয়ার জন্য একজন প্রার্থীকে রাষ্ট্রপুঞ্জের দুই পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেতে হয়। ফলে একাধিক রাউন্ডের ভোট গণনার প্রয়োজন হয়। রাষ্ট্রপুঞ্জের হেডকোয়ার্টারে তাদের বার্ষিক সাধারণসভায় ভোটগ্রহণ হয়। আদালতের এক তৃতীয়াংশ প্রতি তিন বছর পর নির্বাচিত হন। ত্রিবার্ষিক নির্বাচন পদ্ধতি এর ফলে, বিচারপতিরা যে বছর নির্বাচিত হলেন, ঠিক তার পরের বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তাঁদের কার্যকাল শুরু হয়।

ভারতের কারা

এখন পর্যন্ত চার জন ভারতীয় আইসিজে-র সদস্য হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি দলভির ভাণ্ডারী ২০১২ থেকে আইসিজে-তে রয়েছেন। এর আগে, ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি আর এস পাঠক আইসিজে-তে ছিলেন । প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নগেন্দ্র সিং ছিলেন ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত। তিনি সহ-সভাপতি এবং সভাপতিও হয়েছিলেন। তাঁর আগে, আমাদের কন্সিটিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলির উপদেষ্টা স্যর বেনেগাল রাউ ছিলেন আইসিজে-র সদস্য।

Read story in English

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Explained news download Indian Express Bengali App.

Web Title: International court of justice russia ukraine