/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/18/japanese-mega-bank-2025-12-18-16-03-00.jpg)
Japanese Mega Bank: জাপানি মেগা ব্যাঙ্ক।
Japanese Mega Banks India Focus: সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের ব্যাঙ্কিং ও আর্থিক ক্ষেত্রে জাপানের মেগা ব্যাঙ্কগুলির আগ্রহ খুবই বেড়েছে। মিজুহো ফিনান্সিয়াল গ্রুপের অ্যাভেন্ডাস অধিগ্রহণ সেই প্রবণতারই সাম্প্রতিক উদাহরণ। প্রায় ৫২৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এই চুক্তি শুধুমাত্র একটি একক বিনিয়োগ নয়, বরং জাপানি ব্যাঙ্কগুলির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন। জাপানের অভ্যন্তরীণ বাজারে বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত হয়ে আসায় তারা এখন উচ্চ বৃদ্ধিসম্পন্ন দেশের দিকে নজর দিচ্ছে, আর সেই তালিকায় ভারতের স্থান শীর্ষে।
জাপানের অর্থনীতি
জাপানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই কম সুদের হার ও প্রবীণ জনসংখ্যার সমস্যায় জর্জরিত। কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় ঋণের চাহিদা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাঙ্কিং ব্যবসা সেখানে খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতি জাপানি ব্যাঙ্কগুলির কাছে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা ঋণ বাজার, মধ্যবিত্তের ক্রমবর্ধমান ভোগব্যয় এবং তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল নিয়ন্ত্রক কাঠামো ভারতের আর্থিক ক্ষেত্রকে বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
আরও পড়ুন- সায়েন্স সিটিতে বাণিজ্য মেলা, দেশ-বিদেশের পণ্যে জমজমাট কেনাকাটা!
২০২৫ সাল জাপানি ব্যাঙ্কগুলির ভারতমুখী কৌশলের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই বছরেই একের পর এক বড় ও মাঝারি চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হল সুমিতোমো মিতসুই ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশনের ইয়েস ব্যাঙ্কে বিনিয়োগ। প্রায় ১৩,৪৮৩ কোটি টাকার এই চুক্তি ভারতের ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সীমান্তপারের বিনিয়োগগুলির একটি। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে এসএমবিসি ভারতের কর্পোরেট ও খুচরো ব্যাঙ্কিং—দুই ক্ষেত্রেই নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।
আরও পড়ুন- সর্বোচ্চ IQ-র দেশগুলির তালিকায় চমক, এশিয়ার দাপটই কি ভবিষ্যতের ইঙ্গিত?
শুধু ব্যাঙ্কিং নয়, জাপানি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির আগ্রহ এখন নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্স কোম্পানির দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে। মিতসুবিশি ইউএফজে ফিনান্সিয়াল গ্রুপের মতো সংস্থা ভারতের বৃহৎ এনবিএফসি-তে বিনিয়োগের আলোচনা চালাচ্ছে। এই সংস্থাগুলি সরাসরি ব্যাঙ্ক না হলেও খুচরো ঋণ, গাড়ি ঋণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
আরও পড়ুন- এইডস কেন হয়? এই ৬ ভুল ধারণাই ডাকে ভয়ংকর বিপর্যয়!
মিজুহোর সাম্প্রতিক বিনিয়োগ ভারতের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কিং ও পরামর্শ পরিষেবা ক্ষেত্রেও জাপানি উপস্থিতি বাড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই ভারতের একাধিক বড় শহরে এই ব্যাঙ্কের শাখা রয়েছে এবং মূলত কর্পোরেট ব্যাঙ্কিং ও ট্রেজারি পরিষেবায় তারা সক্রিয়। আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র গিফট সিটিতেও তাদের কাজকর্ম রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তারের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
আরও পড়ুন- শীতের সকালে এক্সারসাইজ? পড়তে পারেন বিপদে, জানুন স্মার্ট হ্যাকস
জাপানি ব্যাঙ্কগুলির এই আগ্রহের নেপথ্যে রয়েছে ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্য থাকবে। কৃষি খাতের ভালো সম্ভাবনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং সংস্থাগুলির আর্থিক অবস্থার উন্নতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করছে। জাপানের মতো উন্নত কিন্তু স্থবির অর্থনীতির দেশের কাছে ভারত হয়ে উঠছে বৃদ্ধির নতুন ইঞ্জিন।
ভারতের জন্য এই বিনিয়োগের অর্থ শুধু মূলধন প্রবাহ নয়। এর সঙ্গে আসছে আন্তর্জাতিক মানের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আধুনিক ব্যাঙ্কিং পদ্ধতি এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি। দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির দক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতেও এই অংশীদারিত্ব সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে, জাপানি ব্যাঙ্কগুলির জন্য এটি এমন এক বাজার, যেখানে ভবিষ্যতে বিপুল ব্যবসায়িক সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই বিনিয়োগগুলির কাঠামো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সংখ্যালঘু অংশীদারিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি ব্যাঙ্কগুলির অংশীদারিত্ব নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হয়। ফলে সরাসরি দখল নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই জাপানি ব্যাঙ্কগুলি ভারতের বাজারে নিজেদের জায়গা শক্ত করছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জাপানের মেগা ব্যাঙ্কগুলির ভারতের দিকে ঝোঁক কোনও সাময়িক প্রবণতা নয়। এটি এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, যেখানে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও আর্থিক খাতের বিস্তারের সঙ্গে নিজেদের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে দেখছে জাপানের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us