ঝাড়খণ্ডে সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে যে তিনটি আঞ্চলিক দল

বুথ ফেরত সমীক্ষার পূর্বাভাসকে সত্যি করেই রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)। ছ'ঘন্টার গণনা শেষে বিরোধী জোট এগিয়ে রয়েছে ৪৭টি ভোটে , বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ২৩টি ভোটে।

By:
Edited By: Pallabi Dey New Delhi  Updated: December 24, 2019, 08:24:41 AM

ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল যত এগোচ্ছে, ততই শক্তিশালী হচ্ছে জেএমএম-কংগ্রেস-আরজেডি জোট। বুথ ফেরত সমীক্ষার পূর্বাভাসকে সত্যি করেই রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)। ছ’ঘন্টার গণনা শেষে বিরোধী জোট এগিয়ে রয়েছে ৪৭টি ভোটে , বিজেপি এগিয়ে রয়েছে ২৩টি ভোটে। ঝাড়খণ্ডের বিধানসভায় মোট আসন ৮১টি। আর সরকার গড়তে প্রয়োজন ৪১। সংখ্যার নিরিখে স্পষ্ট পালাবদলের ইঙ্গিত।

প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা নির্বাচনে একাই লড়েছিল বিজেপি। অন্যদিকে বিজেপির বিরুদ্ধে জোট গঠন করে লড়াই চালিয়েছিল কংগ্রেস এবং দুই আঞ্চলিক দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)। নির্বাচনের ময়দানে লড়াই চালানো অন্য দুটি দল হল অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন পার্টি (এজেএসইউ), যারা ‘বিজেপির মিত্র’ হলেও এই নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অপর স্বতন্ত্র লড়াই চালানো দল হল ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চা-প্রজাতন্ত্রিক (জেভিএম-পি)।

এক নজরে সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে যে তিনটি আঞ্চলিক দল

ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)

রাজ্যের সবচেয়ে পুরোন দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম)। দলের প্রধান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। কংগ্রেস এবং আরজেডির সাথে জোটবদ্ধভাবে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তারা। জেএমএম ৪৩ টি আসনে লড়াই করেছে, কংগ্রেস এবং আরজেডি যথাক্রমে ৩১ এবং ৭টি আসনে লড়াই করেছে। খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ পূর্ব বিহার অঞ্চলের উপজাতির সম্প্রদায়ের জন্য এবং ঝাড়খণ্ডকে একটি পৃথক রাজ্যের করার দীর্ঘ লড়াইকে হাতিয়ার করে ১৯৭৩ সালে এই দলটি তৈরি হয়। লালু প্রসাদ যাদবের আরজেডি-র প্রতিরোধ সত্ত্বেও, ২০০০ সালে বিহার থেকে পৃথক ঝাড়খণ্ড রাজ্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল জেএমএম। তখন থেকেই রাজ্যে ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ জোট (ইউপিএ) আকারে বেড়ে ওঠে এই দল। ২০০৫ সালের ঝাড়খণ্ডের নির্বাচনে, দলটি ৮১ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৭টি পেয়েছিল। বিনোদ বিহারী মাহাতোকে সঙ্গে নিয়ে দল গঠন করেছিলেন শিবু সোরেন। যিনি পরবর্তীতে রাজ্যের দু’বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীও হয়েছিলেন। তবে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে জোটবদ্ধ হলেও, পরবর্তীতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএর প্রতি আনুগত্য প্রমাণ করেছে জেএমএম। ফলাফল যে ইঙ্গিত দিচ্ছে সেক্ষেত্রে আবারও হেমন্ত সোরেনকে মুখ্যমন্ত্রীপদ দেখতে পারে ঝাড়খণ্ডবাসী।

ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চা (প্রজাতান্ত্রিক)

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রাক্তন সিএম বাবুলাল মারান্ডির নেতৃত্বে ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চা প্রজাতান্ত্রিক (জেভিএম-পি) ২০১৪ সালের রাজ্য নির্বাচনে আটটি আসন পেয়েছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে ছ’জন বিধায়ক বাবুলালের ছত্রছায়া থেকে বেড়িয়ে পদ্ম শিবিরে আশ্রয় নেন। তবে, এর ছয় বিধায়ক ছয়জন বিধায়ক বিজেপিকে ত্রুটিযুক্ত করেছিলেন। বিধায়ক কেনাবেচার অভিযোগে বিধানসভার স্পিকার দীনেশ ওরাওঁকে চিঠি দিয়ে দেন বাবুলাল মারান্ডি। উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে পদ্ম শিবির ত্যাগ করে নিজেই জেভিএম-এর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাবুলাল। তবে এই নির্বাচনে যে তাঁর দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে তা বলাই বাহুল্য।

অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন পার্টি (এজেএসইউ)

রাজ্যের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুদেশ মাহাতোর নেতৃত্বাধীন বিজেপি এবং অল ঝাড়খণ্ড ছাত্রদের ইউনিয়ন (এজেএসইউ) দল ২০১৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঝাড়খণ্ডে যথাক্রমে ৩৭ এবং ৫ টি আসন জিতে সরকার গঠন করেছিল। তবে আসন ভাগাভাগির লড়াইয়ে নির্বাচনের আগেই বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয় এজেএসইউ। নভেম্বরে দিল্লিতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তাঁর দাবি উত্থাপন করেছিলেন মাহাতো। তবে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেননি। চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের পরে, এজেএসইউ এবং বিজেপি ১৯টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট ২৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রার্থী দিয়েছে তারা।

Read the full story in English

Get all the Latest Bengali News and West Bengal News at Indian Express Bangla. You can also catch all the Explained News in Bangla by following us on Twitter and Facebook

Web Title:

Know the regional parties that can play a key role in govt formation

The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com.
Advertisement

ট্রেন্ডিং
বেসুর শুভেন্দু
X