Why are Muslim vendors being banned from Karnataka temple fairs?: মুসলমান বিক্রেতাদের মেলায় মানা, চলছে প্রচার, কোন রাজ্যে এমন নিষেধ এবং কেন? | Indian Express Bangla

Explained: মুসলমান বিক্রেতাদের মেলায় মানা, চলছে প্রচার, কোন রাজ্যে এমন নিষেধ এবং কেন?

কর্নাটকের বিজেপি সরকার অবশ্য আইনের কথা বলছে। তারা বলছে, আইন অনুযায়ীই মুসলিম বিক্রেতারা মন্দিরাঞ্চলের মেলায় দোকান দিতে পারবেন না।

Explained: মুসলমান বিক্রেতাদের মেলায় মানা, চলছে প্রচার, কোন রাজ্যে এমন নিষেধ এবং কেন?

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল এবং শ্রীরাম সেনার মতো দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলি মন্দির-নির্ভর গ্রামীণ মেলায় মুসলমান বিক্রেতাদের পসরা সাজানো যাবে না বলেছে। কর্নাটকের বিভিন্ন এলাকায়, যেমন দক্ষিণ কন্নড়, উদুপি এবং শিবামোগায় গত পনেরো দিন ধরে জারিও হয়েছে এমন প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ। যা তীব্র বিতর্ক তৈরি করেছে। সামাজিক সম্প্রীতির বাতাবরণে এই নিষেধ জমিয়ে তুলেছে আশঙ্কার মেঘ। তা ছাড়া, এই ভাবে একটি রাজ্যে কোনও সম্প্রদায়কে মেলার মতো ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে প্রবেশ নিষেধ করে দিলে, তার প্রভাব তো অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পড়বে, যা রাজ্যটিকেও টেনে নামাবে, এমনও সমালোচনা চলছে।

কর্নাটকের বিজেপি সরকার অবশ্য আইনের কথা বলছে। তারা বলছে, আইন অনুযায়ীই মুসলিম বিক্রেতারা মন্দিরাঞ্চলের মেলায় দোকান দিতে পারবেন না। আইনটি হল, কর্নাটক হিন্দু রিলিজিয়াস প্রেমিসেস ইনস্টিটিউশনস অ্যান্ড চ্যারিটেবল এনডাওমেন্ট অ্যাক্ট। বাংলা করলে যা দাঁড়ায়, কর্নাটক হিন্দু ধর্মীয় এলাকায় প্রতিষ্ঠান এবং দাতব্য অধিকার আইন। সরকারের বক্তব্য, এই আইন বলছে অ-হিন্দুদের মন্দির-এলাকায় দোকানপত্তর করতে নেওয়া যাবে না। মন্দিরকে কেন্দ্র করে যে সব মেলা হয়, যে উৎসবগুলি হয়, ধর্মাধর্মের ভেদাভেদ সেখানে থাকে না অনেক সময়তেই। সর্বধর্ম-বোধ সেখানে প্রধান হয়ে ওঠে, বা ধর্মের ঊর্ধ্বে স্থানীয় সংস্কৃতি ও চেতনা উর্বরতা পায়। যার উলটো হাওয়া এখন উঠেছে কর্নাটকে।

কর্নাটকের বার্ষিক স্থানীয় মেলাগুলি কেমন?

কর্নাটকে বেশির ভাগ গ্রামীণ এলাকাতেই বার্ষিক স্থানীয় মেলাগুলি মন্দিরকে কেন্দ্র করে, কিংবা দরগাহের কাছে হয় যাকে বলে উরুস, মেলা হয় গির্জাকে ঘিরেও। সেখানে স্থানীয় সংস্কৃতিই প্রাণভোমরা। লোককথা ও কাহিনীগুলি ছাপ বয়ে বেড়ায় মেলাগুলি। ইতিহাসবেত্তাদের মতে, ধর্মীয় প্রাচীন নানা আলেখ্যে গ্রামীণ মেলাগুলির প্রসঙ্গ এসেছে। অনেক সময় অনুপুঙ্খ ভাবেও এসেছে। অধ্যাপক এন এস রঙ্গরাজু বলছেন, এই সব মেলা কোনও একটি অঞ্চলের সাংস্কৃতিক পরিচয়। এন এস রঙ্গরাজু মাইসোর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন প্রধান। তার কথায়, ‘এর সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই। কোনও একটি অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতি এবং কৃষিকাজের সঙ্গে এর যোগ।’

তবে মন্দিরকে কেন্দ্র করে দু’ধরনের মেলা হয়ে থাকে। যেখানে ধর্মীয় নিয়মের কিছু থাকে না, তা সাধারণ ভাবে নিম্নবর্ণের মানুষজনের মাধ্যমে হয়। আরেক ধরনের মেলা হয়, যেখানে ধর্মের নিয়মকানুন মানা হয়, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আয়োজন করে থাকে উচ্চবর্ণ-সমাজ।

কখন মন্দির নির্ভর মেলাগুলি হয়?
কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা। নভেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে এই মেলাগুলি সাধারণত হয়। গবেষকদের কথা অনুযায়ী, এক দফা ফসল তোলা হয়েছে, আরেক দফা ফসল বোনার আগে, মধ্যবর্তী সময়ে, যখন কৃষকদের ছুটিবেলা, তখন এই সব মেলার মরশুম। অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এম চন্দ্র পূজারী, যিনি হাম্পি কন্নড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতেন, বললেন, ‘… শহুরে মানুষ মলে গিয়ে কিংবা বিনোদনপার্কে গিয়ে আনন্দ খোঁজেন। কিন্তু প্রাচীন যুগে গ্রামীণ মানুষের কাছে মেলাগুলিই ছিল বিনোদন-ক্ষেত্র।’

কেন মেলাগুলি সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠল?

আগেই বলেছিলাম আইনের কথা। কর্নাটক হিন্দু ধর্মীয় এলাকায় প্রতিষ্ঠান এবং দাতব্য অধিকার আইন, ২০০২। যেখানে বলা রয়েছে, ‘জমি সহ কোনও সম্পত্তি, বাড়ি বা কোনও অঞ্চল, যা (মন্দিরের) কাছে, সেই এলাকা একমাত্র হিন্দুদের লিজ দেওয়া যাবে।’ অনেকেই এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনার কথা বলছেন। যা এই সেদিনের। ঘটেছিল ২০২১ সালের অক্টোবরে। কর্নাটকের উদুপি জেলার কুন্দাপাড়া অঞ্চলের গাঙ্গোলিতে গরু চুরি এবং বেআইনি ভাবে গরু কাটার অভিযোগে মিছিল করেছিলেন গ্রামের কিছু মহিলা এবং মাছ ব্যবসায়ী। তাতে মুসলমানরা গাঙ্গোলি বাজারের হিন্দু মাছ বিক্রেতাদের কাছ থেকে মাছ কেনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এতে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল বিজেপি।

বর্তমানে মেলাগুলির হাল কী?

মেলা বছরে একবার হয়। যা হচ্ছে এবার দু’বছর পর। কারণ, এই দু’বছর মহামারির ছোবলে মেলা হয়নি। ফলে এবার বিরাট ভিড় হচ্ছে। মুসলমান দোকানিদের বিরুদ্ধে বয়কটের ডাক দিয়ে প্রচার চলছে রাজ্যের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায়। কারণ, এই উপকূল অঞ্চলেই বেশির ভাগ মেলা হয়ে থাকে। অবশ্য কর্নাটকের অন্যান্য অঞ্চলও এই প্রচার থেকে বাদ পড়ছে না এখন। দক্ষিণপন্থী দলগুলির এই দাবি অনেক মন্দির কমিটি মেনে নিলেও, অনেক ক্ষেত্রে তা আবার নাকচও হয়ে গিয়েছে। যেমন নেলামঙ্গলায় হয়েছে। বেঙ্গালুরু থেকে কিছু দূরে এই মন্দিরের কমিটি মুসলমান দোকানিদের মেলা-প্রবেশের অধিকার কেড়ে নেয়নি। বলা যেতে পারে, উপকূল অঞ্চলে যেখানে দক্ষিণপন্থী দলগুলির পক্ষে স্থানীয়দের বড় অংশ রয়েছেন, সেখানে মন্দির কমিটি মুসলমানদের মেলায় প্রবেশে ছাড়পত্র দেয়নি।

রাজনৈতিক টানাপোড়েন

কর্নাটকের বিজেপি সরকার বলছে, ২০০২ সালের কংগ্রেসের এসএম কৃষ্ণের সরকারের তৈরি করা আইনই তারা রূপায়ণ করছে। যদিও বিজেপির মধ্য থেকেই এর প্রতিবাদ শোনা যাচ্ছে। দু’জন বিজেপির বিধায়ক এর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। বিজেপি বিধায়ক এইচ বিশ্বনাথ বলেছেন, ‘এটা পাগলামি। কোনও ঈশ্বর বা ধর্ম এমন কথা বলে না।’ জেডিএস নেতা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বাসবরাজ বোম্মাই হিন্দু দক্ষিণপন্থী দলগুলির হাতের পুতুল।’

Read story in English

Stay updated with the latest news headlines and all the latest Explained news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Muslim vendors being banned from karnataka temple fairs

Next Story
Explained: কেন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পেট্রোল-ডিজেল লিটারপ্রতি ৯.২ টাকা বাড়তে পারে?