/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/10/tamil-nadu-island-village-mystery-2025-12-10-09-55-16.jpg)
Tamil Nadu Island Village Mystery: তামিলনাড়ুর এই গ্রামকে যেন ঘিরে রয়েছে নানা রহস্য!
Tamil Nadu Island Village Mystery: তামিলনাড়ুর নীলগিরি জেলার পাহাড়ি উপত্যকায় লুকিয়ে আছে এক বিস্ময়কর গ্রাম—টেঙ্গুমারাহাদা। বহিরাগতদের জন্য প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ায় একে অনেকেই ‘তামিলনাড়ুর একমাত্র দ্বীপ’ বলে উল্লেখ করেন। প্রশাসনিকভাবে এটি নীলগিরি জেলার কোটাগিরি তালুকে অবস্থিত, কিন্তু মায়ার উপত্যকার গভীরে অবস্থানের কারণে এটি যেন মূল ভূমি থেকে আলাদা একটি দ্বীপের মতই বিচ্ছিন্ন। এই গ্রামের সৌন্দর্য, কৃষি-সমৃদ্ধি, প্রকৃতি এবং অনুন্নত রাস্তাঘাট—সব মিলিয়ে টেঙ্গুমারাহাদা আজও রহস্য ও বাস্তব সমস্যার মিশ্রণে ঘেরা।
এই অঞ্চলে পৌঁছানো যে সহজ নয়, তা প্রথমেই বোঝা যায় এখানকার পরিবহণের দিকে তাকালে। কোটাগিরি ও মেট্টুপালায়ম থেকে প্রতিদিন মাত্র দুটি সরকারি বাস সকালে এবং সন্ধ্যায় যাতায়াত করে। অন্য কোনও পরিবহণ সুবিধা না থাকায় গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই সমাজসেবা, বাজার, চিকিৎসা ও জরুরি কাজে যেতে চরম সমস্যার মুখে পড়েন। পাহাড়ি বনের ভিতর দিয়ে কোদানাদ থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার ট্রেকিং পথেই মূলত টেঙ্গুমারাহাদায় পৌঁছানো যায়। রাস্তাঘাটের এমন অভাবই এই গ্রামকে বহিরাগতদের কাছেও প্রায় ‘অগম্য দ্বীপ’-এ পরিণত করেছে।
আরও পড়ুন- ইন্ডিগো ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রী কী ক্ষতিপূরণ পাবেন? জানুন বিস্তারিত
টেঙ্গুমারাহাদা মূলত কৃষিকাজের উপরই দাঁড়িয়ে থাকা একটি গ্রাম। কিলকোটাগিরি এবং সোলুর স্তরের ১৪২ জন কৃষককে এখানে প্রায় ৫০০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছিল। প্রত্যেকেই পান দু’একর নানজু (সেচযোগ্য) ও এক একর পুঞ্চাই (বর্ষানির্ভর) জমি। কৃষকদের সঙ্গে গোপী, ইরোড, সত্যমঙ্গলম এবং ভবানীসাগরের বহু শ্রমিককে নিয়োগ করা হয়েছিল। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের হাতে কর্মসংস্থান যেমন বৃদ্ধি পেয়েছিল, তেমনি জমি ও জলের সহজলভ্যতার কারণে টেঙ্গুমারাহাদা দ্রুত একটি উর্বর, সমৃদ্ধ কৃষিভূমিতে রূপ নেয়।
আরও পড়ুন- বুধবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস, অশান্ত বিশ্বে এবারের স্লোগান কী?
১৯৫২ সালে এখানে প্রথম সমবায় কৃষি সমিতি গড়ে ওঠে। এই সমিতির মাধ্যমে কৃষকরা আলু, ডাল, মশলা ও বিভিন্ন পাহাড়ি ফসল বাজারজাত করেন। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হন। এই সমবায়ই টেঙ্গুমারাহাদার অর্থনৈতিক উন্নয়নের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে ওঠে। পাহাড়ি জমিতে সবজি উৎপাদনের সাফল্য নীলগিরি অঞ্চলের কৃষি মানচিত্রেও নতুন রেখা টেনে দেয়।
আরও পড়ুন- ভারতে সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া সেরা ১০ এআই ওয়েবসাইট, আপনিও কি এর কোনওটা ব্যবহার করেন?
কেন নিষিদ্ধ
তবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাঝেও টেঙ্গুমারাহাদার মানুষের জীবনে দুর্ভোগের শেষ নেই। শিক্ষা, চিকিৎসা, বাজার, জরুরি পরিষেবা—সবকিছুর জন্যই ১০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও সত্যমঙ্গলম টাইগার রিজার্ভের কাছে হওয়ায় চলাচলে সরকারি বিধিনিষেধও রয়েছে। তাই বহিরাগতদের জন্য অনুমতি ছাড়া এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য এই বিধিনিষেধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও গ্রামবাসীর জীবনে তা বাড়তি জটিলতা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন- ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জল খেয়ে সর্দি লেগেছে! শুনে হেসে ওড়ালেন চিকিৎসক, কিন্তু কেন?
মোয়ার নদীর তীরে অবস্থিত টেঙ্গুমারাহাদার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবর্ণনীয়। পাহাড়ের ঠান্ডা হাওয়া, গভীর সবুজ বনভূমি, নদীর টলমল জলের শব্দ এবং ফসলভরা সবুজ জমি—সব মিলিয়ে এটি এক মনোরম পর্যটন সম্ভাবনাময় গ্রাম। কিন্তু রাস্তাঘাট, নিরাপদ পরিবহণ ও মৌলিক পরিষেবার অভাবের কারণে এখানে পর্যটনের বিকাশ সম্ভব হচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে রাজ্য সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় একটি স্থায়ী রোড-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প গড়ে উঠলে টেঙ্গুমারাহাদা পরিবেশবান্ধব পর্যটনের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
গ্রামটির ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য একটি যৌথ পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি। একদিকে যেমন কৃষিকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও শক্তিশালী করা দরকার, তেমনই পরিবেশ রক্ষার জন্য যথাযথ পদ্ধতির ব্যবহারও জরুরি। সঙ্গে, রাস্তাঘাট, চিকিৎসা ও শিক্ষা সুবিধা বাড়ালে গ্রামবাসীদের জীবনযাত্রা অনেকটাই উন্নত হবে। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে টেঙ্গুমারাহাদা শুধু নীলগিরি জেলার নয়, তামিলনাড়ুর অন্যতম আদর্শ গ্রাম হিসেবেও উঠে আসতে পারে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us