বুধবার প্রকাশিত রাষ্ট্রসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ভারতের জনসংখ্যা চলতি বছরের মাঝামাঝি চিনকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর বার্ষিক স্টেট অফ ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিপোর্টে বলা হয়েছে ২০২৩ এর মাঝামাঝি ভারতের জনসংখ্যা হবে ১৪২.৮০ কোটি। যা চিনের জনসংখ্যার ১৪২.৫০ কোটির থেকে বেশি হবে।
গত বছর, ওই একই সংস্থার রিপোর্টে চিনের জনসংখ্যা ২০২২ সালের মাঝামাঝি ১৪৪.৮০ কোটি হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। যা ভারতের ১৪০.৬০ কোটির চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এই বছর বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে ভারতের উত্থানের পিছনে রয়েছে চিনের জনসংখ্যার তুলনামূলক হ্রাস পাওয়া। সেই হিসেবে বলতে গেলে মাত্র এক বছরে চিনের জনসংখ্যা ২.৩ কোটি হ্রাস পেয়েছে।
অবশ্যই, এগুলো কেবল অনুমান মাত্র। পরোক্ষ পদ্ধতি, জন্মহার আর মৃত্যুর হারের মত বিভিন্ন সূচক ব্যবহার করে এই সব তথ্য পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু, ইউএনএফপিএ রিপোর্ট (ইউএনএফপিএ বা ইউএন পপুলেশন ফান্ড, যার আসল নাম ইউএন ফান্ড ফর পপুলেশন অ্যাক্টিভিটিস) যেগুলো ১৯৭৮ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত হচ্ছে, তা বিশ্ব জনসংখ্যার নির্ভরযোগ্য সূচক বলেই ধরা হয়। এই রিপোর্ট অনুযায়ীই জনসংখ্যা পরিবর্তনশীল। আর, তার সঠিক সংখ্যা জানা কঠিন।
ভারতের জনসংখ্যার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রতি ১০ বছর পরপর হওয়া আদমশুমারি দিয়ে থাকে। সর্বশেষ আদমশুমারি হয়েছিল ২০১১ সালে। ২০২১ সালে ফের আদমশুমারি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, করোনার কারণে তা স্থগিত করতে সরকার বাধ্য হয়। এখনও সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ২০২৪ সালে যেহেতু লোকসভা নির্বাচন। তাই আদমশুমারি ২০২৫ সালের আগে হওয়ার প্রশ্নও নেই।
আরও পড়ুন- ‘সিভিল ইউনিয়ন’ কী! বিয়ের থেকে তা কতটা আলাদা?
এর আগে ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জানানো হয়েছিল যে ভারতের জনসংখ্যা ১,২১০ মিলিয়ন বা ১২১.০৮ কোটি। অর্থাৎ ১,২১০,৬৫৪,৯৭৭। এর মধ্যে ২০২০ সালের জুলাইয়ে ভারতের জনপঞ্জী কার্যালয় ২০১২ থেকে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যা কত হতে পারে, তার একটা আনুমানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছিল। যা ভারতের বর্তমান জনসংখ্যার সরকারি হিসেব বলে ধরা হয়।