বড় খবর

উত্তরপ্রদেশের ৩০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকের অর্ধেকই অদক্ষ, আর কী বলছে পরিসংখ্যান?

দেশের বৃহত্তম শ্রমশক্তির দক্ষতার প্রকৃতি এবং তাঁদের অবস্থা বুঝতে যোগী সরকারের এই চলমান কর্মকাণ্ড ও তা থেকে উঠে আসা পরিসংখ্যানের দিকে নজর রেখেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

Migrant Labour
ঘরের পথে পরিযায়ী শ্রমিক (ছবি- প্রেমনাথ পাণ্ডে)

করোনাভাইরাস মহামারীর জেরে উত্তরপ্রদেশে যেসব পরিযায়ী শ্রমিক ফিরে এসেছেন, তাঁদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করছে সে রাজ্যের সরকার। এই সুবিশাল কাজ প্রায় শেষের পথে। ৩০ লাখ ফেরত আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের কী ভাবে নিজ রাজ্যেই কাজে লাগানো যায়, তা খতিয়ে দেখতেই এই কর্মকাণ্ড।

এখনও পর্যন্ত যে পরিসংখ্যান পাওয়া গিয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে এই শ্রমিকদের প্রায় অর্ধেক অদক্ষ এবং এঁদের বড় অংশ কাজ করতেন মনরেগা প্রকল্পের আওতায়। দক্ষ শ্রমিকদের শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করতে রাজ্য একটি শ্রম কমিশন বানিয়েছে, এবং দক্ষদের পরিসংখ্যান নিয়ে একটি ওয়েব পোর্টাল তৈরি করছে।

আরও পড়ুন, লকডাউন পরবর্তী পর্যায়ে গ্রামীণ ক্ষেত্রে  সরকারের ১৫ হাজার কোটি- ইন্ডিয়ার বদলে ভারতে জোর?

দেশের বৃহত্তম শ্রমশক্তির দক্ষতার প্রকৃতি এবং তাঁদের অবস্থা বুঝতে যোগী সরকারের এই চলমান কর্মকাণ্ড ও তা থেকে উঠে আসা পরিসংখ্যানের দিকে নজর রেখেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

সংখ্যা এখনও পর্যন্ত কী বলছে?

যে ৩০ লক্ষ শ্রমিকের দক্ষতার হিসেব এখনও পর্যন্ত উত্তর প্রদেশ সরকার করেছে, তার অর্ধেক, প্রায় ১৫ লক্ষ অদক্ষ শ্রমিক।

* দক্ষ শ্রমিকদের বৃহত্তর অংশ নির্মাণ শ্রমিক। এখনও পর্যন্ত যে সংখ্যা উঠে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে প্রায় ৫.৩৩ লক্ষ নির্মাণশ্রমিক রাজ্যে ফিরেছেন।

* নির্মাণশ্রমিকদের পরের বড় অংশটাই হল কারখানা শ্রমিক। প্রায় ৯১ হাজার জন রংমিস্ত্রি বা রং করা বা প্লাস্টার অফ প্যারিসের কাজের সঙ্গে যুক্ত।

* যাঁরা ফিরে এসেছেন তাঁদের মধ্যে ৬৬ হাজার কৃষি শ্রমিক।

* অন্য গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যার মধ্যে রয়েছে ছুতোরের কাজের সঙ্গে যুক্ত ৬৫ হাজার, এবং দর্জি, সেলাই বা এমব্রয়ডারির কাজের সঙ্গে যুক্ত ৬২ হাজার মানুষ।

* রয়েছেন ৪৫ হাজার ড্রাইভার, ২১০৯৩ জন রাঁধুনি, ১৭৪০০ ইলেকট্রিশিয়ান, ১৩২৩১ জন প্লাম্বার বা প্লাম্বিংয়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং ১১৬০৯ জন গাড়ি সারাই কর্মী।

* যেসব মহিলা শ্রমিকরা ফিরেছেন তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই আয়া বা কোনও বাড়িতে বাচ্চা দেখাশোনার কাজ করেন। প্রায় ৯০০০ এরকম আয়া রয়েছেন।

* ৮৯৪১ জন বিউটিশিয়ান, নাপিত বা মেহেন্দি আর্টের সঙ্গে যুক্ত।

* ৮৮৪২ জন কম্পিউটার বা মোবাইল সারাই কর্মী এবং ৮৬০০ জন সেলস ও মার্কেটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মী রয়েছেন।

* যেসব পরিযায়ী শ্রমিক ফিরে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে মোট ৩৬৫০ জন মহিলা রয়েছেন, যাঁরা হাউসকিপিং বা গৃহকর্মীর কাজ করতেন।

*তালিকায় রয়েছে ৮৩০০ জনের নাম, যাঁরা অন্য রাজ্যে হকার, সব্জি বিক্রেতা বা রিক্সাচালকের কাজ করতেন। সমসংখ্যক মানুষ অন্য রাজ্যে সিকিউরিটি গার্ডের কাজের করতেন বলে এখনও পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যানে জানা যাচ্ছে।

* তালিকায় ডেলিভারি বয় বা ক্যুরিয়ার সার্ভিসে কর্মরত, শিক্ষক, প্যাকারস অ্যান্ড মুভার্সে কর্মরত ছিলেন এমন মানুষও। রয়েছে ট্যুরিজম ও হসিপিটালিটেতে এতদিন কাজ করতেন এমন শ্রমিকরা।

* ২০০০ জন ব্যাঙ্কিং বা বিমা ক্ষেত্রে কর্মরত ছিলেন, প্রায় সম সংখ্যক ভিন রাজ্যে কেরানি বা হিসেব সংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিলেন।

এঁদের কাজের জন্য সরকার কী ভাবছে?

প্রোফাইল তৈরির কাজ শেষের পথে। এঁদের কাজের সুযোগ করে দেওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিসংখ্যান শিল্পক্ষেত্রে দেওয়া হবে এবং রাখা হবে একটি ওয়েব পোর্টালে, যেখানে সমস্ত কর্মীর যোগাযোগের বিবরণও থাকবে, যাতে সম্ভাব্য নিয়োগকারী এঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

যাঁরা ফিরে এসেছেন, তাঁদের জন্য তো বটেই, রাজ্যে যাঁরা কাজ হারিয়েছেন তাঁদের জন্যও মনরেগা প্রকল্প যোগী সরকারকে কিছুটা হাঁফ ছাড়ার সুযোগ দেবে। কাজের অপেক্ষায় রয়েছেন বহু মানুষ, এই পরিস্থিতিতে মনরোগা প্রকল্পে দৈনিক নিয়োগের সুবিধা পেয়েছেন ৫৭ লক্ষ শ্রমিক, রাজ্য সরকারের হিসেবে যা একটি রেকর্ড।

আরও পড়ুন, কত পরিযায়ী শ্রমিক বাস্তুচ্যুত হলেন এই লকডাউনে?

গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েতি রাজের মুখ্য সচিব মনোজ কুমার সিং বলেছেন, লক ডাউনের আগে গড় দৈনিক নিয়োগ হত ৯ লক্ষের মত, কিন্তু যত মানুষ নিজেদের গ্রামে ফিরছেন, তত এই সংখ্যা বাড়ছে। কয়েকদিন আগে এ সংখ্যা ৫৭ লক্ষে পৌছয়, তার পর থেকে ৫১-৫৭ লক্ষের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। তিনি বলেন গত তিন মাসে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের জন্য ১৯০০ কোটি টাকা মজুরি হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

বিভগীয় সূত্র জানাচ্ছে মনরেগা প্রকল্পে গ্রামে পুকুর কাটা ও নদী সংস্কার প্রকল্পে কাজ করছেন শ্রমিকরা। রাজ্যে প্রায় ২২টি নদী সংস্কার প্রকল্প চলছে।

যতজন পরিযায়ী শ্রমিক ফিরেছেন,তাঁদের মধ্যে কতজন মনরেগা প্রকল্পের সুযোগ পাচ্ছেন তার কোনও নির্দিষ্ট হিসেব না থাকলেও সূত্র বলছে, সম্প্রতি যাঁরা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন তাঁদের মধ্যে ৮ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক।

 যেসব দক্ষ শ্রমিক ফিরেছেন, তাঁদের কী হবে?

সূত্র মনে করছে, কাজের সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ হওয়ায়, বহু দক্ষ শ্রমিকও ১০০ দিনের কাজে যুক্ত হয়েছেন।

যেসব পরিযায়ী শ্রমিক ফিরে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ১৫ লক্ষ দক্ষ শ্রমিক। এঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নির্মাণকর্মী। অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ বিভাগ এবং পরিকাঠামো ও শিল্প বিভাগকে এই কর্মীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পের সঙ্গে যোগাযোগ করানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এমএসএমই-র মুখ্যসচিব নবনীত সেহগাল বলেন, কাজ্য সরকার কর্মীদের নিয়োগের জন্য চারটি মৌ স্বাক্ষর করেছে। সম্প্রতি টেলর্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চিঠি লিখে জানানো হয়েছে যে তাঁরা দর্জি খুঁজছেন, তাঁদের তালিকাও দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা সরাসরি এই ধরনের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন। গত কয়েকদিনে প্রায় দেড় লক্ষ নির্মাণকর্মী পশ্চিম উত্তর প্রদেশের বেসরকারি নির্মাণকাজে যুক্ত হয়েছেন, যুক্ত হয়েছেন সড়ক প্রকল্পেও।

আরও পড়ুন, লকডাউনজনিত কর্মহানিতে লিঙ্গগত তারতম্য

উত্তর প্রদেশ এক্সপ্রেসওয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, পিডব্লিউডি-র মত সরকারি সংস্থাও তাদের সড়কপ্রকল্পে কর্মী নিয়োগের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বর্তমানে রাজ্যে তিনটি এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির কাজ চলছে, এর মধ্যে পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে, এ ছাড়া বুন্দেলখণ্ড এক্সপ্রেসওয়ে এবং গোরখপুর লিংক এক্সপ্রেসওয়ে, যে কাজ সবে শুরু হয়েছে। সূত্র বলছে এই প্রকল্পগুলিতে কাজ করছেন ১২ হাজার শ্রমিক। সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে ২০ এপ্রিল থেকে এ কাজ ফের শুরু হয়ে গিয়েছে।

উত্তরপ্রদেশ সরকার মৌ স্বাক্ষর করেছে ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন, ফিকি, উদ্যোগ ভারতী এবং ন্যাশনাল রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের সঘ্গে। ১১ লক্ষ কর্মীর নিয়োগ ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের জন্য এই মৌ।

এক বরিষ্ঠ আধিকারিক জানিয়েছেন শিল্পক্ষেত্রের কাছে পরিসংখ্যা দেওয়া হয়েছে, যাঁরা কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি মোবাইল ফোনে কথা বলবেন।

মহিলা কর্মীদের জন্য কোনও ব্যবস্থা?

যাঁরা গৃহকর্মী বা আয়ার কাজ করতেন, তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে যুক্ত হতে ইচ্ছুক নন বলে সূত্র জানিয়েছে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা সেলফ হেল্প গ্রুপের মাধ্যমে এঁদের মাস্ক ও পিপিই তৈরির কাজে নিযুক্ত করার।

সম্প্রতি শুরু হওয়া রুরাল লাইভলিহুড মিশনের অন্তর্ভুক্ত ব্যাঙ্কিং করেসপন্ডেন্ট সখী যোজনায় মহিলাদের প্রতিটি গ্রামে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ব্যাঙ্কিংয়ে সহায়তার কাজে নিয়োগ করা যেতে পারে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সঙ্গে কথা বলার সময়ে, অতিরিক্ত মুখ্য সচিব অবনীশ কুমার অবস্থি জানিয়েছেন, ৩৫ লক্ষ অভিবাসী শ্রমিকের দক্ষতার প্রোফাইলিং করে ফেলছে রাজস্ব দফতর।

তিনি বলেন, এই কর্মীদের শিল্প, গ্রামোন্ননয়ন, মনরেগার কাজে য়ুক্ত করা শুরু হয়ে গিয়েছে। উত্তর প্রদেশের ৩১টি জেলা প্রধানমন্ত্রীর গরিব কল্যাণ রোজগার অভিযানের আওতাভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে এই জেলাগুলিতে নিয়োগের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ করা হবে।

Get the latest Bengali news and Explained news here. You can also read all the Explained news by following us on Twitter, Facebook and Telegram.

Web Title: Uttar pradesh migrant labour unskilled mnrega employment

Next Story
হিন্দুজা ভাইদের মামলা: কত সম্পত্তি, কী নিয়ে মতানৈক্য?Hinduja Brothers Dispute
The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com