/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/03/venezuela-news-2026-01-03-17-12-20.jpg)
Venezuela News: ভেনেজুয়েলায় তীব্র সংকটের কারণ কী?
Venezuela News: ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে পরিস্থিতি অনেক আগেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। এই হামলার আগে কয়েক মাস ধরে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক তৎপরতা চলছিল। সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ পাঠানো—সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে এক ধরনের অঘোষিত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ড্রাগ পাচার ও সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ করে আসছে। মাদুরো বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে এই অভিযোগকে সামনে রেখেই সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার জলসীমায় ড্রাগ বহনকারী নৌকার ওপর একের পর এক অভিযান চালানো হয়। ধীরে ধীরে সেই অভিযানের পরিধি সামরিক আক্রমণের দিকে গড়ায়।
মার্কিন হস্তক্ষেপ নতুন নয়
মার্কিন হস্তক্ষেপ ভেনেজুয়েলার কাছে নতুন কিছু নয়। গোটা লাতিন আমেরিকার ইতিহাসেই আমেরিকার রাজনৈতিক ও সামরিক নাক গলানোর বহু নজির রয়েছে। বিশ শতক থেকে শুরু করে একাধিক দেশে সরকার ফেলা, অভ্যুত্থান উসকে দেওয়া কিংবা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে। এই হস্তক্ষেপের মূল যুক্তি হিসেবে বারবার তুলে ধরা হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা বা গণতন্ত্র রক্ষার কথা, যদিও বাস্তবে অর্থনৈতিক স্বার্থই ছিল প্রধান চালিকাশক্তি।
আরও পড়ুন- পৌষ পূর্ণিমার পবিত্র স্নানে প্রয়াগরাজে শুরু মাঘ মেলা, লক্ষাধিক ভক্তের ঢল!
ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে সেই অর্থনৈতিক স্বার্থের কেন্দ্রে রয়েছে তেল। বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল মজুত রয়েছে এই দেশে। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে হুগো চাভেজ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভেনেজুয়েলার তেল নীতির ওপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে। সেই থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে কারাকাসের সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে। ২০০২ সালে চাভেজকে সরানোর জন্য ব্যর্থ অভ্যুত্থান সেই সংঘাতেরই একটি অধ্যায়।
আরও পড়ুন- রান্নাঘরের এই উপাদানেই ঘরে চিরকাল থাকবে মনভোলানো সুগন্ধ
চাভেজের মৃত্যুর পর নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতায় আসেন এবং একই রাজনৈতিক পথে চলতে থাকেন। এর ফলে আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত আরও গভীর হয়। ২০১৯ সালে আমেরিকা প্রকাশ্যে বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং ভেনেজুয়েলার বিদেশি সম্পদের নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে তুলে দেয়। তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি আরও সংকটে পড়ে।
আরও পড়ুন- শীতকালে কখন ও কীভাবে পান করবেন লেবু জল? মিলবে সর্বোচ্চ উপকার
২০২৫ সালে ফের ক্ষমতায় ফিরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আগ্রাসী নীতি গ্রহণ করেন। এবার যুক্তি হিসেবে সামনে আনা হয় ড্রাগ কার্টেল দমন। মাদুরোকে সরাসরি অপরাধচক্রের নেতা বলে আখ্যা দেওয়া হয়। এই প্রেক্ষাপটেই সামরিক হামলা এবং কারাকাসে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
আরও পড়ুন- শীতকালে অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগছে? এই খাবারগুলি খেলে শরীর থাকবে উষ্ণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হবে শক্তিশালী
তবে এই সংকট শুধুমাত্র বিদেশি হস্তক্ষেপের ফল নয়। ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ অবস্থাও অত্যন্ত জটিল। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য এবং ওষুধের অভাব আর দুর্নীতির অভিযোগ সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বহু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মনে করেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে মাদুরো প্রকৃত জনসমর্থন হারিয়েছেন, কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার জনগণের মধ্যেই মতভেদ স্পষ্ট। একদিকে অনেকেই মাদুরোর পতন চান, অন্যদিকে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে গভীর আশঙ্কা রয়েছে। লাতিন আমেরিকার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বহু মানুষ বিশ্বাস করেন, বাইরের শক্তি হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি আরও অস্থির হতে পারে এবং গণতন্ত্র ফিরবে কি না, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার সমস্যা (Venezuela Crisis Explained) বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, কারাকাসের বিস্ফোরণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ড্রাগ রাজনীতি, তেল সম্পদ এবং বহু দশকের ভূরাজনৈতিক সংঘাতের ফল। ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ এখন শুধু দেশটির জনগণের হাতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক শক্তির কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভর করছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us