বড় খবর

ক্রমশ কেন দাম বাড়ছে রান্নার তেলের?

চিনাবাদাম তেল, সরষের তেল, বনস্পতি, সয়া তেল, সূর্যমুখী তেল এবং পাম তেলের দাম গত এক বছরে সর্বভারতীয় পর্যায়ে ২০% থেকে ৫৬% বেড়েছে।

ভোজ্যতেলের দাম সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। এর কারণ কী কী? দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার কী পদক্ষেপ নিতে পারে তা একবার জেনে নেওয়া যাক-

ভোজ্যতেলের দাম কত বেড়েছে?

ভোক্তা বিষয়ক দফতরের তথ্য অনুসারে, ছ’টি ভোজ্যতেলের দাম – চিনাবাদাম তেল, সরষের তেল, বনস্পতি, সয়া তেল, সূর্যমুখী তেল এবং পাম তেলের দাম গত এক বছরে সর্বভারতীয় পর্যায়ে ২০% থেকে ৫৬% বেড়েছে। চলতি বছরের ২৮ মে সরষের তেলের খুচরা দাম মোট ৪৪% বৃদ্ধি পেয়েছে। কেজি প্রতি দাম বেড়ে হয়েছে ১৭১ টাকা। অথচ গত বছরের একই তারিখে সরষের তেলের দাম কেজি প্রতি ছিল ১১৮ টাকা। সয়া তেল এবং সূর্যমুখী তেলের দামও গত বছরের তুলনায় ৫০% এরও বেশি বেড়েছে।

১১ বছরের মধ্যে এই দাম সর্বাধিক। এমনিতেই কোভিড লকডাউনের কারণে মানুষের হাতে ক্রয়ক্ষমতা এবং আয় উভয়ই কমেছে। এর মধ্যে রান্নার তেলের দামে তীব্র বৃদ্ধি চরম সঙ্কটের সৃষ্টি করেছে।

ভারত কতটা ভোজ্যতেল ব্যবহার করে?

আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সকলের খাদ্যের অভ্যাসেও পরিবর্তন আসে। বছরের পর বছর ধরে ভোজ্যতেলের ব্যবহার বাড়ছে দেশে। মূলত সরিষার তেল বেশিরভাগ ব্যবহৃত হয় গ্রামাঞ্চলে। শহরাঞ্চলে পরিশোধিত তেল যেমন সানফ্লাওয়ার তেল এবং সয়াবিন তেলের ব্যবহার বেশি হয়। ১৯৯৩-৯৪ থেকে ২০০৪-০৫-এর মধ্যে, গ্রামীণ অঞ্চলে মাথাপিছু ভোজ্যতেলের ব্যবহার ০.৩৭ কেজি থেকে ০.৪৮ কেজি এবং শহরাঞ্চলে ০.৫৬ কেজি থেকে ০.৬৬ কেজি বেড়েছে। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের মতে, গত পাঁচ বছরে দেশে উদ্ভিজ্জ তেলের ব্যবহারও বেড়েছে অনেকটাই।

দেশীয়ভাবে কতটা উৎপাদন করা হয় এবং কতটা আমদানি করা হয়?

কৃষি মন্ত্রকের মতে, উদ্ভিজ্জ তেলের চাহিদা ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০২০ সালের মধ্যে ২৩.৪৮ থেকে ২৫.৯২ মিলিয়ন টনের মধ্যে রয়েছে। আগে সেই সংখ্যা অনেকটাই কম ছিল। ২০১২-২০১৮ সরষে, চিনাবাদাম ইত্যাদি তেলবীজ এবং নারকেল, তিল, রাইস ব্র্যান তেল, তুলা তেলের চাহিদা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। সুতরাং, ভারত তার চাহিদা মেটাতে আমদানির উপর নির্ভর করে। ২০১২ সালে, দেশে প্রায় ১৩.৩৫ মিলিয়ন টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছিল। এই আমদানির প্রধান উত্স হ’ল আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল সয়াবিন তেলের জন্য; ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া পাম অয়েল; এবং আবার সূর্যমুখী তেলের জন্য ইউক্রেন এবং আর্জেন্টিনা।

রান্নার তেলের দাম কমাতে সরকারের সামনে কী কী বিকল্প পথ রয়েছে?

ভোজ্যতেলের দাম হ্রাস করার স্বল্পমেয়াদী বিকল্পগুলির মধ্যে একটি হ’ল আমদানি শুল্ক হ্রাস করা। SEAI-এর মতে কৃষি অবকাঠামো ও উন্নয়ন উপকর এবং সমাজকল্যাণ সেস সহ আমদানি শুল্কের কার্যকর হার ৩৫.৭৫%। পাম তেলের কার্যকর আমদানি শুল্ক ৫৯.৪০%। একইভাবে, অপরিশোধিত এবং পরিশোধিত সয়াবিন তেল এবং সূর্যমুখী তেলের কার্যকর আমদানির শুল্কের হার ৩৮.৫০% থেকে ৪৯.৫০% এর মধ্যে রয়েছে। অপরিশোধিত পাম তেল আমদানির নীতিটি “বিনামূল্যে” এবং সরকার যদি পরিশোধিত তেলের আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেয় তবে অবিলম্বে দাম কমবে এমনটাই মত এক সরকারি আধিকারিকের।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন

Get the latest Bengali news and Explained news here. You can also read all the Explained news by following us on Twitter, Facebook and Telegram.

Web Title: Why edible oils are costlier will government reduces it

Next Story
কার্লোসের ফ্রি-কিকের মতো হঠাৎ বাঁক! কী কারণে ইয়াস তাণ্ডব থেকে রেহাই কলকাতারYaash Update, Amphan, Alipur weather Office, Bay of Bengal, maynmar
The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com