/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/09/human-rights-day-2025-12-09-18-55-57.jpg)
Human rights day: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস।
Human rights day: মানবাধিকার দিবস, ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। রাষ্ট্রসংঘ ঘোষিত দিনটি আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় অধিকার সুরক্ষার মৌলিক প্রয়োজনীয়তা কী। ২০২৫ সালে মানবাধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য— 'মানবাধিকার: আমাদের প্রতিদিনের জন্য অপরিহার্য'। এই বার্তাটি শুধু একটি থিম নয়। বরং আজকের আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তায় ভরা সময়ের এক বাস্তব সত্য। চারদিকে যুদ্ধ, দারিদ্র্য, বৈষম্য, নিপীড়ন, সামাজিক অস্থিরতা—এসবের ভিড়ে মানুষের মৌলিক অধিকার যেন বারবার আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে। তাই মানবাধিকারকে বিশেষ কোনও দিবসের বিষয় নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা প্রয়োজন।
মানবাধিকার আসলে কী? এটি সেই অপরিহার্য অধিকারগুলোর সমষ্টি, যা মানুষ হিসেবে জন্মগতভাবে আমাদের প্রাপ্য—স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার, নিরাপদে থাকা, ভোটের অধিকার, শিক্ষার অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, নির্যাতন থেকে সুরক্ষার অধিকার, বিচার পাওয়ার অধিকার এবং মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার। আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাই, যে পরিবেশে শ্বাস নিই, যে কথা বলি, যে নিরাপত্তায় ঘুমাই—এসবের সঙ্গেই মানবাধিকার জড়িয়ে আছে, অনেক সময় অদৃশ্যভাবে, অনেক সময় আমরা খেয়ালও করি না।
আরও পড়ুন- ভারতে সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া সেরা ১০ এআই ওয়েবসাইট, আপনিও কি এর কোনওটা ব্যবহার করেন?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আজও মানুষ মৌলিক মানবাধিকার হারাচ্ছেন। কেউ যুদ্ধের শিকার, কেউ রাজনৈতিক নিপীড়নের, কেউ জাতিগত বৈষম্যের। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসও দুঃশাসন, ভয়, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যার দাগ বহন করে। দীর্ঘ দেড় দশকের এক কঠিন সময় মানুষ দেখেছে, যখন মত প্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে, বিরোধীদের ওপর নেমে এসেছে নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, কারাবাস, হামলা, নিপীড়ন।
আরও পড়ুন- ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জল খেয়ে সর্দি লেগেছে! শুনে হেসে ওড়ালেন চিকিৎসক, কিন্তু কেন?
মানবাধিকারের ওপরে যখন অন্ধকার নেমে আসে, তখন দেশে গণতন্ত্রও বিপন্ন হয়, মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে যায়। সেই নির্মম সময়ে যাঁরা ন্যায়, সত্য ও গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন—রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ছাত্র, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ—তাদের অনেকেই হয়রানি, নির্যাতন, গুম কিংবা হত্যার শিকার হয়েছেন। আজকের মানবাধিকার দিবসে তাঁদের স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
আরও পড়ুন- দুপুর ১টা–৩টার সময় শরীর কেন সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, জানাল বিশেষজ্ঞরা
এই সব অন্ধকার অধ্যায়ের মাঝেও ন্যায় এবং মানবতার প্রতি মানুষের অঙ্গীকার কখনও হারিয়ে যায়নি। যে সকল মানুষ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পথে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুধুই আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য এক শিক্ষা। মানবাধিকার লঙ্ঘন কখনও স্থায়ী হতে পারে না—ন্যায়বিচার শেষ পর্যন্ত নিজের পথ খুঁজেই নেয়।
আরও পড়ুন- ১২ বছরের আগে স্মার্টফোন দিলে শিশুদের স্বাস্থ্যের সমস্যা বাড়তে পারে, জানাল গবেষণা
বর্তমানে মানবাধিকার রক্ষার যাত্রায় বিশ্ব আবার নতুন করে জোর দিচ্ছে। রাষ্ট্রসংঘের এই বছরের প্রচার মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, মানবাধিকার শুধু লিগ্যাল বা রাজনৈতিক আলোচনা নয়—এটি প্রতিদিনের বাস্তবতা, যা আমাদের সিদ্ধান্ত, আচরণ, পরস্পরের প্রতি ব্যবহার এবং সমাজে দাঁড়ানোর নৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করে। কেউ যখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন, কারও সঙ্গে সম্মান দিয়ে ব্যবহার করেন, দুর্বল কারও পাশে দাঁড়ান—সেখান থেকেই মানবাধিকার শক্তিশালী হয়। মানবাধিকার অর্জনযোগ্য, কারণ এটি মানুষের আচরণ, সদিচ্ছা ও সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
২০২৫ সালের আয়োজন
২০২৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মানবাধিকার বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনও হচ্ছে। জেনেভায় রাইটএক্স (RightsX Summit) আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানবাধিকার বিস্তারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। একইভাবে বুদাপেস্টে তরুণদের নিয়ে হিউম্যান রাইটস আনলকড (Human Rights Unlocked) শিরোনামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশেষ ফোরাম, যেখানে পরবর্তী প্রজন্ম মানবাধিকারের শিক্ষার নেতৃত্ব নেবে। এসব আয়োজন প্রমাণ করে যে, মানবাধিকার প্রশ্নটি শুধুমাত্র রাজনীতি বা কূটনীতির বিষয় নয়—এটি ভবিষ্যতের টেকসই মানবসমাজ গঠনের অপরিহার্য ভিত্তি।
মানবাধিকার দিবসের মূল উৎস হল ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অফ হিউম্যান রাইটস (Universal Declaration of Human Rights (UDHR), যা পৃথিবীর ইতিহাসে মানুষের অধিকার রক্ষার সবচেয়ে শক্তিশালী ঘোষণা। এটি আজ বিশ্বের ৫৭৭টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত। যা এটিকে বিশ্বের সর্বাধিক অনূদিত দলিলে পরিণত করেছে। এখানে বলা হয়েছে, মানুষ হিসেবে আমরা সবাই সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে জন্মাই। কোনও বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গ, মতাদর্শ, জাতীয়তাবাদ, সম্পদ বা সামাজিক অবস্থান এই অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে না।
২০২৫ সালের প্রতিপাদ্য আমাদের স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, মানবাধিকার শুধুই স্লোগান নয়। এটি প্রতিদিনের বাস্তবতা। প্রতিদিন লক্ষ্য রাখতে হবে কোথাও অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কি না এবং প্রতিকার নেওয়ার জন্য সামাজিক জীব হিসেবে এগিয়ে আসতে হবে। মানবাধিকার রক্ষা ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র ও উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই মানবাধিকার দিবসে শুধু স্মৃতিচারণ নয়—এটি হোক সম্মিলিত অঙ্গীকার, যাতে পৃথিবীর কোথাও, কোনও মানুষ যেন ভবিষ্যতে আর মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us