বড় খবর

‘মৃতেরা ফিরবে না, তাই সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক অনর্থক’, বেফাঁস হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী

’এখন তথ্য নিয়ে বিতর্কের সময় নয়। খুব খারাপ সময়। এখন তাই কীভাবে সংক্রমণ থেকে মানুষকে সারিয়ে তোলা যাবে, সেটা লক্ষ্য হওয়া উচিত।‘

Covid-19 in India, Corona india, Haryana, ML Khattar, ANI
হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর

মৃতেরা ফিরে আসবে না। তাই মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্কের কোনও যুক্তি নেই। এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন অসংবেদনশীল মন্তব্য করেছেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার সে রাজ্যে একদিনে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার সংক্রমণের হদিশ মিলেছে। মৃত প্রায় ৭৫। এই আবহে সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মনোহরলাল খট্টর বলেন, ‘যারা মারা গিয়েছে তাঁরা ফিরবে না। আমরা সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করছি জীবন বাঁচাতে। তাই মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে বিতর্কের কোনও যুক্তি নেই।‘

সম্প্রতি বিরোধী শিবির থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যার সঙ্গে সরকারি হিসেবের হেরফের আছে। এই প্রশ্ন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীকে করা হলেই, বেফাঁস মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর মন্তব্য,’এখন তথ্য নিয়ে বিতর্কের সময় নয়। খুব খারাপ সময়। এখন তাই কীভাবে সংক্রমণ থেকে মানুষকে সারিয়ে তোলা যাবে, সেটা লক্ষ্য হওয়া উচিত।‘  

এদিকে, দেশজুড়ে চলছে গণটিকাকরণ। পয়লা মে থেকে এই তালিকায় ঢুকবে ১৮-৪৫ বছরের নাগরিকরা। কিন্তু শুধু টিকা নিলে চলবে না। মাস্ক পরা এবং দূরত্ব বজায় রাখাও সমান জরুরি।  করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ঠেকাতে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এমনই পরামর্শ দিয়ে আসছেন চিকিৎসক-গবেষকরা।

এ বার ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর গবেষণায় আরও ভয়ঙ্কর তথ্য উঠে এসেছে। দেখা গিয়েছে, সঠিক সামাজিক দূরত্ববিধি না মানায়, একজন করোনা রোগীর থেকে এক মাসের মধ্যে ৪০৬ জন সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা। তাই করোনাকে ঠেকাতে জন্য সামাজিক দূরত্ব বিধি বজায় এবং লকডাউনের একমাত্র পন্থা। এমনটাই মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

দেশে দৈনিক সংক্রমণ এবং মৃত্যু যে হারে বাড়ছে, তাতে বারবার সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। সোমবার এনিয়ে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব লব অগরওয়াল। সেখানে তিনিই আইএমআর-এর গবেষণার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘৬ ফুট দূরত্ব থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বাড়িতে আইসোলেটেড থাকাকালীনও এমনটা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর মাস্ক না পরলে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা ৯০ শতাংশ। এক জন সুস্থ মানুষ যদি মাস্ক পরেন, আর সংক্রমিত ব্যক্তি যদি মাস্ক না পরেন, সে ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা ৩০ শতাংশ। দু’জনেই মাস্ক পরলে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা মাত্র ১.৫ শতাংশ।’

সেই বৈঠকেই নীতি আয়োগের স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্য ভিকে পাল বলেন, ‘সামাজিক দূরত্ববিধি যদি ৫০ শতাংশও মেনে চলা হয়, করোনা রোগীর থেকে মাত্র ১৫ জন সংক্রমিত হতে পারেন। দূরত্ববিধি যদি ৭৫ শতাংশ মেনে চলা হয়, সে ক্ষেত্রে এক জন রোগীর থেকে মাত্র আড়াই জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই সকলকে অনুরোধ, প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোবেন না। বাড়িতেও মাস্ক পরুন। এই সময় কাউকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাবেন না। মনে রাখবেন করোনাকে হারানোর একটাই উপায় সামাজিক দূরত্ব বজায়। মাস্ক পরা এবং পরিচ্ছন্ন থাকা। তাতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমিয়ে দেয়।’

Get the latest Bengali news and General news here. You can also read all the General news by following us on Twitter, Facebook and Telegram.

Web Title: Dead will not come back so debate over data is pointless ml khattar national

Next Story
কোভিড বিধি না মানলে একজন সংক্রমিত করতে পারে ৪০৬ জনকে: ICMRCorona Wave, Life Insurance, Mortality
The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com