ভারতের ভিসা থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশের নির্বাসিত কবি দাউদ হায়দার

১৯৭৪ সালে এক বাংলা দৈনিকে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়। কবিতায় সে দেশের উগ্রপন্থা এবং ধর্মান্ধতা নিয়ে সরব হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করা হয় তাঁকে।

১৯৭৪ সালে এক বাংলা দৈনিকে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়। কবিতায় সে দেশের উগ্রপন্থা এবং ধর্মান্ধতা নিয়ে সরব হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করা হয় তাঁকে।

author-image
IE Bangla Web Desk
New Update
NULL

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকেই টানা বেশ কিছু দিন ভারতে থাকার কথা ছিল কবি দাউদ হায়দারের। বেশ কিছু সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতেই এ দেশে আসার কথা ছিল বাংলাদেশের নির্বাসিত কবির। কিন্তু শেষমেশ ভারতের ভিসা পেলেন না কবি। বার্লিনের ভারতীয় দূতাবাসে কবিকে জানিয়ে দেওয়া হল, এ দেশের ভিসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না তাঁকে।

Advertisment

রাষ্ট্রপুঞ্জের দেওয়া 'রাষ্ট্রহীন ব্যক্তি'র বিশেষ ভিসা রয়েছে দাউদ হায়দারের কাছে। এর আগেও একাধিকবার ভারতে এসেছেন কবি। সাধারণত এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক অনুমতি দিলে ভিসা পেতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। ২০১৯-এর কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় কবির নিজের বই প্রকাশ উপলক্ষেও কলকাতায় আসার কথা ছিল তাঁর।

এই প্রসঙ্গে কবি দাউদ হায়দার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছে, "আমার সঙ্গে কোনো অফিসিয়াল কমিউনিকেশন করা হয়নি। আমি বৃহস্পতিবার ভিসার স্টেটাস জানতে ফোন করেছিলাম। আমায় জানানো হয়েছে কোনোভাবেই আমি ভিসা পাব না"।

Advertisment

আরও পড়ুন, বড়দিনের রোদ্দুর ফেলে চিরছায়ায় ‘কলকাতার যীশু’

প্রসঙ্গত, ১৯৭৪ সালে এক বাংলা দৈনিকে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়। কবিতায় সে দেশের উগ্রপন্থা এবং ধর্মান্ধতা নিয়ে সরব হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করা হয় তাঁকে। বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর বেশ কিছু বছর ভারতে ছিলেন তিনি। ১৯৮৭ সালে বার্লিনে চলে যান। দাউদ হায়দার ভারতে এসেছিলেন ২০১৪ সালে।

"বাংলাদেশ ছাড়ার পর আমি ভারতে থেকেছি। এখানকার বহু সংবাদপত্রের দফতরে আমি কাজ করেছি। ভারত সরকারকে আমি আয়কর দিয়েছি। রাষ্ট্রপুঞ্জের পাসপোর্ট রয়েছে আমার কাছে। আমি জার্মান পাসপোর্ট পেয়ে যেতাম কিন্তু আমি চেয়েছিলাম আমার পরিচয়পত্রে 'বাংলাদেশ' শব্দটুকু থাক। আমাকে যখন প্রশ্ন করা হয় কেন আমি জার্মান নাগরিকত্ব নিলাম না, একটাই কথা বলতাম, আমি বাঙালি, জার্মানদের কাছে আমি বহিরাগত, এবং সবসময় সেটাই থাকব"।

Read the full story in English