নিয়ন্ত্রণরেখায় বাণিজ্য বন্ধ: আসছে না শুকনো ফল, যাচ্ছে না কলা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা বলে কীভাবে কঠোরতর নিয়মবিধি প্রয়োগ করা যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণরেখায় বাণিজ্য সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত তার পরেই নেওয়া হবে। 

LOC Trade Suspend, Loc
প্রায় ২৮০ জন ব্যবসায়ী এই বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত
জম্মু-কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সমস্ত ধরনের ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ জারি হওয়ার পর  শুকনো লঙ্কা, আম, হার্বস, শুকনো ফল সহ মোট ২১টি জিনিসের ব্যবসায়ে প্রভাব পড়তে চলেছে। শুক্রবার সরকারি আধিকারিকরাই এ কথা বলেছেন।

পাকিস্তানের কাছ থেকে মোস্ট ফেভার্ড নেশনের তকমা প্রত্যাহার করে নেওয়ার দু মাস পর, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর সমস্ত রকমের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অভিযোগ, বাণিজ্যের সুযোগের অপব্যবহার করছিল জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত লোকজন।

আরও পড়ুন, সাধ্বী প্রজ্ঞার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ

২০০৮ সালে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বাণিজ্য শুরু হয়। এ বাণিজ্যে সরাসরি যুক্ত ছিলেন প্রায় ২৮০ জন ব্যবসায়ী, তাঁরা এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছেন। এখানে বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৯০০ কোটি টাকা।

যে ২১টি পণ্যের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবার নিষিদ্ধ হয়েছে, তার মধ্যে কলা, এমব্রয়ডারির কাজ, তেঁতুল এবং জিরার রফতানি বন্ধ করা হয়েছে। যেসব পণ্যের আমদানি বন্ধ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে আমন্ড, শুকনো খেজুর, শুকনো ফল, হার্বস, আম এবং পেস্তা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে কাশ্মীরের বারামুল্লার সালামবাদ এলাকা এবং জম্মুর পুঞ্চ জেলার চক্কন দে বাগ এলাকায় ব্যবসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বাণিজ্যে বিশালাকারের অপব্যবহারের রিপোর্ট আসার পরই এই নির্দেশ বলে জানানো হয়েছে।

শ্রীনগর-মুজফফরাবাদ এবং পুঞ্চ-রাওয়ালকোট রুটে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বাণিজ্য শুরু হয় ২০০৮ সালের ২১ অক্টোবর। দু পক্ষের মধ্যে বিশ্বাস নির্মাণকারী পদক্ষেপ হিসেবেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

২০০৮ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত উরি বাণিজ্যকেন্দ্রে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪৪০০ কোটি টাকা এবং পুঞ্চে এই পরিমাণ ছিল মোট ২৫৪২ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন, এনআরসি ও নাগরিকত্ব বিল: রাষ্ট্রনীতি বনাম শরণার্থী

জম্মু-কাশ্মীরে গোড়ার দিকে দুদিকের মোট ৬৪৬ জন ব্যবসায়ী বাণিজ্যের জন্য নিজেদের নাম নথিভুক্ত করালেও, এখন সে সংখ্য়া দাঁড়িয়েছে ২৮০ তে।

নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর যখন বাণিজ্য শুরু হয়েছিল, তখন তা ছিল মোট দুদিনের জন্য। ২০১১ সালের ১৪ অক্টোবর দিনের সংখ্যা ২ থেকে বাড়িয়ে ৪ করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা বলে কীভাবে কঠোরতর নিয়মবিধি প্রয়োগ করা যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণরেখায় বাণিজ্য সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত তার পরেই নেওয়া হবে।

”এখানকার বাণিজ্যের চরিত্র পাল্টে গিয়েছে বলে জানা গেছে। এখন এখানে মূলত তৃতীয় পক্ষই বাণিজ্য করে এবং এই রুটে বিদেশ থেকে শুরু করে অন্য এলাকা থেকে আনা পণ্যের ব্যবসা হচ্ছে।”

”বাণিজ্যের নাম করে উটকো দেশবিরোধী শক্তি হাওয়ালার টাকা, ড্রাগ, অস্ত্রশস্ত্র আনা-নেওয়ার জন্য এই পথ নিচ্ছে”, বলে দাবি করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, বেশ কয়েকটি মামলায় এনআইএ দেখেছে যে, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর বাণিজ্যের বেশ কিছু ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত লোকেরাই ব্যবসা চালাচ্ছে।

বলা হয়েছে, ”তদন্তে আরও দেখা গেছে কিছু ব্যক্তি যারা পাকিস্তান থেকে এসে জঙ্গি গোষ্ঠীতে নাম লিখিয়েছে তারা পাকিস্তানে ব্যবসায়িক সংস্থা খুলেছে। এই সংস্থাগুলি আদতে জঙ্গি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তারাই নিয়ন্ত্রণরেখায় বাণিজ্য করছে।”

Read the Story in English

Web Title: Jammu kashmir loc trade suspend traders hit by home ministry decision

Next Story
পেনশনে বাধ্যতামূলক আধার, এ নিয়ে কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?Aadhaar update history can now be downloaded online
The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com