বড় খবর

তেজি বাজার, তবু পশু রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করল জাহাজ মন্ত্রক

এন ডিএ সরকারের সময়কালে পশুরফতানি ব্যাপক বেড়েছে। ২০১৩-১৪ সালে যেখানে পশু রফতানি হয়েছিল ৬৯.৩০ কোটি টাকার, ২০১৬-১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৭.৪০ কোটি টাকায়।

এ নিষেধাজ্ঞা যে অনির্দিষ্টকালীন, সে কথা জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী।

সমস্ত ধরনের পশু রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল ভারতের জাহাজমন্ত্রক। কোনও বন্দর থেকেই কোনও পশু রফতানি না করার এই নির্দেশ অনির্দিষ্টকালের জন্য লাগু করা হয়েছে। জাহাজমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “আমাদের কাছে খবর ছিল, কচ্ছের দীনদয়াল পোর্ট ট্রাস্টের অন্তর্গত টুনা বন্দর থেকে ছাগল ও ভেড়া রফতানি করা হচ্ছে। আমরা সমস্ত বন্দর থেকে পশু রফতানি নিষিদ্ধ করেছি। এই পশুগুলি দুবাইয়ে পাঠানো হচ্ছিল। দুবাইয়ে পাঠানো মানে, সেখানে এই পশুগুলিকে জবাই করা হবে। জনগণের মধ্যে থেকে দাবি উঠেছে, জবাইয়ের জন্য পশু বিদেশে রফতানি করা যাবে না।”

আরব আমিরশাহীতে ইদুজ্জোহা এবং বকরি ইদের সময়েই মূলত পশু রফতানি করা হয়ে তাকে। এই সময়ে গবাদি পশু ও উট ছাড়াও অন্যান্য পশু জবাই করা হয়ে থাকে সেখানে।

এ বছর বকরি ইদের সম্ভাব্য তারিখ ২২ অগাস্ট।

এ নিষেধাজ্ঞা যে অনির্দিষ্টকালীন, সে কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, “পশুরক্ষা সংগঠন ও পশু অধিকার সংগঠনের তরফ থেকে বহু অভিযোগ এসেছে। বহুবার এই সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা দেখাও করেছেন। কয়েকদিন আগে নাগপুর বিমানবন্দর থেকে পশু রফতানির বিরুদ্ধে বিক্ষোভও দেখানো হয়েছে। সে কারণে আমরা পশু রফতানির ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছি। এ ব্যাপারে গুজরাট সরকারের একটি প্রতিনিধিদলও পাঠানো হয়েছিল।”

এই সিদ্ধান্তগ্রহণের সময়টা খুব আশ্চর্যের। এন ডিএ সরকারের সময়কালে পশুরফতানি ব্যাপক বেড়েছে। ২০১৩-১৪ সালে যেখানে পশু রফতানি হয়েছিল ৬৯.৩০ কোটি টাকার, ২০১৬-১৭ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২৭.৪০ কোটি টাকায়। ২০১৭-১৮ সালে রফতানির পরিমাণ কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৪১১.০২ কোটি টাকা। এই তথ্য দিয়েছে খোদ বাণিজ্য মন্ত্রক।

এই অঙ্কের বেশিটাই এসেছে ছাগল ও ভেড়া রফতানির মাধ্যমে। ২০১৫-১৬ সালে ৪৬০.৭৮ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ সালে ৫১৯.০৩ টাকা, এবং ২০১৭-১৮ সালে ৪০১.৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতেই ২০১৫-১৬র আর্থিক বছরে ৩৩৬.২০ কোটি টাকা, ২০১৬-১৭ সালে ৩৬৯.৫০ কোটি টাকা ও ২০১৭-১৮ সালে ২১১ কোটি টাকার ছাগল ও ভেড়া রফতানি করা হয়েছিল। নেপালে এই বছরগুলিতে রফতানি অঙ্কের পরিমাণ যথাক্রমে ১০৭.৯৭ কোটি টাকা, ১৪৭.৩৭ কোটি টাকা এবং ১৮৭.৮৩ কোটি টাকা।

সম্ভবত এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবেই জাহাজমন্ত্রকের তরফ থেকে গুজরাটের বন্দরগুলি থেকে যন্ত্রচালিত দেশীয় জলযান চলাচলের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ ধরনের জলযানগুলিকে মাত্র পাঁচ দিন আগেই নির্দিষ্ট শর্তাবলী মেনে পশু রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

ভারতের উপকূলে দেশীয় জলযান চলাচলের ব্যাপারে ১ জুন থেেক ৩১ অগাস্ট পর্যন্ত সাধারণভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে খারাপ আবহাওয়ার জন্য। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পশু রফতানি সম্পূর্ণ আটকাতে জলযান চলাচলে এই সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

Web Title: Livestock export ban by shipping ministry

Next Story
বিজেপির হোর্ডিং বলছে, আমরা বাংলাদেশী মুসলমানদের তাড়াব, বাঙালিদের নয়
The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com