বালাকোটে বহুচর্চিত সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর ভারত-পাকিস্তান পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। ওই সার্জিক্যাল হামলার পর পাকিস্তান পরমাণু যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই খবর তাঁকে ভারতই দেয়। তৎকালীন ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তাঁকে ওই খবর দিয়েছিল। এবার এই তথ্য ফাঁস করলেন প্রাক্তন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তিনি জানান, স্বরাজ তাঁকে জানিয়েছিল যে ভারতও পালটা প্রতিরোধের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
তাঁর সাম্প্রতিকতম বই, 'এক ইঞ্চিও ছাড় নয়: আমেরিকার জন্য লড়তে ভালোবাসি'-এ পম্পেও একথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবারই বইটি বাজারে এসেছে। তাতে পম্পেও জানিয়েছেন, স্বরাজের সঙ্গে যখন তাঁর কথা হয়েছিল, সেই সময় তিনি হ্যানয়ে ছিলেন। ২৭-২৮ ফেব্রুয়ারি, দুই দিন ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে হ্যানয়ে বৈঠক চলছিল। সেই সময় পরমাণু যুদ্ধ এড়াতে তাঁর নেতৃত্বাধীন মার্কিন বিদেশ দফতর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বলেই পম্পেও তাঁর বইয়ে লিখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্বরাজের কাছ থেকে ওই কথা শোনার পর রাতভর তিনি ও তাঁর দফতরের লোকজন নয়াদিল্লি এবং ইসলামাবাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। লক্ষ্য ছিল একটাই, যেন তেন প্রকারেণ পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা এড়ানো।
বইটিতে পম্পেও আরও লিখেছেন, 'আমি মনে করি ২০১৯-এ ভারত-পাকিস্তানের শত্রুতা পরমাণু যুদ্ধের কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছিল, সেই ব্যাপারে বাকি বিশ্ব জানে না। সত্যিটা হল, আমিও বিষয়টি সঠিকভাবে জানি না। শুধু এটুকু জানি যে, দু'দেশ পরমাণু যুদ্ধের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল।' পম্পেওয়ের এই দাবি নিয়ে অবশ্য মুখ খুলতে রাজি হয়নি বিদেশ মন্ত্রক।
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলো পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার জবাব দিতে পাকিস্তানের বালাকোটে উড়ে গিয়েছিল। হামলা চালিয়েছিল জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ শিবিরে। ওই হামলায় ৪০ জন সিআরপিএফ জঙ্গি প্রাণ হারিয়েছিল।
আরও পড়ুন- BBC-র মালিক কে, কীভাবে বিবিসির কাজ চলে?
বইয়ে পম্পেও লিখেছেন, 'আমি তখন ভিয়েতনামের হ্যানয়ে ছিলাম। সেই রাত আমি কখনও ভুলব না। সেই সময় পরমাণু অস্ত্র নিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার বৈঠক চলছিল। কিন্তু, সেই বৈঠক তখন যথেষ্ট ছিল না। কারণ, উত্তর সীমান্তে কাশ্মীর নিয়ে বিরোধের কারণে সেই সময় ভারত-পাকিস্তান পরস্পরকে হুমকি দিতে শুরু করেছিল।'
Read full story in English