scorecardresearch

বড় খবর

মহামারী অতীত, তবুও প্রাক-কোভিডের চেয়ে ১০০ দিনের কাজের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী-ই

তবে, মহামারীকালে অর্থাৎ ২০২০-২১ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে কাজের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি।

pandemic eases but NREGS demand still higher than pre-Covid era
এখনও তুঙ্গে ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজের চাহিদা।

গত অর্থবর্ষে কোভিডবিধি নিষেধ শিথিল হয়েছিল। তা সত্ত্বেও মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত প্রকল্পের (MGNREGS) অধীনে অদক্ষ শ্রমিকদের কাজের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখীই ছিল। যদিও তা ২০২০-২১ অর্থবর্ষের তুলনায় কম। চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুসারে, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে দেশজুডে় ৭.২ কোটিরও বেশি পরিবার থেকে ১০.৫৫ কোটি মানুষ এমজিএমআরইজিএস-র আওতায় কাজ করেছেন।

২০০৬ সালে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত প্রকল্প চালু হয়। পরিসংখ্যানের নিরিখে এই প্রকল্পের চাহিদা সর্বোচ্চ ছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে। ওই সময়ই দেশে কোভিডের জেরে কঠোর লকডাউন কার্যক ছিল। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে এমজিএমআরইজিএস-র আওতায় ৭.৫৫ কোটি পরিবারের ১১.১৯ কোটি মানুষ কাজ পেয়েছিলেন। অর্থাৎ, এর পরের অর্থবছরে (২০২১-২২) এমজিএমআরইজি প্রকল্পে কাজের চাহিদা ছিল দজ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

গ্রামীণ আয় নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত প্রকল্পের গুরুত্ব ছিল। কোভিডে যা একলাফে অনেকটাই বেড়ে যায়। করোনা লকডাইনের আগে অর্থাৎ ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫.৪৮ কোটি, ২০১৮.১৯ অর্থবছরে ৫.১২ কোটি ও ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে ৫.১২ কোটি পরিবার এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন।

এমজিএমআরইজিএস-এর অধীনে, প্রতিটি গ্রামীণ পরিবার একটি আর্থিক বছরে কমপক্ষে ১০০ দিনের মজুরি কর্মসংস্থানের অধিকারী। করোনা মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য এই প্রকল্পটি একটি সুরক্ষাকবচ হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে গোটা দেশে মোট ৩৫৮.৬৭ কোটি কর্মদিবস তৈরি হয়েছিল, যা ২০২২-২১ সালের তুলনায় খানিকটা কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৮৯.০৯ কর্মদিবস তৈরি হয়েছিল। তবে ২০১৯-২০-তে কর্মদিবসের হার ছিল ২৬৫.৩৫ কোটি।

২০২১-২২ সালে উৎপন্ন মোট ৩৫৮.৬৭ কোটি কর্মদিবসের মধ্যে ৫৪.৬৯ শতাংশ কাজ করেছেন মহিলারা। ২০২১-২২ অর্থবছরে পরিবার পিছু গড় কর্মদিবসের হার ৪৯.৭ দিন। ২০২০-২১ সালে যা ছিল ৫১.৫২ দিন। ২০২৯-২০ সালে ৪৮.৪ দিন।

দেশের ৩৪টি রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের মধ্যে পরিসংখ্যানের বিচারে এমজিএমআরইজিএস-এর সুবিধা সব থেকে বেশি পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ। ২০২০-২১ সালে ৯৪.৩৪ কোটি ও ২০২১-২২ সালে ৭৭.৫ কোটি পরিবার এই প্রকল্পে কাজ পেয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের মতোই ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় ২০২১-২২ সালে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, তেলেঙ্গানা, ছত্তিশগড়, ওডিশা, পাঞ্জাব ও ছত্তিশগড়েও এই প্রকল্পের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সংখ্যা কমেছে। যদিও উল্টো ছবি ধরা পড়েছে মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, তামিলনাড়ু, কেরলে। এইসব রাজ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরের তুলনায় ২০২১-২২ সালে ১০০ দিনের কাজে যুক্ত পরিবারের সংখ্যা বেড়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, মহারাষ্ট্রে, ১০০ দিনের কাজের সঙ্গে যুক্ত পরিবারের সংখ্যা ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ১৬.৮৪ লক্ষ থেকে ২০২১-২২ সালে ২০ লক্ষে পৌঁছেছে। কর্নাটকে এটি ২০২০-২১-য়ে ৩০.১৫ লাখ থেকে ২০২১-২২-য়ে ৩৩.৯১ লক্ষে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২১-২২ অর্থবর্ষের পাওয়া তথ্যগুলি প্রাথমিক হিসাব, সরকারি খাতায় এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পরে এই সংখ্যার সংশোধন হতে পারে।

Read in English

Stay updated with the latest news headlines and all the latest General news download Indian Express Bengali App.

Web Title: Pandemic eases but nregs demand still higher than pre covid era