‘সেনা-কূটনৈতিকস্তরের আলোচনা চলছে, ইন্দো-চিন বিরোধের সমাধান আবশ্যক’

'ভারতের আত্মসম্মানে আঘাত লাগে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হবে না। প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমরা সবসময় ভালো সম্পর্ক রেখে এসেছি, এবং তা জারি রাখতেই আগ্রহী।'

By: Krishn Kaushik New Delhi  Updated: May 31, 2020, 02:16:37 PM

করোনা আবহে উত্তপ্ত লাদাখের ইন্দো-চিন সীমান্ত। দুই দেশই সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সেনা ও সসমরাস্ত্র বাড়াচ্ছে। ফলে যুদ্ধের আশঙ্কা গভীর হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছেন, ইন্দো-চিন বিরোধ নিয়ে সেনা ও কূটনৈতিকস্তরে আলোচনা চলছে। সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম আজ তক-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজনাথ সিং বলেছেন, ‘ভারত কখনই উত্তেজনা বজায় রাখতে চায় না। সেনা পর্যায়ে আলোচনার প্রয়োজনে হলে তা করতে হবে। দরকার হলে কূনৈতিক পর্যায়েও আলোচনা হতে পারে। কিন্তু, সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।’ তিনি জানান, ‘সেনা ও কূটনৈতিকস্তরে আলোচনা চলছে। কূটনৈতিকস্তরে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চিনও আগ্রহী।’

লিপুলেখ নিয়ে নেপালের সঙ্গে বিরোধও মিটে যাবে বলে আশাবাদী প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর কথায়, ‘নেপাল আমাদের পরিবারের সদস্য়। ভারতের ভাই নেপাল। আশা করি সমস্যা মিটে যাবে। তবে প্রয়োজনে উভয় তরফে বসে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে।’

ভারত-চিন বিরোধের মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে রাজনাথ বলেন, ‘শুক্রবারই মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিবের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁকে বলেছি, বারত-চিন নিজেরাই সমস্যার সমাধান করবে। প্রয়োজনে সেনা ও কূটনৈতিকস্তরে আলোচনার মাধ্যমে তা করা হবে। যে প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।’ প্রকত নিয়ন্ত্রণ রেখা ঘিরে দু’দেশের ধারনা পৃথক। তাই বারংবার উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘সত্যকে এড়ানো যায় না। তবে ১৯৬২ সালের মত পরিস্থিতি তৈরি হবে বলেও কেউ মনে করছে না।’

দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে রাজনাথ সিং বলেছেন, ‘ভারতের আত্মসম্মানে আঘাত লাগে এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হবে না। প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমরা সবসময় ভালো সম্পর্ক রেখে এসেছি, এবং তা জারি রাখতেই আগ্রহী।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পূর্ব লাদাখে প্যাগং এলাকায় মুখোমুখি ভাবে অবস্থান করে ভারতীয় ও চিনা সেনা। লাদাখে অচলাবস্থা নিয়ে ভারত ও চিনের সামরিক বাহিনীর মধ্যে ৬ দফায় আলোচনার প্রয়াস চালানো হয়, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি। গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার উপর বিপুল পরিমাণে সেনা মোতায়েন করেছে চিন। এর পাল্টা হিসেবে বাড়তি সেনা মোতায়েন করছে ভারতও।

দুই প্রতিবেশীর মধ্যে যুদ্ধের আবাহ তৈরি হয়েছে। পিপলস লিবারেশন আর্মির উদ্দেশে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-র এর আগে স্পষ্ট বার্তায় জানান, ‘চরম সংকটের পরিস্থিতির কথা আগাম ভেবেই সেনার প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি বাড়াতে হবে। দ্রুততা ও দক্ষতার সঙ্গে জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করত হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্বার্থকে সবার আগে রক্ষা করা প্রয়োজন।’ গত সপ্তাহে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গেও দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর তিন প্রধানের আলোচনা হয়। জানা যায় ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যতক্ষণ চিন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে বেশি সেনা ও যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করবে, ভারতও পাল্লা দিয়ে সেনা-যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করবে। ভারতীয় সেনা কোনও মতেই পিছ-পা হবে না।

Read in English

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন

Get all the Latest Bengali News and West Bengal News at Indian Express Bangla. You can also catch all the General News in Bangla by following us on Twitter and Facebook

Web Title:

Rajnath sing sayes indo china lac situation must be resolved by military diplomatic talks

The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com.
Advertisement

ট্রেন্ডিং
কল্পতরু মমতা
X