৭৩ ছুঁই ছুঁই, ফের রেকর্ড পড়ল টাকার দাম!

অধিকাংশের বিশ্লেষণ বলছে, একদিকে যেমন মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। স্বভাবতই ভারতের তেল পরিশোধনকারী সংস্থাকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে মার্কিন ডলারের বিনিময়েই কিনতে হচ্ছে তেল।

By: Mumbai  Sep 12, 2018, 19:14:34 PM

ভারতীয় টাকার দাম পড়ছে, কেবলই পড়ছে। পাশাপাশি বাড়ছে পেট্রোল ডিজেলের দাম। দুইয়ের মধ্যে ব্যাস্তানুপাতিক সম্পর্কটা চেনা হয়ে গেছে খবরের কাগজের শিরোনাম কিংবা টিভির পর্দার ব্রেকিং-এ দেখে দেখে। এবং হ্যাঁ, টাকার দাম আরও কমল মার্কিন ডলারের নিরিখে। বুধবার এক মার্কিন ডলারের ভারতীয় মূল্য দাঁড়াল ৭২ টাকা ৯১ পয়সা। স্বাধীন ভারতে এটাই এখনও পর্যন্ত রেকর্ড কম দাম। মঙ্গলবার বাজার বন্ধের সময় টাকার দাম ছিল মার্কিন ডলার পিছু ৭২ টাকা ২০ পয়সা। বুধবার আরও কমে ৭২ টাকা ৯১ পয়সায় গিয়ে ঠেকল।

আরও পড়ুন, অদূর ভবিষ্যতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমার সম্ভাবনা নেই, দেখুন কেন

টাকার দামের ক্রমাগত পতনে চিন্তিত দেশের অর্থনীতিবিদরা। অধিকাংশের বিশ্লেষণ বলছে,  একদিকে যেমন মার্কিন ডলারের চাহিদা বাড়ছে, অন্যদিকে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। স্বভাবতই ভারতের তেল পরিশোধনকারী সংস্থাকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে মার্কিন ডলারের বিনিময়েই কিনতে হচ্ছে তেল। টাকার দাম পড়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে এইসব কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহকারী দেশগুলির মধ্যে ইরান অন্যতম। অথচ সেই ইরানের তেল সরবরাহের ওপরেই নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেক্ষেত্রে তেলের মন্দা দেখা দিতে পারে, এই আশঙ্কা থেকে সাত তাড়াতাড়ি বেশি পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনতে চাইছে বাকি দেশ। তাই ক্রমশ চাহিদা বাড়ায় দাম বাড়ছে তেলেরও। স্বাভাবিকভাবেই মার্কিন ডলারের তুলনায় পড়ছে ভারতীয় টাকার দাম।

ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলাররাও বলছেন, মার্কিন ডলারের চাহিদা এমনিতেই বাড়ছে। বিদেশ থেকে মার্কিন ডলারের বিনিময়ে তেল কিনতে হয় বিভিন্ন সংস্থাকে। এছাড়া চিনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার ফলে তারও ছাপ পড়ছে আন্তর্জাতিক বাজারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, টাকার দাম কমার ফলস্বরূপ ভারতীয় ব্যাঙ্কগুলো বাড়াতে পারে ঋণের ওপর সুদের হার।

আরও পড়ুন, পেট্রোল এবং ডিজেলে লিটার পিছু এক টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, টাকার দাম পড়ার পেছনে সবটাই “বাহ্যিক কারণ”। আন্তর্জাতিক সংকটকেও দায়ী করেছেন তিনি। আশ্বাস দিয়েছেন, দেশের আভ্যন্তরীণ অর্থনীতি মজবুত রয়েছে। তবে শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞরা প্রমাদ গুনছেন অন্য জায়গায়। তাঁরা বলছেন, মার্কিন মুদ্রার পাশাপাশি যদি প্রতিদ্বন্দ্বী অর্থনীতির চাহিদা বাড়ত, সেক্ষেত্রে টাকার দাম আরও পড়লেও চিন্তার তেমন কারণ ছিল না। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। মার্কিন ডলারের চাহিদাই কেবল চড়চড় করে বাড়ছে।

সম্প্রতি কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, দেশের বৃদ্ধির হার ৮ শতাংশকে ছাপিয়ে গেছে। বিরোধীরা অবশ্য জিজ্ঞেস করছেন, একই সাথে হু হু করে কমা টাকার দাম আর পেট্রোল-ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে দেশের বৃদ্ধির হার ৮ শতাংশে পোঁছতে পারে কী ভাবে? অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এরকম চলতে থাকলে খুব শিগগির দাম বাড়তে পারে খাদ্য পণ্যের।

Indian Express Bangla provides latest bangla news headlines from around the world. Get updates with today's latest General News in Bengali.


Title: Rupee hits record low: ৭৩ ছুঁই ছুঁই; ফের রেকর্ড পড়ল টাকার দাম!

Advertisement

Advertisement

Advertisement