বড় খবর


জল নেই কোথাও, ভয়াবহ সঙ্কটে তামিলনাড়ু

ঘন্টার পর ঘন্টা জলবিহীন অবস্থায় থাকার ফলে ক্রমাগত বাড়ছে রাগ এবং হতাশা। এরই মধ্যে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে পড়শিদের বেশি জল ধরে রাখার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় পিটিয়ে মারা হয়েছে সমাজকর্মী আনন্দ বাবুকে।

চেন্নাইয়ের কোনো এক শহরতলীতে গত সপ্তাহে নিজের বাড়ির বেসমেন্ট থেকে জল তুলতে সাম্প চালাতে গেলে বাধা দেন প্রতিবেশীরা। তাঁর হয়ে কথা বলতে গেলে তাঁর স্ত্রী সুবাসিনীর গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে আতিমুলম রামকৃষ্ণন নামে এক পড়শি। তামিলনাড়ুর স্পিকার পি ধনপালের ড্রাইভার রামকৃষ্ণনকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করে পুলিশ। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, চেন্নাইয়ের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সুবাসিনী। কিন্তু এই হিংসা তামিলনাড়ুর রাজধানীতে ভয়াবহ জল সঙ্কটের জ্বলন্ত নিদর্শন।

বৃষ্টির চিহ্ন নেই সারা রাজ্যে, শুকিয়ে আসছে সমস্ত জলাধার, এই অবস্থায় কাজের সময় কমিয়ে আনছে চেন্নাইয়ের বিভিন্ন আইটি কোম্পানি এবং রেস্তরাঁ, শহরের বাসিন্দারা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন ট্যাঙ্কার ভাড়া করার, এবং রাজ্য সরকারের তরফে যেসব বাড়িতে অবৈধভাবে জল টানা হচ্ছে, সেইসব জলের কানেকশন কেটে দেওয়া হচ্ছে।

এমন নয় যে সমস্যা শুধু চেন্নাইতেই। ঘন্টার পর ঘন্টা জলবিহীন অবস্থায় থাকার ফলে ক্রমাগত বাড়ছে রাগ এবং হতাশা, সরকারি ট্যাঙ্কারের সামনে বেড়েই চলেছে লাইন। এরই মধ্যে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে পড়শিদের বেশি জল ধরে রাখার চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় পিটিয়ে মারা হয়েছে ৩৩ বছর বয়সী সমাজকর্মী আনন্দ বাবুকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত কুমার (৪৮) একটি ওভারহেড ট্যাঙ্ক থেকে বড় বড় প্লাস্টিকের ড্রামে জল ভরার চেষ্টা করছিল। “বাবু প্রশ্ন তোলেন, যেখানে গোটা পাড়া জলের অভাবে হিমসিম খাচ্ছে, সেখানে একটা বাড়িতে এত অতিরিক্ত জল থাকবে কেন। তর্ক বাড়তে থাকে, এবং কুমার ও তার দুই ছেলে বাবুকে লাঠি এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারতে শুরু করে। এই আঘাতের ফলেই পরে মারা যান বাবু,” জানিয়েছেন তাঞ্জাভুর শহরের এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক, যাঁর ওপর দায়িত্ব ছিল শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ভিলার সাউথ কলোনিতে ঘটে যাওয়া এই খুনের তদন্তের।

ক্রমবর্ধমান সঙ্কটের মুখে বিরোধী দলনেতা তথা ডিএমকে প্রধান এম কে স্টালিন পুর প্রশাসন মন্ত্রী এস পি ভেলুমণির পদত্যাগ দাবি করেছেন, এবং বলেছেন তিনি স্বেচ্ছায় না সরলে মুখ্যমন্ত্রী ই কে পালানিস্বামীর উচিত তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করা। মাদ্রাস হাইকোর্টও সরকারের কাছে জল সঙ্কট সংক্রান্ত রিপোর্ট তলব করেছে।

শনিবার এক বিবৃতিতে স্টালিন জানতে চান, “জলের অভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে আইটি সংস্থাগুলি তাদের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলছে। দুর্নীতিতে নিমজ্জিত পুর প্রশাসন মন্ত্রী কি এর জবাব দিতে পারেন?”

এদিকে রাজ্যের এআইডিএমকে সরকার নির্দেশ দিয়েছে, চলতি আর্থিক বছরে ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাধার পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের দাবি, রাজ্যের ২৯ টি জেলায় এই প্রকল্প চালু হলে গ্রাউন্ডওয়াটার স্তরের উন্নতি হবে। অন্যদিকে, চেন্নাই নগর জল কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, “জল চোরদের” বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার। এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বহু বাড়িতে শক্তিশালী সাকশন মোটর দিয়ে জলের পাইপ থেকে অবৈধভাবে জল টানার ফলে কেটে দেওয়া হয়েছে সেইসব বাড়ির জলের কানেকশন।

জলের অভাবে ভুগছে সাদার্ন রেলওয়েও। দূরদূরান্ত থেকে চেন্নাইতে জল নিয়ে আসা হচ্ছে যাত্রীদের জন্য। চেন্নাই মেট্রো ওয়াটার সাপ্লাই ও সিউয়ারেজ বোর্ডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর টি এন হরিহরণ অবশ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি ততটা ভয়াবহ নয় যতটা ভাবা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, চেন্নাই মেট্রো ওয়াটার থেকে দৈনিক সরবরাহের পরিমাণ ছিল ৮৩০ মিলিয়ন লিটার (এমএলডি)। “এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৫২৫ এমএলডি। রেড হিলস, শোলাভরম বা চেমাবরমবক্কম লেকের মতো জলের উৎসগুলি একদম শুকিয়ে গেছে। কিন্তু আমরা অন্যান্য উৎস ব্যবহার করে জল সরবরাহ করে যাচ্ছি, নভেম্বর পর্যন্ত অসুবিধে হবে না।” হরিহরণ আরও বলেন, আগামী মাসের মধ্যে এক পশলা ভারি বৃষ্টি হলেই সম্ভবত গ্রাউন্ডওয়াটারের স্তর উঠে আসবে।

Read the full story in English 

Web Title: Tamil nadu water crisis clashes erupt in chennai it firms reduce operations

Next Story
ডাক্তার নিগ্রহে ১০ বছরের জেল, ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা, প্রস্তাব খসড়া আইনে
The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com