বড় খবর

বাংলার প্রথম দফার ৩০ আসনে কে এগিয়ে-কে পিছিয়ে? গত বিধানসভা-লোকসভার ফলাফলের নিরিখে…

শনিবার রাজ্যের প্রথম দফায় নির্বাচন। জঙ্গলমহল অধ্যুষিত ৫ জেলার ৩০ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার রাজ্যের প্রথম দফায় নির্বাচন। জঙ্গলমহল অধ্যুষিত ৫ জেলার ৩০ আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৯ লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে এি ৩০ আসনের মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রেই এগিয়ে ছিল গেরুয়া শিবির। বাংলায় ভোটের ইতিহাসে সেবার বিজেপির উত্থান ছিল নজরকাড়া। তারপর কেটে গিয়েছে দু’টি বছর। জঙ্গলমহলে কী নিজেদের আদিপত্য বজায় রাখতে পারবে পদ্ম ব্রিগেড? নাকি পাপড়ি মেলবে জোড়া-ফুল? নজর সেদিকেই।

যে ৩০ আসনে শনিবার ভোট রয়েছে একনজরে দেখে নেওয়া যাক ২০১৬ বিধানসভা ও ২০১৯ লোকসভায় ওইসব কেন্দ্রে কোন দল এগিয়ে ছিল।

পূর্ব মেদিনীপুর-
শনিবার এই জেলার ৭ আসনে ভোট রয়েছে। কেন্দ্রগুলো হল, কাঁথি উত্তর, কাঁথি দক্ষিণ, ভগবানপুর, খেজুরি, এগরা ও রামনগর।

কাঁথি উত্তর– ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে জয় পায় তৃণমূল। ব্যবাধান ছিল প্রায় ১৮, ৫৭৬। ২০১৯ লোকসভা ভোটের ফল অনুসারেও ১৩,০৭৪ ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস৷

কাঁথি দক্ষিণ– ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে জয় পায় তৃণমূল। ব্যবাধান ছিল প্রায় ৩৩, ৮৯০। লোকসভা ভোটের ফলের নিরিখেও এই কেন্দ্র থেকেও তৃণমূলই ১৯,০১৫ ভোটে এগিয়ে ছিল।

ভগবানপুর– গত বিধানসভায় এই কেন্দ্রে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান ছিল ৩১, ৯৪৩। ২০১৯ লোকসভাতেও এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও ৩৭,৩৯১ ভোটে এগিয়ে জোড়া-ফুল শিবির।

পটাশপুর– ২০১৬-র বিধানসভায় ২৯.৮৮৮ ভোট এই কেন্দ্রে জয় পান তৃণমূল প্রার্থী। দু’বছর আগের লোকসভাতেও এই কেন্দ্র থেকে ১৪,৩৫৫ ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল৷

খেজুরি– ২০১৬ বিধানসভায় এই কেন্দ্রে ৪২,৪৮৫ ভোট জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। লোকসভা নির্বাচনের ফল অনুযায়ী ৫,৫৫৩ ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল৷

এগরা– ২৫,৯৫৬ ভোটে এগরায় গত বিঘধানসভায় জয় পান তৃণমূল প্রার্থী। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা ফলের নিরিখে় এই কেন্দ্রে এগিয়ে যায় বিজেপি। এগিয়ে থাকার ব্যবধান ৮,৬৯৪।

পশ্চিম মেদিনীপুর-
প্রথম পর্যায়ের এই জেলার ৬টি আসনে ভোট গ্রহণ হবে। কেন্দ্রগুলো হল, দাঁতন, কেশিয়াড়ি, গড়বেতা, শালবনী, মেদিনীপুর ও খড়গপুর।

দাঁতন– ২০১৬ সালের এই কেন্দ্রে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান ছিল ২৯,২৬০। তবে, লোকসভার নিরিখে দাঁতনে বিজেপি এগিয়ে ছিল ৬,৬৮৯ ভোটে৷

কেশিয়াড়ি– গত বিধানসভায় এই কেন্দ্রে তৃণমূল জিতেছিল। জয় পায় ৪০,৭৪৯ ভোট। ২০১৯ লোকসভার ফলাফল অনুসারে এই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি এগিয়ে ছিল ১০,৮৭৪ ভোটে৷

গড়বেতা– ৬১,১৫৭ ভোট গত বিধানসভায় জয় পান তৃণমূল প্রার্থী। লোকসভা ভোটের ফলের নিরিখে গড়বেতাতেও বিজেপি এগিয়ে ছিল ৬,৮১১ ভোটে৷

শালবনী– ২০১৬ বিধানসভায় এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী জয় পান ৫২,৯০২ ভোটে। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ীও এই কেন্দ্র থেকে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল।

মেদিনীপুর– লোকসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখে এই কেন্দ্রে ১৬,৬৪১ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি৷ তবে, গত বিধানসভায় ৩২,৯৮৭ ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল।

খড়গপুর– গত বিধানসভায় এই কেন্দ্রে তৃণমূল জয় পায় ৭৯,০৪৯ ভোটের ব্যধানে। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী এই কেন্দ্রে তৃণমূল এগিয়ে ছিল ৯,৪৬৭ ভোটে।

ঝাড়গ্রাম
এই জেলার চার কেন্দ্রে শনিবার ভোট রয়েছে। কেন্দ্রগুলো হল- বিনপুর, নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম।

বিনপুর– ২০১৬ বিধানসভার নিরিখে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী জয় হাসিল করেন ৪৯.৩২৩ ভোটের ব্যবধানে। লোকসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখেও ৩,০৫৯ ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস৷

নয়াগ্রাম– গত বিধানসভায় এই কেন্দ্রে জয় পেয়েছিল তৃণমূল। জয়ের ব্যবধান ছিল ১৩,৫৮৯। কিন্ত লোকসভায় এই কেন্দ্রে ৩,৩৩৮ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি৷

গোপীবল্লভপুর– পাঁচ বছর আগে ৪৯,৫৫৮ ভোটে জয় পান তৃণমূল প্রার্থী। তবে লোকসভার নিরিখে এই কেন্দ্রে ৬,৮২৯ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি৷

ঝাড়গ্রাম– ৫৫,২২৮ ভোট ২০১৬ সালে তৃণমূল প্রার্থী এদিয়ে গেলেও লোকসভার নিরিখে এই কেন্দ্রে ১৬৪৩ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি৷

বাঁকুড়া-
শনিবার এই জেলার চারটি আসনে ভোটগ্রহণ৷ কেন্দ্রগুলো হল- রায়পুর, রানিবাঁধ, ছাতনা, শালতোড়া।

রায়পুর– গত বিধানসভাতেও ২৬,৭২২ ভোটে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। লোকসভার ফলে নিরিখেও এই কেন্দ্রে বিজেপি এগিয়ে ছিল ৩৩৫১ ভোটে৷

রানিবাঁধ– ২০১৬ সালে ২৩,৩১৩ ভোটের ব্যবধানে বাঁকুড়ার এই কেন্দ্রেও জোড়া-ফুল জয় পেলেও লোকসভার ফলে ১৫,৮১৪ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি৷

ছাতনা– পাঁচ বছর আগে এই কেন্দ্রে জয় পায় আরএসপি প্রার্থী। তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ২.৪১৭। ।লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই কেন্দ্রেও বিজেপি এগিয়ে ছিল ৩১.১৮২ ভোটে৷

শালতোড়া– এি কেন্দ্রে গত বিধানসভায় ১২.৫২৩ ভোটে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলো তৃণমূল। তবে, লোকসভা নির্বাচনে এই বিধানসভায় তৃণমূলের থেকে ১৫০৫৬ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি৷

পুরুলিয়া-
এই জেলার ৯টি বিধানসভাতেই প্রথম দফায় শনিবারই ভোট গ্রহণ হবে৷ কেন্দ্রগুলো হল- বাঘমুন্ডি, বলরামপুর, বান্দোয়ান, জয়পুর, পুরুলিয়া, মানবাজার, কাশীপুর, পারা, রঘুনাথপুর।

বাঘমুন্ডি– এই কেন্দ্রে ২০১৬ সালে ৮,৫৮৭ ভোটে জয় পায় তৃণমূল। তবে, লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই কেন্দ্র থেকে ৫২,৭০৮ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি৷

বলরামপুর– ১০,২০৪ ভোটের ব্যবধানে এই কেন্দ্র থেকে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী। কিন্তু, দু’বছর আগে ৩৫,৪৬৯ ভোটে তৃণমূলকে পিছনে ফেলে দেয় বিজেপি৷

বান্দোয়ান– বিজেপি এই কেন্দ্রে লোকসভা ভোটের নিরিখে ২৯৭০ ভোটে এগিয়ে গেলেও গত বিধানসভায় বান্দোয়ানে ২০,৩০৭ ভোটে জয় পায়েছিল তৃণমূল।

জয়পুর– ২০১৬তে এই কেন্দ্রে ৮,৭৬৩ ভোটে জিতেছিল তৃণমূল। যদিও, লোকসভায় এখানে ৩১,৭৪৪ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি৷

পুরুলিয়া-কংগ্রেস ২০১৬-তে এই বিধানসভা ৪,৯৯১ ভোটে ব্যববধানে জয় ছিনিয়ে নিলেও লোকসভার ফলাফল অনুসারে এই কেন্দ্রেও বিজেপি এগিয়ে ছিল ৩৬,৪৯৭ ভোটে৷

মানবাজার– বিধানসভার ধারা বজায় রেখে এই কেন্দ্রটিতে লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ১০,৫৮৩ ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল কংগ্রেস৷ ২০১৬-তে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান ছিল ৯,৬৭৫।

কাশীপুর– পাঁচ বছর আগে এই কেন্দ্রে তৃণমূল জয় পেয়েছিল ১৯,৫৭৮ ভোটে। লোকসভায় বিজেপি তৃণমূলের থেকে এগিয়ে ছিল ১৬,১৫৪ ভোটে৷

পারা– ১৩,৮৭৮ ভোটে তৃণমূল এই কেন্দ্রে ২০১৬ বিধানসভায় জয় পেলেও লোকসভায় এই আসনে ৪১,২৪২ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি৷

রঘুনাথপুর– ১৬,১৪২ ভোটে তৃণমূল এই কেন্দ্রে ২০১৬-তে জয় পেলেও গত লোকসভার ফলাফলের নিরিখে এই আসনে ৪২,৬৩৩ ভোটে এগিয়ে ছিল বিজেপি৷

জঙ্গলমহলে লড়াই এবার হাড্ডাহাড্ডি। অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতির অন্যতম ভরকেন্দ্র অধিকারীর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যই এখন পদ্ম পতাকাতলে। জঙ্গলমহলে বারে বারে সভা করেছেন মোদী-অমিত শাহ-নাড্ডাদের মতো বিজেপির হেভিওয়েট নেতৃত্ব। ফলে ‘আসল পরিবর্তন’ নাকতি ‘প্রত্যাবর্তন’- সেদিকেই একন নজর।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলা এখন টেলিগ্রামে, পড়তে থাকুন

Get the latest Bengali news and General news here. You can also read all the General news by following us on Twitter, Facebook and Telegram.

Web Title: Which party ahead and who is behind in the first phase of bengal vote according to results of the last assembly lok sabha

Next Story
পুষ্পস্তবক-গার্ড অফ অনারে মোদী বরণ ঢাকায়, ভ্যাকসিনে বড় প্রতিশ্রুতি হাসিনাকে
The moderation of comments is automated and not cleared manually by bengali.indianexpress.com