/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/08/astrology-belief-2026-01-08-20-24-51.jpg)
Astrology Belief: শুভ কাজে বেরোনোর নিয়ম জেনে নিন।
Astrology Belief: রোজকার জীবনে আমরা এমন বহু বিশ্বাসের মধ্যে দিয়ে চলাফেরা করি, যেগুলি ছোটবেলা থেকেই আমাদের মনে গেঁথে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির বড়দের মুখে শোনা সেই কথাগুলি অনেক সময় যুক্তির বাইরে হলেও আমরা সেগুলি মেনে চলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। শুভ কাজে বেরোনোর সময় পিছু ডাকা ঠিক নয়—এমন বিশ্বাস তারই একটি উদাহরণ। কেউ কোথাও বেরোতে উদ্যত হলেই বাড়ির কেউ হঠাৎ পিছন থেকে ডাকলে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে সঙ্গে সঙ্গে থেমে যান, কেউ আবার জল খেয়ে বা কিছুক্ষণ বসে থেকে তারপর বেরোন।
এই বিশ্বাসের শিকড় বহু প্রাচীন। আমাদের সমাজে যাত্রা বা শুভ কাজ শুরুকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। মনে করা হয়, কাজ শুরু করার মুহূর্তটি যদি অশান্ত বা বিঘ্নিত হয়, তা হলে তার প্রভাব পড়ে পুরো কাজে। সেই কারণেই যাত্রার আগে হাঁচি, পিছন থেকে ডাকা, হঠাৎ বাধা পাওয়া—এই সব কিছুকে অশুভ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, কোনও ব্যক্তি যখন কোনও কাজে বা যাত্রায় বেরোন, তখন তাঁর মন ও মনঃসংযোগ একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে স্থির থাকে। সেই মুহূর্তে পিছু থেকে ডাকা মানে সেই মনঃসংযোগে ছেদ পড়া। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়, যাত্রার সময় মন বিচলিত হলে গ্রহগত শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর ফলেই কাজে বিঘ্ন, দেরি বা অপ্রত্যাশিত সমস্যার আশঙ্কা তৈরি হয়।
আরও পড়ুন- কেউ স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডি পেরোন না, কেউ আবার সকলের ওপর ছড়ি ঘোরান! ১২ রাশির খারাপ দিকগুলি জানুন
বিশেষ করে শুভ কাজ, যেমন বিবাহ, পরীক্ষা, নতুন কাজের সূচনা বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় এই বিশ্বাস আরও জোরালো হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, শুভ মুহূর্তে যাত্রা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময়ে যদি কাউকে পিছন থেকে ডাকা হয়, তা হলে যাত্রার শুভত্ব নষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হয়। এর ফলে কাজটি ভেস্তে যেতে পারে বা কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
আরও পড়ুন- মনের মানুষের 'চোখের তারা', প্রেম এসে কড়া নাড়ে এই ৩ রাশির মনের দরজায়
তবে শাস্ত্র এটাও স্বীকার করে যে, বাস্তব জীবনে পিছন থেকে ডাকা একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। জরুরি প্রয়োজনে কাউকে ডাকতেই হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। অনেক জ্যোতিষীর মতে, যদি পিছু ডাকা হয়, তা হলে কিছুক্ষণ থেমে দাঁড়িয়ে আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করলে অশুভ প্রভাব অনেকটাই কেটে যায়। কেউ আবার জল পান করা বা কয়েক মুহূর্ত বসে থাকার পর বেরোনোর পরামর্শ দেন।
আরও পড়ুন- মুখোশধারী মানুষদের বদ উদ্দেশ্য চট করে ধরে ফেলেন এই ৪ রাশি, অভিনয় এঁদের সামনে টেকে না!
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই বিশ্বাসের কোনও সরাসরি প্রমাণ নেই। বিজ্ঞান বলছে, দুর্ঘটনা বা অঘটন নির্ভর করে মানুষের সতর্কতা, পরিস্থিতি এবং পরিবেশের ওপর। তবু মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যদি কেউ বিশ্বাস করেন যে পিছু ডাকা অশুভ, তা হলে সেই বিশ্বাস থেকেই তাঁর মনে ভয় ও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। সেই অস্থিরতাই ভুল সিদ্ধান্ত বা অসতর্কতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আরও পড়ুন- একবার কষ্ট পেলে আর ফিরে তাকান না যে ৫ রাশি, কাঁদানোর ফল হয় ভয়ঙ্কর
আসলে এই ধরনের বিশ্বাস মানুষের মনকে সতর্ক করে তোলে। যাত্রার আগে শান্ত থাকা, মনোযোগ বজায় রাখা এবং তাড়াহুড়ো না করা—এই শিক্ষাই লুকিয়ে রয়েছে এই প্রচলিত ধারণার ভিতরে। তাই এটিকে নিছক কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, আবার অন্ধভাবে ভয় পাওয়ারও প্রয়োজন নেই।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শুভ কাজে বেরোনোর সময় পিছু ডাকা নিয়ে জ্যোতিষশাস্ত্রে একটি সতর্কতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এটি মানুষের মনোসংযোগ ও মানসিক স্থিতির সঙ্গে যুক্ত। বিশ্বাস করলে সতর্ক থাকুন, আর না করলেও শান্ত এবং সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় কথা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us