/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/31/planetary-dosha-remedy-2026-01-31-14-10-14.jpg)
Planetary Dosha Remedy: গ্রহের কুপ্রভাব কাটানোর উপায় জেনে নিন।
Planetary Dosha Remedy: জীবনের নানা সমস্যার পিছনে অনেক সময়ই জ্যোতিষশাস্ত্রের কোষ্ঠীতে গ্রহের অবস্থানকে দায়ী করা হয়। হঠাৎ করে কাজ আটকে যাওয়া, পরিশ্রম করেও ফল না পাওয়া, মানসিক অস্থিরতা বা সম্পর্কের টানাপোড়েন—এসবের নেপথ্যে অনেক ক্ষেত্রে গ্রহের কুপ্রভাব কাজ করে বলে মনে করা হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী, জন্মছকে কোনও গ্রহ দুর্বল বা অশুভ অবস্থানে থাকলে তার প্রভাব জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে শুরু করে।
অনেকেই মনে করেন গ্রহদোষ কাটাতে দীর্ঘ সময় ধরে জপ-তপ, পূজা বা জটিল আচার পালন করতে হয়। কিন্তু শাস্ত্র কেবল কঠিন উপায়ের কথাই বলে না, বরং ব্যস্ত জীবনের কথা ভেবে কিছু সহজ প্রতিকারের কথাও উল্লেখ করে। তার মধ্যে অন্যতম হল প্রতিদিনের স্নানের জলে নির্দিষ্ট কিছু বস্তু মিশিয়ে স্নান করা। এই পদ্ধতি সহজ হলেও অত্যন্ত কাজের বলে মনে করা হয়।
কোন গ্রহের জন্য কী মেশাবেন
সূর্য
সূর্য গ্রহ আমাদের আত্মবিশ্বাস, ক্ষমতা ও নেতৃত্বের প্রতীক। কোষ্ঠীতে সূর্য শক্তিশালী হলে ব্যক্তি প্রভাবশালী এবং দৃঢ়চেতা হন। কিন্তু সূর্য দুর্বল হলে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা দেয় এবং কর্মক্ষেত্রে বারবার বাধার সম্মুখীন হতে হয়। শাস্ত্র মতে, স্নানের জলে সামান্য এলাচের গুঁড়ো বা কেশর মিশিয়ে স্নান করলে সূর্যের কুপ্রভাব প্রশমিত হয় এবং ব্যক্তিত্বে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
আরও পড়ুন- নতুন বছরে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কবে, প্রথম গ্রহণ কখন, ভারত থেকে দেখা যাবে কি?
চন্দ্র
চন্দ্র গ্রহ মানুষের মন ও আবেগের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। চন্দ্র দুর্বল হলে মন অস্থির থাকে, সিদ্ধান্তহীনতা বাড়ে এবং আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। শাস্ত্র অনুসারে, স্নানের জলে শঙ্খের গুঁড়ো বা পঞ্চগব্য মিশিয়ে স্নান করলে চন্দ্র শান্ত হয় এবং মানসিক স্থিরতা ফিরে আসে।
আরও পড়ুন- জয়া একাদশীতে বিরাট যোগ, কোন পূজায় মিলবে সুখ-শান্তি?
মঙ্গল
মঙ্গল গ্রহ শক্তি, সাহস ও কর্মক্ষমতার কারক। মঙ্গল দুর্বল হলে কাজে উদ্যম কমে যায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জড়তা দেখা দেয়। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, স্নানের জলে শুকনো আদা, লাল চন্দন বা মৌরী মিশিয়ে স্নান করলে মঙ্গলের শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং কর্মজীবনে গতি আসে।
আরও পড়ুন- মাঘী পূর্ণিমায় গঙ্গাস্নানে পুণ্য অর্জন নিশ্চিত, কবে পড়ছে এই বিশেষ তিথি, স্নানের শুভ সময়?
বুধ
বুধ গ্রহ বুদ্ধি, যোগাযোগ এবং বিশ্লেষণ ক্ষমতার প্রতীক। কোষ্ঠীতে বুধ দুর্বল হলে ব্যক্তি ভুল সিদ্ধান্ত নেন এবং পড়াশোনা বা ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়েন। জলে মধু, চালের গুঁড়ো বা আমলকি মিশিয়ে স্নান করলে বুধের কুপ্রভাব কমে এবং বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা বাড়ে বলে শাস্ত্র বিশ্বাস করে।
আরও পড়ুন- ১৬৫ বছর পর বিরল অর্ধকেন্দ্র যোগ, এই তিন রাশির ভাগ্যে খুলছে অর্থ ও প্রতিপত্তির দরজা
বৃহস্পতি
বৃহস্পতি গ্রহ ধন, জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে যুক্ত। বৃহস্পতি শক্তিশালী হলে জীবনে স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধি আসে। কিন্তু এই গ্রহ দুর্বল হলে অর্থকষ্ট ও মানসিক অশান্তি দেখা দেয়। স্নানের জলে মুলেঠি বা সাদা সর্ষে মিশিয়ে স্নান করলে বৃহস্পতি প্রসন্ন হন বলেই জ্যোতিষশাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
শুক্র
শুক্র গ্রহ প্রেম, সৌন্দর্য এবং দাম্পত্য সুখের প্রতীক। কোষ্ঠীতে শুক্র দুর্বল হলে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় এবং মানসিক অশান্তি বাড়ে। শাস্ত্র মতে, স্নানের জলে আমলকি, এলাচ বা জাফরান মিশিয়ে স্নান করলে শুক্রের অবস্থান উন্নত হয় এবং সম্পর্কের মাধুর্য ফিরে আসে।
শনি
শনি গ্রহ কর্মফলের সঙ্গে যুক্ত এবং একে শান্ত করা সহজ নয়। শনির কুপ্রভাবে জীবনে দেরি, বাধা ও পরিশ্রম বেড়ে যায়। তবে নিয়মিত স্নানের জলে কালো তিল মিশিয়ে স্নান করলে শনিদোষ কিছুটা হলেও প্রশমিত হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
রাহু ও কেতু
রাহু ও কেতু ছায়াগ্রহ হলেও তাঁদের প্রভাব অত্যন্ত শক্তিশালী। রাহুর কুপ্রভাবে ব্যক্তি সীমা লঙ্ঘন করতে পারেন এবং ভুল পথে পরিচালিত হন। কেতু দুর্বল হলে জীবনে দিশাহীনতা আসে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, স্নানের জলে লোবান মিশিয়ে স্নান করলে এই দুই গ্রহ শান্ত হয় এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রতিদিনের স্নানের মত একটি সাধারণ অভ্যাসের মধ্যেই শাস্ত্র এমন কিছু উপায় লুকিয়ে রেখেছে, যা নিয়মিত পালন করলে গ্রহের কুপ্রভাব ধীরে কমতে পারে। বিশ্বাস ও নিয়মিত অনুশীলনই এই প্রতিকারের মূল চাবিকাঠি।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us