/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/23/basant-panchami-vrat-katha-2026-2026-01-23-13-57-10.jpg)
Basant Panchami Vrat Katha 2026: বসন্ত পঞ্চমীর এই ব্রতকথা কি পড়েছেন?
Basant Panchami Vrat Katha: বসন্ত পঞ্চমী হিন্দু ধর্মের এক অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ তিথি। এই দিনটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়েছে বিদ্যা, জ্ঞান, সঙ্গীত ও শিল্পকলার দেবী মা সরস্বতীর আরাধনায়। বিশ্বাস করা হয়, বসন্ত পঞ্চমীর দিনই দেবী সরস্বতীর প্রকট হয়েছিলেন এবং তিনি মানবজাতিকে প্রদান করেছিলেন বাণী, জ্ঞান ও চেতনার আলো। সেই কারণেই এই দিনে মা সরস্বতীর পূজার পাশাপাশি ব্রতকথা পাঠ বা শ্রবণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, বসন্ত পঞ্চমীর ব্রতকথা না শুনলে বা পাঠ না করলে সরস্বতী পূজা সম্পূর্ণ ফলদায়ক হয় না। এই কাহিনির মাধ্যমে দেবীর মাহাত্ম্য, তাঁর করুণাশক্তি এবং মানবজীবনে জ্ঞানের অপরিসীম গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত শুভ, কারণ বিদ্যা ও বুদ্ধির উন্নতির জন্য মা সরস্বতীর আশীর্বাদ কামনা করা হয়।
দেবী ভাগবত পুরাণ
দেবী ভাগবত পুরাণ অনুসারে, সৃষ্টির সূচনালগ্নে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ মিলে মানবসৃষ্টির পরিকল্পনা করেন। মানুষের দেহ গঠিত হলেও সেই সৃষ্টিতে কোনও প্রাণের স্পন্দন, অনুভূতি কিংবা বাকশক্তি ছিল না। চারদিকে ছিল নিস্তব্ধতা, যেন পুরো বিশ্ব মৌন হয়ে আছে। এই নীরবতা ত্রিদেবের মনকে অস্থির করে তোলে। তাঁদের মনে হয়, সৃষ্টিতে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু অনুপস্থিত।
আরও পড়ুন- বসন্ত পঞ্চমীতে সরস্বতী পুজোয় কোন হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় করবেন বন্ধু ও বান্ধবীর মন জয়?
তখন বিষ্ণু ও মহেশের সম্মতি নিয়ে ব্রহ্মা তাঁর কমণ্ডলু থেকে পবিত্র জল আহরণ করেন এবং বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করে সেই জল চারদিকে ছিটিয়ে দেন। সেই জল থেকেই এক অপূর্ব, দিব্য শক্তির আবির্ভাব ঘটে। সেই শক্তি চতুর্ভুজা এক দেবীর রূপ ধারণ করেন। তাঁর একহাতে ছিল বীণা, অন্য হাতে পুস্তক, তৃতীয় হাতে জপমালা এবং চতুর্থ হাত ছিল আশীর্বাদ মুদ্রায়। ত্রিদেব বুঝতে পারেন, এই দেবীই সৃষ্টিকে পূর্ণতা দিতে সক্ষম।
আরও পড়ুন- আজ কেমন যাবে আপনার দিন? জানুন ১২ রাশির সম্পূর্ণ রাশিফল
ব্রহ্মার অনুরোধে দেবী যখন তাঁর বীণায় মধুর সুর তোলেন, তখন সেই ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে তিন ভুবনে। জীবজগৎ পায় বাকশক্তি, প্রকৃতি পায় গতি, আর মানুষের মনে জাগ্রত হয় চেতনা ও অনুভূতি। দেবীর বীণার প্রথম ধ্বনি ছিল ‘সা’, যা সঙ্গীতের প্রথম স্বর হিসেবে স্বীকৃত। এইভাবেই নীরব ব্রহ্মাণ্ড পেয়েছিল শব্দ ও প্রাণ।
আরও পড়ুন- বসন্ত পঞ্চমীতে নিবেদন করুন দেবী সরস্বতীর প্রিয় ৫টি ভোগ, মিলবে সাফল্যের আশীর্বাদ
এই অলৌকিক ঘটনার পর ব্রহ্মা দেবীকে 'বাগেশ্বরী' নামে অভিহিত করেন, কারণ তিনি বাণীর অধিষ্ঠাত্রী। বীণা ধারণ করার কারণে তিনি পরিচিত হন ‘বীণাপাণি’ নামেও। দেবী সরস্বতীর কৃপায় সৃষ্টিজগৎ পেয়েছিল ভাষা, বিদ্যা ও জ্ঞানচর্চার পথ। এই কারণেই বসন্ত পঞ্চমীর দিনে তাঁর পূজার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
আরও পড়ুন- সরস্বতী পুজোয় কেন খাগের কলম ব্যবহার হয়? জানুন এর ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কারণ
২০২৬ সালে বসন্ত পঞ্চমী পালিত হবে ২৩ জানুয়ারি। এই দিনে হলুদ বর্ণের পোশাক, ফুল ও ভোগ অর্পণ করে মা সরস্বতীকে আরাধনা করা হয়। হলুদ রং বসন্ত, শুভ শক্তি এবং জ্ঞানের প্রতীক। পূজার শেষে ব্রতকথা পাঠ করলে বিশ্বাস করা হয় যে সংসারে সুখ, শান্তি ও বিদ্যার বৃদ্ধি ঘটে। অনেক পরিবারে এই দিনেই শিশুদের বিদ্যারম্ভ সংস্কার করা হয়, যাতে তাদের শিক্ষাজীবন শুভভাবে শুরু হয়।
বসন্ত পঞ্চমীর ব্রতকথা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জ্ঞানই মানবজীবনের প্রকৃত আলো। ধন-সম্পদ ক্ষণস্থায়ী হলেও বিদ্যা ও প্রজ্ঞা চিরস্থায়ী। তাই এই পবিত্র দিনে মা সরস্বতীর আশীর্বাদে জীবন হোক আলোকিত, চিন্তা হোক নির্মল এবং ভবিষ্যৎ হোক উজ্জ্বল—এই কামনাই করেন ভক্তরা।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us