/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/10/double-eclipse-2026-2026-02-10-11-52-58.jpg)
Double Eclipse 2026: জোড়া গ্রহণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
Double Eclipse 2026: ফাল্গুন মাস হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। বসন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে এই মাসে একাধিক ধর্মীয় ও জ্যোতিষীয় পরিবর্তন ঘটে। ঠিক এই ফাল্গুন মাসেই ২০২৬ সালে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ ঘটতে চলেছে, যা জ্যোতিষ মহলে যথেষ্ট আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেক জ্যোতিষীদের মতে, অল্প সময়ের মধ্যে পরপর দুই গ্রহণ সাধারণ ঘটনা নয় এবং এর প্রভাব ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও প্রকৃতির ওপরও পড়তে পারে।
জ্যোতিষ শাস্ত্র যা বলছে
জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, সূর্য ও চন্দ্রকে জীবনের শক্তি ও মানসিক স্থিতির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সূর্য আত্মবল, প্রশাসন, পিতা ও আত্মসম্মানের কারক গ্রহ, অন্যদিকে চন্দ্র মন, আবেগ, জলতত্ত্ব ও মানসিক শান্তির সঙ্গে যুক্ত। এই দুই গ্রহে গ্রহণ লাগা মানে সেই শক্তিগুলির সাময়িক আড়াল হওয়া। যখন খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে এই দুই গ্রহেই গ্রহণ ঘটে, তখন তার প্রভাব আরও গভীর হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
আরও পড়ুন- অফিসের ডেস্কে এই ৪টি গাছ রাখবেন না, কেরিয়ারে আসতে পারে বড় বাধা
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ফাল্গুন অমাবস্যার দিনে সূর্য গ্রহণ ঘটবে। যদিও এই সূর্য গ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান হবে না, তবুও শাস্ত্র মতে তার প্রভাব অদৃশ্য হলেও কার্যকর থাকে। সূর্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রশাসনিক অস্থিরতা, নেতৃত্বে সংকট এবং ব্যক্তিগত জীবনে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে জ্যোতিষীরা মনে করেন। এর ঠিক ১৫ দিনের মাথায় ৩ মার্চ দোল পূর্ণিমার দিনে চন্দ্র গ্রহণ হবে, যা ভারত থেকে দেখা যাবে। পূর্ণিমার রাতে চাঁদে গ্রহণ লাগা মানসিক অস্থিরতা, আবেগপ্রবণতা এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়াতে পারে।
আরও পড়ুন- স্বাস্থ্য, প্রেম, চাকরি ও অর্থভাগ্য, বৃশ্চিক রাশির ২০২৬ কেমন কাটবে?
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গ্রহণের সময় পৃথিবী নেগেটিভ এনার্জিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সেই কারণে প্রাচীনকাল থেকেই গ্রহণের সময় নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। এই সময় নতুন কোনও শুভ কাজ শুরু করতে নিষেধ করা হয়। পুজো-পাঠ, দেবদেবীর মূর্তি বা ছবি স্পর্শ থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। শাস্ত্র মতে, গ্রহণকালে দেবশক্তি সক্রিয় থাকে না, তাই এই সময় উপাসনা করলে তার পূর্ণ ফল পাওয়া যায় না।
আরও পড়ুন- ঘুমের মধ্যে সৌভাগ্য লাভ করতে রাতে বালিশের নীচে রাখুন এই জিনিসগুলি!
গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে গ্রহণের সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় বাইরে বেরোনো বা গ্রহণকালে চাঁদ বা সূর্যের দিকে তাকানো গর্ভস্থ সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও আধুনিক বিজ্ঞানে এর সরাসরি প্রমাণ নেই, তবুও বহু পরিবার এখনও এই নিয়ম মেনে চলে। একইভাবে গ্রহণ চলাকালীন খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ না করার কথাও শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে। ধারণা করা হয়, এই সময় খাদ্যে নেগেটিভ প্রভাব পড়ে এবং তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
আরও পড়ুন- ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহে কার প্রেম, দাম্পত্য ও সম্পর্কে গতি আসবে?
তবে জ্যোতিষবিদরা এটাও বলেন যে, ভয় পাওয়ার বদলে সচেতন থাকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গ্রহণ মানেই যে অমঙ্গল ঘটবে, তা নয়। নিয়ম মেনে চললে এবং মানসিকভাবে স্থির থাকলে এর প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। গ্রহণের সময় ঈশ্বরের নাম জপ করা, মনে ইতিবাচক ভাব রাখা এবং অহেতুক উত্তেজনা এড়িয়ে চলাকে শুভ বলে মনে করা হয়। গ্রহণ শেষ হওয়ার পরে স্নান করে পরিষ্কার কাপড় পরা এবং তারপর পুজো বা রান্নার কাজ শুরু করার প্রথাও বহু জায়গায় প্রচলিত।
ফাল্গুন মাসের এই জোড়া গ্রহণ তাই শুধুই ভয় নয়, বরং আত্মসংযম এবং সচেতনতার বার্তাও দিচ্ছে। জ্যোতিষ মতে, এই সময় নিজের কাজকর্ম, চিন্তাভাবনা ও সম্পর্কের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। সময়টা কঠিন হলেও সঠিক আচরণ ও বিশ্বাসের মাধ্যমে এর নেতিবাচক প্রভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us