/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/21/evening-diya-rules-2026-01-21-02-29-20.jpg)
Evening Diya Rules: সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম জানুন।
Evening Diya Rules: সন্ধ্যাবেলা প্রদীপ জ্বালানো হিন্দু শাস্ত্র ও বাস্তুশাস্ত্র—উভয় দৃষ্টিতেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। প্রাচীন শাস্ত্র অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর অন্ধকার নামতেই ঘরে প্রবেশ করে নেতিবাচক শক্তি। সেই শক্তিকে দূর করে শুভ শক্তির প্রবাহ বজায় রাখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হল সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানো। অনেকেই শুধু ঠাকুরের আসনেই প্রদীপ জ্বালিয়ে দায়িত্ব শেষ করেন, কিন্তু শাস্ত্রমতে আরও কয়েকটি বিশেষ স্থানে সন্ধ্যার প্রদীপ জ্বালালে মা লক্ষ্মীর কৃপা সহজেই লাভ করা যায়।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানো মানে শুধু আলো জ্বালানো নয়, বরং তা ঘরের শক্তির ভারসাম্য ঠিক করে। প্রদীপের আলো ঘরের বিভিন্ন কোণায় শুভ কম্পন ছড়িয়ে দেয়, যার প্রভাব পড়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থা, মানসিক শান্তি এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, যে বাড়িতে নিয়ম মেনে সন্ধ্যার প্রদীপ জ্বলে, সেখানে মা লক্ষ্মী স্থায়ীভাবে বাস করেন।
বাস্তুশাস্ত্র যা বলেছে
এব্যাপারে প্রথম যে জায়গাটির কথা বলা হয়, তা হল বাড়ির সদর দরজা। বাস্তুমতে সদর দরজাকেই লক্ষ্মীর প্রবেশদ্বার বলা হয়। সন্ধ্যার সময় সদর দরজার কাছে একটি প্রদীপ জ্বালালে তা ঘরে সমৃদ্ধির আগমন সহজ করে। এই প্রদীপ আর্থিক বাধা কাটাতে সাহায্য করে এবং অপ্রত্যাশিত অর্থকষ্ট থেকে রক্ষা করে বলে বিশ্বাস করা হয়। অনেক পরিবার নিয়মিত সদর দরজায় প্রদীপ জ্বালানোর ফলে সংসারের অশান্তি কমেছে এবং অর্থনৈতিক স্থিতি ধীরে ফিরে এসেছে।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান হল বাড়ির টাকা রাখার জায়গা। আলমারি, লকার বা যে স্থানে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিস রাখা হয়, সেখানে সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত শুভ বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। প্রতিদিন সম্ভব না হলে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন এই নিয়ম পালন করা যেতে পারে। বিশ্বাস করা হয়, এই স্থানে প্রদীপ জ্বালালে মা লক্ষ্মীর কৃপাদৃষ্টি বজায় থাকে এবং অযথা অর্থক্ষয় কমে।
আরও পড়ুন- সরস্বতী পুজোর ফর্দ, দেখে নিন কোনওটি মিস করেননি তো?
তৃতীয় অত্যন্ত পবিত্র স্থান হল তুলসীমঞ্চ বা তুলসীগাছ। তুলসীকে শাস্ত্রে লক্ষ্মীর প্রতীক বলা হয়েছে। তাই সকাল ও সন্ধ্যায় তুলসীমঞ্চের সামনে প্রদীপ জ্বালানো বিশেষ ফলদায়ী। সকালে সময় না পেলে অন্তত সন্ধ্যায় তুলসীর সামনে প্রদীপ জ্বালানো উচিত। এতে সংসারে শান্তি বজায় থাকে, পারিবারিক কলহ কমে এবং সৌভাগ্য দীর্ঘদিন সঙ্গ দেয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
আরও পড়ুন- কালসর্পের থেকেও ভয়ংকর এই দোষে ধ্বংস হতে পারে কেরিয়ার, বিবাহ ও সম্মান
চতুর্থ যে জায়গাটির কথা অনেকেই জানেন না, তা হল বাড়ির জলের স্থান। কল, জলের ট্যাঙ্ক বা জলের উৎসের কাছে সন্ধ্যায় একটি প্রদীপ জ্বালালে ঘরে পজিটিভ শক্তির প্রবাহ বাড়ে। জলকে শাস্ত্রে জীবনশক্তির প্রতীক বলা হয়। সেই জলস্থানের কাছে আলো জ্বালালে মানসিক চাপ কমে এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া ভালো থাকে বলে বাস্তুশাস্ত্র জানিয়েছে।
আরও পড়ুন- এবছরের জয়া একাদশী কবে? শুভ যোগ, ধর্মীয় তাৎপর্য, সঠিক তিথি সম্পর্কে জেনে নিন
সবশেষে, ঠাকুরের স্থান বা পূজার ঘর। এটি সবচেয়ে পরিচিত হলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ঠাকুরের সামনে অবশ্যই প্রদীপ জ্বালানো উচিত। সন্ধ্যায় সম্ভব না হলে রাতে বাড়ি ফিরে প্রদীপ জ্বালালেও শুভ ফল পাওয়া যায়। শাস্ত্র অনুযায়ী, প্রদীপের তেল বা ঘি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে জ্বলতে দেওয়া উচিত। এতে ঈশ্বরের আশীর্বাদ ঘরে স্থায়ী হয়।
শাস্ত্র অনুযায়ী নিয়ম মেনে এই পাঁচটি স্থানে সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালালে ঘরে শুভ শক্তির সঞ্চার হয়, লক্ষ্মীশ্রী বৃদ্ধি পায় এবং সংসারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে। এটি কোনও জটিল পদ্ধতি নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনে সহজে পালনযোগ্য একটি শাস্ত্রীয় নিয়ম, যা ধীরে ধীরে জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us