/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/11/evil-eye-2025-12-11-09-46-10.jpg)
Evil Eye: দূর করুন কুদৃষ্টি।
Evil Eye: সংসারে শান্তি বজায় রাখতে যেমন পরিশ্রমের প্রয়োজন, ঠিক তেমনই প্রয়োজন ইতিবাচক শক্তি এবং মানসিক স্থিতিরও। কিন্তু অনেক সময় অজান্তেই ঘরের ওপর নেমে আসে কুনজরের অশুভ ছায়া। আচমকা অশান্তি তৈরি হওয়া, স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বৃদ্ধি পাওয়া, আয় কমে যাওয়া, কাজের পথে বাধা সৃষ্টি হওয়া বা অকারণে মন খারাপ লাগা—এসবই অনেক সময় নেতিবাচক শক্তির লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। সনাতন বিশ্বাসে বলা হয়, শত্রুর নজর বা অশুভ শক্তি সংসারের শুভ শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে বহু প্রাচীন কিছু বাস্তু টোটকা আজও ঘরের পরিবেশকে স্বস্তিদায়ক করতে সাহায্য করে। তার মধ্যে অন্যতম সহজ উপায় হল ধুনো।
ধুনো জ্বালানোর সংস্কৃতি
ভারতীয়দের ঘরে ধুনো জ্বালানোর সংস্কৃতি বহু পুরনো। দেবতার সামনে ধুনো দিলে পরিবেশ পবিত্র হয় বলে বিশ্বাস। ধুনোর ধোঁয়া বাড়ির বাতাসকে পরিষ্কার করে, মনকে স্থির করে এবং অশুভ শক্তির প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন সন্ধ্যায় ধুনো দেওয়া বহু পরিবারের নিয়মিত অভ্যাস। এই সাধারণ অভ্যাসের মধ্যেই রয়েছে কিছু বিশেষ পদ্ধতি—যা মানলে কুনজর, নজরদোষ ও শত্রুর অশুভ প্রভাব দ্রুত দূর হয় বলে বলা হয়।
আরও পড়ুন- আজ ১১ ডিসেম্বর, কী আছে ভাগ্যে? দেখুন রাশিফল
কর্পূর এমন একটি উপাদান, যার ব্যবহার নেতিবাচক শক্তি পরিষ্কার করতে অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হয়। কর্পূর জ্বলার সঙ্গে সঙ্গে যে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে তা পরিবেশে শুভ কম্পন তৈরি করে। বহু মানুষ প্রতিদিন গণেশের সামনে কর্পূর জ্বালান, কারণ এর আগুন ও গন্ধ ঘরের ভারী শক্তিকে দূরে সরিয়ে দেয়। সন্ধ্যার ধুনোর সঙ্গে অল্প কর্পূর যোগ করলে ধুনোর শক্তি আরও বেড়ে যায়। কর্পূর ধুনোর ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে চারদিকে এমন এক পবিত্র আবহ তৈরি করে, যা অশুভ শক্তির প্রবেশকে বাধা দেয়।
আরও পড়ুন- বিবাহিত জীবনের অন্যতম আকর্ষণ গন্ধ, জানুন কীভাবে আপনার পোশাক থেকে সুগন্ধ বের হবে!
হিন্দু ধর্মে সর্ষে পোড়ানোর প্রথা বিশেষ শক্তিশালী বলে ধরা হয়। বিশেষ করে কুনজর বা নজরদোষ কাটাতে সাদা সর্ষে অত্যন্ত উপকারি বলে বিশ্বাস করা হয়। সর্ষে আগুনে ফেলে দিলে যে তীব্র গন্ধ ও ধোঁয়া ওঠে, তা অশুভ শক্তিকে সরিয়ে দেয়। তাই প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার ধুনো জ্বালানোর সময় সামান্য সাদা সর্ষে আগুনে দিলে শত্রুর নজর অনেকটাই কমে যায় বলে অনেকের অভিজ্ঞতা। এই পদক্ষেপ মানসিক ভারও কমাতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন- সমস্ত বাধা পেরিয়েও লক্ষ্যপূরণ করে এই ৪ রাশি, হোঁচট খেলেও থেমে থাকে না! আপনিও কি এই দলে?
নিমপাতা প্রাচীনকাল থেকেই শুভ ও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। নিমপাতার প্রাকৃতিক গন্ধ পরিবেশকে জীবাণুমুক্ত করে এবং অশুভ শক্তিকে দূর করে দেয় বলে বাস্তুশাস্ত্রে বলা হয়েছে। ধুনো জ্বালানোর সময় কয়েকটি নিমপাতা আগুনে ফেলে দিলে ধোঁয়া আরও শক্তিশালী হয়। নিমের ধোঁয়া ঘরের কোনায় জমে থাকা ভারী শক্তিকে ভেঙে দেয়, ফলে ঘরের বাতাস অনেকটাই হালকা ও স্বস্তিদায়ক অনুভূত হয়। সংসারে ঝগড়া–ঝাঁটি বা অকারণে অশান্তি বাড়লে নিমপাতার ধুনো বিশেষ উপকারী।
আরও পড়ুন- কুনজরে তছনছ জীবন! জনসমক্ষে বলা বারণ এই ৫ জিনিস, না হলেই বিপদ!
তুষ বা চালের খোসাও বহু পরিবারে এখনও নজরদোষ কাটানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। বাস্তুশাস্ত্রে বলা হয়, তুষ অশুভ শক্তিকে নিজের দিকে টেনে নেয় এবং সহজে তা নিঃশেষ করে দেয়। তাই সন্ধ্যার ধুনোর আগুনে সামান্য তুষ যোগ করলে কুনজরের কালো ছায়া কাটতে শুরু করে। তুষ আগুনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে ধোঁয়া তৈরি হয়, তা ঘরের বাতাসকে দ্রুত বদলে দেয়। এই প্রক্রিয়া ঘরকে শুধু পবিত্র করে না, বরং মনেও নতুন আশ্বাস তৈরি করে।
এই চারটি সহজ উপাদান—কর্পূর, সর্ষে, নিমপাতা ও তুষ—ধুনোর সঙ্গে ব্যবহার করলে ঘরের শক্তিক্ষেত্র ধীরে ধীরে পালটে যায়। অনেকেই বলেন, এই টোটকা নিয়মিত ব্যবহার করলে পরিবারের সদস্যদের মানসিক শান্তি বাড়ে, ঝামেলা কমে, কাজের উন্নতি হয় এবং ঘরের মধ্যে আর্থিক স্থিতি আসে। এগুলো জাদুবিদ্যা নয়, বরং প্রাকৃতিক পদ্ধতির মাধ্যমে পরিবেশকে পরিষ্কার করার একটি আধ্যাত্মিক উপায়। ধুনোর ধোঁয়া, আগুন এবং প্রাকৃতিক উপাদানের গন্ধ মনকে প্রশান্ত করে, ঘরের শক্তিকে হালকা করে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়—যা কুনজরের ভয় কাটাতে সত্যিই সাহায্য করে।
যদি মনে হয় শত্রুর অশুভ দৃষ্টি সংসারের ওপর পড়েছে, যদি বারবার সমস্যায় জড়িয়ে পড়েন, অথবা ঘরে শান্তি নষ্ট হয়ে যায়, তবে ধুনোর এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করা যেতে পারে। প্রতিদিনের এই কয়েক মিনিটের আচার ঘরকে ধীরে ধীরে রক্ষা–বলয়ে ঢেকে দেয়। একটু বিশ্বাস, একটু নিয়ম মেনে চলা—এতেই কেটে যেতে পারে কুনজরের কালো ছায়া, আর ফিরে আসতে পারে সংসারের হারানো আলো।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us