/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/09/evil-eye-2025-12-09-11-26-02.jpg)
Evil Eye: জেনে নিন, কুনজর কীভাবে পড়ে।
Evil Eye: মানুষের মনে যে দৃষ্টিশক্তি আছে, তা যেমন সৌন্দর্য খুঁজে নিতে পারে, তেমনই কখনও কখনও হিংসা, ঈর্ষা বা নেতিবাচক শক্তিও ছড়িয়ে দিতে পারে—এই বিশ্বাসই শত শত বছর ধরে কুনজর বা নজর লাগা ধারণাকে শক্তিশালী করেছে। অনেকেই এটিকে নিছক কুসংস্কার বলে মনে করেন, আবার অনেকেই বিশ্বাস করেন যে নেতিবাচক দৃষ্টি বা শকুনের দৃষ্টি জীবনের চলতে থাকা শুভ কাজকে মুহূর্তে নষ্ট করে দিতে পারে। শাস্ত্রমতে, কুনজর বা চোখের বদনজর মানুষের ব্যক্তিগত শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। তাই প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই প্রবীণরা সতর্ক করেন—কিছু কথা যেন অন্যের সামনে না বলা হয়।
নজর লাগা কতটা বাস্তব, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সমাজে এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর। আমরা যখন কোনও সিদ্ধান্ত, ইচ্ছে বা পরিকল্পনা খোলাখুলি সবাইকে জানাই, তখন অন্যের হিংসা বা নেতিবাচক অনুভূতি আমাদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে মনে করা হয়। এ কারণেই শাস্ত্রে কিছু বিষয় জনসমক্ষে বলা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন- মিটবে টাকার অভাব! রাশি অনুযায়ী এই টোটকা মানলেই নতুন বছরে খুলে যাবে আয়ের পথ!
প্রথম যে জিনিসটি কখনও কাউকে আগে থেকে বলা উচিত নয়, তা হল কোনও গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা। বিবাহ, নতুন ব্যবসা, বাড়ি বদল বা বড় কোনও আর্থিক সিদ্ধান্ত—সবই একান্ত ব্যক্তিগত। কোনও কাজ করার আগে যদি অতিরিক্তভাবে সবাইকে জানানো হয়, তাহলে তাদের মধ্যে যদি কেউ আপনার বিরুদ্ধে নেতিবাচক শক্তি ছড়িয়ে দেন, তবে সেই কাজ ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। প্রবীণরা বলেন, কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর তা জানানোটাই নিরাপদ।
আরও পড়ুন- চলতি সপ্তাহে কেমন যাবে প্রেমের সম্পর্ক? দেখুন সাপ্তাহিক প্রেমের রাশিফল!
দ্বিতীয়ত, নিজের দুর্বলতা। সমাজে সবাই বন্ধু নয়। কেউ কেউ আপনার ভালোর দিকে তাকিয়ে থাকেন, আবার অনেকে দুর্বল দিক জানতে পারলেই আপনাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে চান। নিজের ভয়, দুশ্চিন্তা বা ব্যর্থতার জায়গাগুলো প্রকাশ করলে নেতিবাচক দৃষ্টি দ্রুত আকর্ষিত হয়। শাস্ত্র মতে, দুর্বলতা প্রকাশ করা কুনজরকে সহজেই আমন্ত্রণ জানায়।
আরও পড়ুন- স্রেফ চুল দেখেই যায় মানুষ চেনা, জানেন কী ভাবে?
তৃতীয়ত, ব্যর্থতা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করাও ঠিক নয়। যদিও ব্যর্থতা জীবনের স্বাভাবিক অংশ, কিন্তু সকলের সামনে তা বলে ফেললে অনেকেই আপনাকে অবজ্ঞা করবেন, কেউ কেউ চাইবেন আপনি যেন আর কখনও সফল না হন। এ ধরনের নেতিবাচক অনুভূতি নজর লাগার প্রভাব বাড়িয়ে দেয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে চাইলে সেটি নিয়ে নীরবে কাজ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
আরও পড়ুন- কার জীবনে মিলবে সৌভাগ্য, কে হবেন ব্যর্থ? দেখুন সাপ্তাহিক রাশিফল
চতুর্থ বিষয়টি হলো সিদ্ধান্ত। জীবনে বড় কোনও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলে তা আগে থেকে ঘোষণা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ সিদ্ধান্ত যত কম লোক জানবে, তত কম হবে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব। আপনার সদিচ্ছার ওপরই নির্ভর করবে কাজটি সফল হবে কি না—তাই জনসমক্ষে সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করা কুনজর ডেকে আনতে পারে।
পঞ্চম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল উপার্জন। নিজের মাসিক আয়ের পরিমাণ অনেকেই জানতে চান, কিন্তু এটি একান্তই ব্যক্তিগত তথ্য। আয় সম্পর্কে বেশি বলা হলে অনেকে ঈর্ষান্বিত হন, আবার অনেকেই মনে নেতিবাচক দৃষ্টি রাখতে পারেন। শাস্ত্রমতে, উপার্জন লুকিয়ে রাখলে সৌভাগ্য স্থায়ী হয়। আয়ের কথা প্রকাশ করলে খারাপ নজরের প্রভাব বাড়তে পারে, আর্থিক স্থিতি নষ্টও হতে পারে।
এই পাঁচটি বিষয় জনসমক্ষে না বলার মূল কারণ হল নেতিবাচক শক্তির প্রভাব। কুনজর সত্যি হোক বা বিশ্বাস—অনেক সময়ই দেখা যায় কোনও পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে ব্যর্থ হয়ে যায়, অথবা সুখী সময়ের মাঝেই সমস্যা ঘনিয়ে আসে। তাই প্রবীণরা বলেন, নিজের জীবন সম্পর্কে কম কথা বলা এবং বেশি কাজ করাই সৌভাগ্য ধরে রাখার উপায়।
মনে রাখা জরুরি
অবশেষে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কিন্তু সতর্ক থাকা যায়। নিজের পরিকল্পনা, সাফল্য, ব্যর্থতা, উপার্জন বা দুর্বলতা কাকে বলা হচ্ছে, কতটা বলা হচ্ছে—এই সচেতনতা নেতিবাচক শক্তিকে দূরে রাখতে সাহায্য করে বলে বিশ্বাস করা হয়। কুনজরের ভয় কাটিয়ে ওঠার সবচেয়ে সহজ উপায় হল মনোসংযম, নীরবতা এবং নিজের জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে নিজের শক্তিকে রাখা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us