Evil Eye: বাচ্চার খিটখিটে মেজাজ কি নজরদোষের লক্ষণ? টোটকায় মিলতে পারে দ্রুত সমাধান

Evil Eye: বাচ্চার মেজাজ হঠাৎ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে? নজরদোষ বা কুনজরের প্রভাব হতে পারে বলে মনে হচ্ছে? সহজ কিছু ঘরোয়া টোটকায় কাটান এই দোষ, জেনে নিন বিস্তারিত।

Evil Eye: বাচ্চার মেজাজ হঠাৎ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে? নজরদোষ বা কুনজরের প্রভাব হতে পারে বলে মনে হচ্ছে? সহজ কিছু ঘরোয়া টোটকায় কাটান এই দোষ, জেনে নিন বিস্তারিত।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Evil Eye: কুনজর

Evil Eye: কুনজর দূর করার চেষ্টা। (প্রতীকী)

Evil Eye: বাড়ির সবচেয়ে ছোট সদস্যের হঠাৎ মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া অনেক সময়েই মা-বাবাকে দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। খাওয়াদাওয়া ঠিক আছে, ঘুমও হয় ঠিকমতো, কোনও অসুখ নেই—তবু যেন সারাদিন খেপে আছে, চড়া মেজাজ, কান্নাকাটি, বিরক্তি, মানসিক অস্থিরতা। অনেকেই এই পরিবর্তনকে আজকালকার বাচ্চাদের আচরণগত সমস্যা বলে এড়িয়ে যান, কিন্তু আমাদের প্রাচীন বিশ্বাসে মনে করা হয়—এ ধরনের আচরণের এক কারণ হতে পারে নজরদোষ বা কুনজর। পুরোনো মানুষদের মুখে ‘নজর লেগেছে’ কথাটা প্রায়ই শোনা যায়। ঈর্ষা-বিদ্বেষ থেকে কুনজর দিলে তার প্রভাব নাকি শিশুর মানসিক ও শারীরিক ভারসাম্যে পড়ে। যাঁরা এই বিশ্বাস মানেন, তাঁদের কাছে নজরদোষ খুবই বাস্তব এক বিষয়। 

Advertisment

শিশুর আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়

অনেক সময় দেখা যায়, বাড়ির বাইরে কোথাও ঘুরে এসে বাচ্চা হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যায় কিংবা অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে পড়ে। কখনও আবার সহজে না রাগা বাচ্চাটিও সামান্য কারণে রেগে যায়। খেলাধুলোয় মন বসাতে পারে না। শান্ত হতে চায় না। নজরদোষের প্রভাবে নাকি এইসব আচরণগত পরিবর্তন হয়। শরীরেও এর প্রভাব থাকতে পারে—যেমন অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, আলস্য, দুর্বলতা, বারবার কান্নাকাটি, ঘুম ভেঙে যাওয়া। বড়রাও এর কবলে পড়তে পারেন, তবে বাচ্চাদের সমস্যা নাকি আরও স্পর্শকাতর বলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন- দামি ক্রিম না, কোরিয়ানদের মত উজ্জ্বল ত্বক পেতে কাজে লাগান স্রেফ একমুঠো চাল

Advertisment

কিছু মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী, নজরদোষ থেকে মুক্তি পেতে বা কুনজর কাটাতে ঘরোয়া কিছু টোটকার প্রচলন বহুদিনের। যেমন নারকোলের মালা কালো কাপড়ে বেঁধে প্রধান দরজার ওপরে ঝুলিয়ে রাখলে নাকি বাড়িতে খারাপ প্রভাব ঢুকতে পারে না। আবার তুলো দিয়ে লম্বা সলতে বানিয়ে সর্ষের তেলে ডুবিয়ে যে শিশুর নজর লেগেছে বলে মনে করা হয়, তার মাথার চারপাশে ঘুরিয়ে সেই সলতে আগুনে জ্বালালে নাকি নজরদোষ কেটে যায়। পুরনো মানুষদের মতে, এই পদ্ধতিতে শিশু দ্রুত শান্ত হয় এবং আচরণগত অস্থিরতা কমে।

আরও পড়ুন- বিরাট উপকারিতা, এইসব কারণে ব্ল্যাক টি পান করা উচিত প্রতিদিন

আরেকটি বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হল কাঁচা দুধে নজর কাটানো। এক শনিবার শিশুর মাথার চারপাশে কাঁচা দুধ সাতবার ঘুরিয়ে নেওয়ার পর সেই দুধ প্রবাহিত জলে ফেলে দিলে নাকি কুনজরের প্রভাব নষ্ট হয়। অনেক পরিবারে এটি আজও নিয়ম করে পালন করা হয়। বাড়ির সামগ্রিক নজরদোষ কাটাতে ফটকিরি, নুন ও কালো সর্ষে একসঙ্গে নিয়ে বাড়ির চারদিকে ঘুরিয়ে বাইরে গিয়ে পুড়িয়ে দিলে নাকি নেতিবাচক শক্তি সরে যায়—এই বিশ্বাস বহু মানুষের মনে দাগ কেটেছে।

আরও পড়ুন- কোন সময়ে বিয়েতে হয় রাজযোটক, আপনাদের কি রাজযোটক মিলন?

নজরদোষ কাটানোর সবচেয়ে প্রচলিত উপায় হল শুকনো লঙ্কার টোটকা। পাঁচটি শুকনো লঙ্কা নিয়ে মাথার চারপাশে কয়েকবার ঘুরিয়ে নিয়ে বাড়ির বাইরে গিয়ে পোড়ালে নাকি নজরদোষ সঙ্গে সঙ্গে কেটে যায়। লোককথা অনুযায়ী, লঙ্কার টুকরোর তীব্র গন্ধ ও ধোঁয়া খারাপ শক্তিকে প্রতিহত করে। যদিও এসব বিশ্বাস বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়, তবুও যাঁরা মানেন, তাঁদের কাছে এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে মনে হয়।

আরও পড়ুন- মানি প্ল্যান্টে বেঁধে দিন এই জিনিসগুলি, হুড়মুড়িয়ে ঘরে আসবে অর্থ! 

বাচ্চার আচরণে হঠাৎ অস্থিরতা এলে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই জরুরি, কারণ মানসিক বা শারীরিক কারণও থাকতে পারে। তবে সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে প্রচলিত এসব নজরদোষ কাটানোর টোটকাও অনেক পরিবার অনুসরণ করেন। এটি তাঁদের বিশ্বাসের অংশ, ঐতিহ্যের অংশ এবং মানসিক স্বস্তির উৎস। বিশ্বাস থাক বা না থাক, বাচ্চার আচরণে পরিবর্তন দেখলে তার পাশে থাকা, তাকে নিরাপত্তা দেওয়া ও ভালবাসা দেওয়াই সবচেয়ে বড় চিকিৎসা। তবে কেউ যদি কুনজরের সংস্কৃতিগত বিশ্বাসে আস্থা রাখেন, তাঁদের জন্য এই ঘরোয়া উপায়গুলি আজও সমান জনপ্রিয়।

eye Evil