/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/16/gold-wearing-rules-2025-12-16-08-21-32.jpg)
Gold Wearing Rules: সোনা পরার নিয়ম।
Gold Wearing Rules: হিন্দু ধর্ম ও শাস্ত্রে সোনাকে অত্যন্ত পবিত্র ও শুভ ধাতু হিসেবে গণ্য করা হয়। যে কোনও শুভ কাজ, যেমন বিবাহ, অন্নপ্রাশন, গৃহপ্রবেশ বা পূজার সময়ে শরীরে সোনা রাখা মঙ্গলজনক বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, সোনা সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি ও ইতিবাচক শক্তিকে আকর্ষণ করে। বিশেষ করে বাঙালি হিন্দু সমাজে সোনার গয়না শুধু অলংকার নয়, তা ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও অংশ।
বর্তমানে সোনার দাম বেশ চড়া
বর্তমান সময়ে সোনার দাম অনেকটাই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেলেও বিয়ের সময় সোনার গয়না তৈরির চল আজও অটুট। অনেকেই আবার শখের বশে শরীরের বিভিন্ন অংশের জন্য সোনার গয়না বানিয়ে থাকেন। কিন্তু শাস্ত্র মতে শরীরের সব অংশে সোনা পরা কি সত্যিই শুভ? বিশেষ করে পায়ে সোনা পরা নিয়ে বহু মানুষের মনে প্রশ্ন ও দ্বিধা রয়েছে।
আরও পড়ুন- আজ কেমন যাবে ১২ রাশির ভাগ্য? জানুন বিস্তারিত রাশিফল
শাস্ত্র অনুযায়ী, সোনা হল মা লক্ষ্মীর প্রতীক। লক্ষ্মীদেবী ধন, সম্পদ ও সৌভাগ্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। অন্য দিকে জ্যোতিষ মতে সোনা দেবগুরু বৃহস্পতির ধাতু। বৃহস্পতি জ্ঞান, ধর্ম, বিবাহ ও আর্থিক স্থিতির কারক গ্রহ। এই কারণেই সোনাকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, যে ধাতু দেবী লক্ষ্মী ও বৃহস্পতির সঙ্গে যুক্ত, সেই ধাতু পায়ে ধারণ করা অনুচিত।
আরও পড়ুন- কানাভাঙা থালায় খাবার খান? নিজেই কিন্তু বিপদ ডেকে আনছেন!
পা শরীরের সর্বনিম্ন অঙ্গ। শাস্ত্র মতে পায়ে সোনা পরা মানে শুভ শক্তিকে অবমাননা করা। এই কারণেই বিশ্বাস করা হয়, পায়ে সোনা পরলে মা লক্ষ্মী অসন্তুষ্ট হন। লক্ষ্মীর কৃপা না থাকলে সংসারে আর্থিক স্থিতি বজায় থাকে না। ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক সংকট, অপ্রত্যাশিত খরচ ও সঞ্চয়ের ক্ষয় শুরু হতে পারে।
আরও পড়ুন- এই সপ্তাহে কোন রাশির প্রেমে আসছে সুখ, কোথায় বাড়বে দূরত্ব?
অনেক শাস্ত্রজ্ঞের মতে, পায়ে সোনা পরার ফলে দাম্পত্য জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিবাহিত জীবনে অশান্তি, ভুল বোঝাবুঝি ও মানসিক দূরত্ব তৈরি হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পরিশ্রম করেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া যায় না। জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বারবার বাধা আসতে থাকে, যার ফলে হতাশা ও অস্থিরতা বাড়ে।
আরও পড়ুন- নেতৃত্বে পটু, দলের মাথা হলে কাজ বাজিমাত, এই ৪ তারিখে জন্মানো মেয়েরাই জন্মগত ক্যাপ্টেন
জ্যোতিষশাস্ত্রের দৃষ্টিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বৃহস্পতির অবস্থান। সোনা বৃহস্পতির ধাতু হওয়ায় পায়ে তা পরলে কোষ্ঠীতে বৃহস্পতির শক্তি দুর্বল হতে পারে বলে মনে করা হয়। এর প্রভাব পড়ে শিক্ষা, বিবাহ, আর্থিক উন্নতি ও সামাজিক সম্মানের ওপর। বিশেষ করে যাঁদের বৃহস্পতি এমনিতেই দুর্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।
তবে শাস্ত্রমতে শরীরের কিছু অংশে সোনা পরা অত্যন্ত শুভ বলে ধরা হয়। গলা, কান, নাক, হাতের আঙুল বা কবজিতে সোনা পরলে তা সৌভাগ্য বৃদ্ধি করে বলে বিশ্বাস। কোমরে সোনা পরা নিয়েও আপত্তি নেই, তবে শর্ত হল, কোমরের নীচে অর্থাৎ পা বা পায়ের আঙুলে সোনা পরা উচিত নয়। এই নিয়ম মানলে শুভ শক্তি বজায় থাকে এবং নেতিবাচক প্রভাব এড়ানো সম্ভব হয়।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ফ্যাশনের কারণে বা অজান্তেই মানুষ পায়ে সোনার নূপুর বা আংটি পরেন। শাস্ত্র বিশ্বাসে আস্থা থাকলে এই ধরনের অলংকার এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। পায়ের জন্য রুপাকে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে, কারণ রুপা শীতল ধাতু এবং তা চন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সোনা অত্যন্ত শুভ ও শক্তিশালী ধাতু হলেও শাস্ত্রীয় নিয়ম না মেনে তা ব্যবহার করলে উলটো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পায়ে সোনা না পরা, শরীরের উপযুক্ত অংশে এই ধাতু ধারণ করা এবং তার প্রতি সম্মান বজায় রাখাই শাস্ত্রসম্মত পথ। বিশ্বাস ও আস্থার সঙ্গে নিয়ম মানলে সৌভাগ্য, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে—এমনটাই শাস্ত্রের মত।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us