/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/01/holashtak-2026-2026-02-01-14-49-28.jpg)
Holashtak 2026: হোলাষ্টকের নিয়মকানুন জেনে নিন।
Holashtak 2026: হিন্দু ধর্মে হোলি বা রং খেলা শুধু রঙের উৎসব নয়, এটি শুভ শক্তির জয় এবং অশুভ শক্তির বিনাশের প্রতীক। প্রতিবছর ফাল্গুন পূর্ণিমায় এই উৎসব পালিত হলেও তার ঠিক আট দিন আগে শুরু হয় এক বিশেষ সময়কাল, যাকে হোলাষ্টক বলা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এই সময়কাল অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং অশুভ শক্তি এই সময়কালে সক্রিয় থাকে। সেই কারণেই হোলাষ্টকের দিনগুলিতে কোনও নতুন শুভ কাজ শুরু করতে নিষেধ করা হয়েছে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ফাল্গুন মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে হোলাষ্টক শুরু হয় এবং পূর্ণিমা তিথিতে এর সমাপ্তি ঘটে। ২০২৬ সালে এই অষ্টমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৪ ফেব্রুয়ারি এবং পূর্ণিমা তিথি থাকবে ৩ মার্চ পর্যন্ত। ফলে হোলাষ্টক ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ৩ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এই পুরো সময় জুড়ে বিয়ে, গৃহপ্রবেশ, নতুন ব্যবসা শুরু, যানবাহন কেনা বা অন্য কোনও শুভ কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন- স্বপ্নে এই ৫ পশুর দেখা পেলে বুঝবেন সুদিন আসন্ন, ঘুচবে জীবনের সব কষ্ট!
হোলাষ্টকের শেষ দিনেই পালিত হয় হোলিকা দহন। ২০২৬ সালে হোলিকা দহন অনুষ্ঠিত হবে ৩ মার্চ রাতে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন অশুভ শক্তির প্রতীক হোলিকাকে আগুনে দহন করা হয় এবং শুভ শক্তির জয় উদযাপন করা হয়। হোলিকা দহনের পরের দিন অর্থাৎ ৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ধুলেটি বা রঙের হোলি খেলা হবে।
আরও পড়ুন- রাশি মেনে মানিব্যাগে এই জিনিস রাখলে বাড়বে অর্থভাগ্য, দেখে অবাক হবেন নিজেই
হোলাষ্টকের পিছনে রয়েছে এক গভীর পৌরাণিক কাহিনি। বিশ্বাস করা হয়, অসুররাজ হিরণ্যকশিপু নিজের পুত্র প্রহ্লাদের ওপর অত্যাচার শুরু করেছিলেন, কারণ প্রহ্লাদ ভগবান বিষ্ণুর পরম ভক্ত ছিলেন। হোলির আগের আট দিন প্রহ্লাদকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। শেষ দিনে হোলিকা তাঁকে কোলে নিয়ে আগুনে বসেন। কিন্তু ভগবান বিষ্ণুর কৃপায় প্রহ্লাদ রক্ষা পান এবং হোলিকা নিজেই ভস্মীভূত হন। এই ঘটনার স্মরণেই হোলিকা দহন এবং তার আগের আট দিনকে হোলাষ্টক হিসেবে মানা হয়।
আরও পড়ুন- শনির দোষে অতিষ্ঠ জীবন? বড়ঠাকুরের কৃপা পেতে শনিবার করুন এই সহজ প্রতিকার!
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, হোলাষ্টকের প্রতিটি দিনে একটি করে গ্রহ অত্যন্ত প্রভাবশালী অবস্থায় থাকে। এই গ্রহীয় প্রভাব মানুষের জীবনে অস্থিরতা, মানসিক চাপ এবং বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করা হয়। তাই এই সময় শুভ কাজ করলে তার ফল প্রত্যাশামতো নাও হতে পারে। ধর্মীয় বিশ্বাসে বলা হয়, এই সময় আত্মশুদ্ধি, সংযম ও প্রার্থনায় মন দেওয়া সবচেয়ে উত্তম।
আরও পড়ুন- ফেব্রুয়ারি ১, রবিবার মাঘী পূর্ণিমা, কোন কাজ করলে কাটে বিয়ে এবং চাকরির বাধা?
তবে হোলাষ্টক মানেই ভয় বা অশুভ কিছু নয়। এই সময়টিকে প্রস্তুতির সময় হিসেবেও ধরা হয়। মানুষ পুরনো কষ্ট, অভিমান এবং নেতিবাচকতা ঝেড়ে ফেলে হোলির দিনে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করে। তাই হোলাষ্টক শেষ হওয়ার পর হোলি উৎসব মানুষের জীবনে আনন্দ, রং এবং ইতিবাচক শক্তি ফিরিয়ে আনে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, হোলাষ্টক ২০২৬ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সময়কাল। পঞ্জিকা মেনে এই দিনগুলির তাৎপর্য বুঝে চললে মানসিক শান্তি ও ধর্মীয় শৃঙ্খলা বজায় থাকে বলেই বিশ্বাস করা হয়।
সতর্কীকরণ
এই লেখা ধর্মীয় বিশ্বাস, পঞ্জিকা ও প্রচলিত মতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নাও থাকতে পারে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই তাই বাঞ্ছনীয়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us