/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/25/indian-flag-2026-01-25-23-56-22.jpg)
Indian National Flag History: ভারতের জাতীয় পতাকার ইতিহাস জানুন।
Indian National Flag History: ভারতের জাতীয় পতাকা শুধু একটি কাপড়ের টুকরো নয়, এটি স্বাধীনতা সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় পরিচয়ের এক জীবন্ত প্রতীক। তেরঙ্গা পতাকা দেখলেই যে আবেগ, গর্ব এবং ঐক্যের অনুভূতি জাগে, তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস ও গভীর দর্শন। ভারতের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি গৃহীত হয়েছে ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই, অর্থাৎ স্বাধীনতার ঠিক কয়েক দিন আগে, গণপরিষদের এক ঐতিহাসিক অধিবেশনে।
পিংগালি ভেঙ্কাইয়া
জাতীয় পতাকার নকশার পেছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম পিংগালি ভেঙ্কাইয়া। তিনি একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী ও চিন্তাবিদ। প্রথমে একটি দ্বিবর্ণ পতাকার পরিকল্পনা ছিল। সময়ের সঙ্গে তাতে পরিবর্তন এসে শেষে তিনটি রঙের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে আজকের তেরঙ্গা। শুরুতে পতাকার মাঝখানে চরকা ছিল, যা মহাত্মা গান্ধীর স্বনির্ভরতার প্রতীক। পরে ভারতের জাতীয় প্রতীক হিসেবে অশোক চক্রকে স্থান দেওয়া হয়েছে, যা সম্রাট অশোকের সিংহস্তম্ভ থেকে অনুপ্রাণিত।
আরও পড়ুন- নতুন বছরে অর্থভাগ্য বদলাতে চান? সূর্যাস্তের পর এই ৫ উপায়ে বাড়িতে পান লক্ষ্মীর কৃপা!
জাতীয় পতাকার তিনটি রঙের প্রত্যেকটিরই আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। ওপরের গেরুয়া রং সাহস, ত্যাগ এবং আত্মবলিদানের প্রতীক। মাঝখানের সাদা রং শান্তি, সত্য ও সততার বার্তা বহন করে। নীচের সবুজ রং উন্নতি, উর্বরতা এবং জীবনের ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেয়। সাদা অংশের মাঝখানে থাকা নীল রঙের অশোক চক্রে রয়েছে ২৪টি চাকা, যা সময়ের গতি, ন্যায় এবং নিরন্তর অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
আরও পড়ুন- রান্নাঘরের এই ২ উপাদানের সম্পর্ক ঘি আর আগুনের মতো, পাশাপাশি রাখলেই বাড়বে পারিবারিক অশান্তি
জাতীয় পতাকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর নির্দিষ্ট অনুপাত। পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ৩:২। অশোক চক্রটি উভয় পাশে সমানভাবে দৃশ্যমান হতে হবে এবং তার ব্যাস সাদা অংশের প্রস্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। এই সূক্ষ্ম নিয়মগুলি পতাকার মর্যাদা ও ঐক্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন- মরচে ধরা জলের কল থেকে অগোছালো ঘর, নতুন বছরে বাড়ির পরিবেশ সুস্থ রাখুন ৫ উপায়ে
অনেকের মনেই প্রশ্ন, জাতীয় পতাকা কি শুধুমাত্র খাদির কাপড় দিয়েই বানাতে হয়? দীর্ঘদিন ধরে ভারতের জাতীয় পতাকা শুধুমাত্র খাদি কাপড়ে তৈরি করার নিয়ম ছিল। খাদি শুধু একটি কাপড় নয়, এটি স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত স্বদেশি ভাবনার প্রতীক। তাই খাদি দিয়ে তৈরি পতাকাই ছিল একমাত্র অনুমোদিত।
আরও পড়ুন- প্রেম আছে তবু সম্পর্কে ঝামেলার আশঙ্কা! কোন রাশির সম্পর্কে বাড়বে অশান্তি?
তবে সময়ের সঙ্গে নিয়মে কিছু পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ভারতীয় পতাকার নিয়ম (Flag Code of India) অনুযায়ী, খাদি ছাড়াও পলিয়েস্টার বা মেশিনে তৈরি কাপড় দিয়ে জাতীয় পতাকা বানানো যায়। অবশ্য যদি তা নির্ধারিত মান ও নিয়ম মেনে তৈরি হয়। তবুও সরকারিভাবে উত্তোলন ও আনুষ্ঠানিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে খাদি পতাকাকেই সর্বাধিক সম্মান দেওয়া হয়।
জাতীয় পতাকার ব্যবহার নিয়েও রয়েছে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ। পতাকাকে কখনও মাটিতে ছোঁয়ানো যাবে না, পোশাক বা সাজসজ্জার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত বা ছেঁড়া পতাকা উত্তোলন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সূর্যাস্তের পর পতাকা নামিয়ে ফেলতে হয়, যদি না বিশেষ নিয়মে রাতেও উত্তোলনের অনুমতি থাকে। এসব নিয়ম মূলত পতাকার মর্যাদা ও জাতীয় অনুভূতি রক্ষার জন্যই তৈরি।
ভারতের জাতীয় পতাকা আজ শুধু স্বাধীনতার স্মারক নয়, এটি গণতন্ত্র, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য এবং ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলার প্রতীক। আন্তর্জাতিক মঞ্চে যখন তেরঙ্গা ওড়ে, তখন তা গোটা দেশের আত্মসম্মান ও পরিচয়কে তুলে ধরে। তাই জাতীয় পতাকার ইতিহাস জানা মানে নিজের দেশকে আরও গভীরভাবে জানা এবং সম্মান করা।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us