/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/29/vishnu-2026-01-29-15-08-11.jpg)
Jaya Ekadashi: জয়া একাদশীতে তৈরি হয়েছে বিশেষ যোগ।
Jaya Ekadashi 2026 Date & Puja Time: হিন্দু ধর্মে একাদশী তিথির বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। প্রতিমাসে শুক্ল ও কৃষ্ণ—এই দুই পক্ষের একাদশীতে ভগবান বিষ্ণুর উপাসনা করা হয়। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে পালিত হয় জয়া একাদশী। শাস্ত্র মতে, এই একাদশীর ব্রত পালন করলে মানুষ পাপমুক্ত হন। জীবনে পান সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।
পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালে জয়া একাদশী পালিত হবে ২৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার। ভগবান বিষ্ণুর সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কিত দিন হওয়ায় এই একাদশীর গুরুত্ব আরও বেড়ে যেতে বাধ্য। এই দিনে উপবাস রেখে নিষ্ঠাভরে বিষ্ণু পূজা করলে বহু গুণ বেশি ফল লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। এ বছর জয়া একাদশীতে সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ এবং রবি যোগের মতো শুভ যোগ তৈরি হচ্ছে, যা এই তিথিকে আরও ফলপ্রদ করে তুলেছে।
জয়া একাদশী তিথি শুরু
জয়া একাদশী তিথি শুরু হবে ২৮ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৪ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৯ জানুয়ারি দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে। এই সময়ের মধ্যেই ব্রত ও পূজা সম্পন্ন করা উচিত। জ্যোতিষ মতে, শুভ মুহূর্তে পূজা করলে ব্রতের পূর্ণ ফল লাভ হয়। ব্রাহ্ম মুহূর্ত থেকে শুরু করে অভিজিৎ, বিজয়, গোধূলি এবং সন্ধ্যার মুহূর্ত—সব ক’টিই জয়া একাদশীতে বিষ্ণু আরাধনার জন্য শুভ বলে ধরা হয়। এছাড়াও অমৃত কাল এবং নিশিতা মুহূর্তে পূজা করলে বিশেষ কৃপা লাভ হয় বলেই শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।
আরও পড়ুন- শ্রীকৃষ্ণের এই উপদেশগুলি মেনে চললে জীবন বদলে যাবে!
জয়া একাদশীর দিন ভোরে সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে ওঠা শ্রেয়। স্নান সেরে পরিষ্কার ও সংযত পোশাক পরিধান করে ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান করা উচিত। এরপর উপবাসের সংকল্প নিয়ে পূজা শুরু করতে হয়। প্রথমে ভগবান বিষ্ণুর চরণে জল ও ফুল নিবেদন করা হয়। তারপর হলুদ চন্দন, গোটা শস্য, ফুল, মালা এবং তুলসী পাতা অর্পণ করা হয়। তুলসী পাতা ছাড়া বিষ্ণু পূজা অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন- খেতে হবে না, দুধ দিয়ে কিছু উপায় পালনেই হওয়া যায় 'ভাল ছেলে'! আসবে সমৃদ্ধি, মিলবে নতুন আয়ের উৎস
পূজার সময় ঘি দিয়ে প্রদীপ জ্বালানো এবং ধূপ নিবেদন করা অত্যন্ত শুভ। এরপর একাদশী ব্রত কথা পাঠ করা হয়। বিষ্ণু চালিশা, বিষ্ণু মন্ত্র ও লক্ষ্মী মন্ত্র পাঠ করলে সংসারে সুখ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় বলে বিশ্বাস করা হয়। অনেক ভক্ত এই দিনে বিষ্ণু সহস্রনাম ও নারায়ণ স্তোত্র পাঠ করেন। পূজার শেষে ভগবান বিষ্ণুর আরতি করে নিজের অজান্তে হওয়া ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।
আরও পড়ুন- পূর্বপুরুষেরা কি স্বপ্নে এসে কথা বলতে চান? নেপথ্যে থাকতে পারে ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত!
জয়া একাদশীর ব্রত অত্যন্ত কঠোর বলে মনে করা হয়। অনেকে নির্জলা উপবাস পালন করেন, আবার অনেকে ফলাহার গ্রহণ করেন। শাস্ত্র মতে, নিজের শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী ব্রত পালন করাই শ্রেয়। এই দিনে মন, বাক্য ও কর্ম—তিনেরই সংযম রাখা জরুরি।
আরও পড়ুন- সামুদ্রিক শাস্ত্র বলছে এই ধরনের আঙুলের সঙ্গীরা হন ভীষণ রোমান্টিক ও যত্নশীল
উপবাস ভাঙা বা পারণ একাদশীর পরের দিন দ্বাদশী তিথিতে করতে হয়। ২০২৬ সালে জয়া একাদশীর পারণ করা যাবে ৩০ জানুয়ারি সকালে। পারণের শুভ সময় সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত। তবে মনে রাখতে হবে, দ্বাদশী তিথি শেষ হবে সকাল ১১টা ০৯ মিনিটে। এই সময়ের মধ্যেই পারণ সম্পন্ন করা উচিত।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জয়া একাদশীর ব্রত পালন করলে পূর্বজন্মের পাপ নাশ হয় এবং জীবনে নতুন শক্তি ও ইতিবাচকতা আসে। ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদে সংসারে শান্তি বজায় থাকে এবং মন ভক্তিতে পূর্ণ হয়। তাই প্রতিবছর ভক্তরা নিষ্ঠাভরে এই একাদশী পালন করে থাকেন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us