/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/20/jaya-ekadashi-2026-date-2026-01-20-11-46-18.jpg)
Jaya Ekadashi 2026 Date: জয়া একাদশীর সঠিক তারিখ জেনে নিন।
Jaya Ekadashi 2026 Date: সনাতন ধর্মে একাদশী ব্রতকে অত্যন্ত পবিত্র এবং ফলদায়ক বলে মনে করা হয়। প্রতিমাসেই শুক্লপক্ষ এবং কৃষ্ণপক্ষের একাদশী তিথিতে ভগবান বিষ্ণুর উপাসনা করা হয়। এই একাদশীগুলির মধ্যে কিছু বিশেষ একাদশী রয়েছে, যাদের ধর্মীয় গুরুত্ব আরও গভীর। তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ একাদশী হল জয়া একাদশী। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে পালিত এই ব্রতকে জয়া একাদশী বলা হয়। অনেক শাস্ত্রে একে ভূমি একাদশী নামেও উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালে জয়া একাদশী পালিত হবে ২৯ জানুয়ারি। বৈদিক পঞ্জিকা অনুসারে, মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথি শুরু হবে ২৮ জানুয়ারি বিকাল ৪টা ৩৪ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৯ জানুয়ারি বিকাল ১টা ৫৬ মিনিটে। যেহেতু সনাতন ধর্মে উদয় তিথিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাই ২৯ জানুয়ারি জয়া একাদশী ব্রত পালন করা হবে। এই দিনটি ভগবান বিষ্ণুর কৃপা লাভের জন্য অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন- এই সবজিটি শুধু অন্ত্র-বান্ধবই নয়, 'সুপারপাওয়ার'ও! কেন বলছেন করিনা কাপুর?
জয়া একাদশীর দিনে একাধিক শুভ যোগের সংযোগ ঘটে, যা এই তিথির মাহাত্ম্য আরও বাড়িয়ে তোলে। এই দিনে ইন্দ্র যোগ, রবি যোগ, ভদ্রবাস যোগ এবং শিববাস যোগ একসঙ্গে বিরল সংমিশ্রণ তৈরি করে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই যোগে বিষ্ণু পূজা এবং একাদশী ব্রত পালন করলে দ্বিগুণ ফল লাভ হয়। বিশেষ করে যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক শান্তি, পাপমুক্তি বা আধ্যাত্মিক উন্নতির কামনা করছেন, তাঁদের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত ফলদায়ক।
ধর্মীয় বিশ্বাস যা বলে
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জয়া একাদশীর দিনে ভগবান বিষ্ণু ও দেবী লক্ষ্মীর উপাসনা করলে জীবনের সমস্ত বাধা দূর হয়। এই ব্রত পালন করলে হৃদয়ের গোপন ইচ্ছা পূর্ণ হয় এবং ব্যক্তি পাপমুক্ত জীবনের পথে অগ্রসর হতে পারেন। পুরাণে বলা হয়েছে, এই একাদশীর উপবাস, জঘন্যতম পাপ থেকেও মুক্তি দিতে সক্ষম। শাস্ত্রে ব্রাহ্মণ হত্যার মত মহাপাপ থেকে মুক্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই ব্রতের গুরুত্বকে স্পষ্ট করেছে।
আরও পড়ুন- সময়ের সঙ্গে দাম্পত্যে 'ঝলকানি' কমে যাওয়া স্বাভাবিক? জানুন শিল্পা শেট্টির কাহিনি!
জয়া একাদশীকে ভূত-পিশাচ এবং নেতিবাচক শক্তি থেকে মুক্তির ব্রত হিসেবেও দেখা হয়। ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে, এই দিনে নিষ্ঠার সঙ্গে উপবাস এবং বিষ্ণু নাম স্মরণ করলে জাগতিক আসক্তি ও অশুভ কামনা দূর হয়। মানসিক বিশুদ্ধতা লাভের পাশাপাশি আত্মার উন্নতিও ঘটে। এই কারণেই অনেক সাধক এবং ভক্ত এই একাদশীকে 'মোক্ষদায়িনী একাদশী' বলে উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুন- প্রতিদিন সহজে সুস্থ থাকতে রান্নাঘরে অবশ্যই রাখুন এই ৬ স্বাস্থ্যকর খাবার
পুরাণ মতে, যে ব্যক্তি জয়া একাদশীর ব্রত পালন করেন, তিনি মৃত্যুর পর বৈকুণ্ঠ ধামে গমন করেন। এই ব্রত স্বর্গ লাভের পথ প্রশস্ত করে এবং ভববন্ধন থেকে মুক্তি দেয়। তাই সংসারী মানুষ থেকে শুরু করে সাধু-সন্ন্যাসী সকলের কাছেই এই একাদশীর গুরুত্ব অপরিসীম। একাদশীর দিনে শুদ্ধাচারে জীবনযাপন, ভগবান বিষ্ণুর নাম জপ এবং সাত্ত্বিক চিন্তাধারায় মন স্থির রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন- স্পেনে লোয়ার বডি ফিটনেসে বিশেষ জোর তামান্না ভাটিয়ার, দেখুন সেই ভিডিও!
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সম্পূর্ণ উপবাস পালন করতে না পারলেও, জয়া একাদশীর মূল ভাবনাটি হল সংযম এবং ভক্তি। মন ও ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণ করে ঈশ্বরের স্মরণে দিন কাটানোই এই ব্রতের আসল উদ্দেশ্য। তাই খাদ্যসংযমের পাশাপাশি নেতিবাচক চিন্তা ও আচরণ থেকেও বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জয়া একাদশী শুধু একটি ধর্মীয় উপবাস নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির এক সুবর্ণ সুযোগ। ২০২৬ সালের জয়া একাদশী ভক্তদের জন্য বিশেষ শুভ যোগে সমৃদ্ধ। তাই এই দিনে ভগবান বিষ্ণুর কৃপা লাভের আশায় নিষ্ঠার সঙ্গে এই ব্রত পালন করলে জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুক্তির পথ সুগম হয়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us