/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/12/leg-shaking-habit-2026-01-12-00-02-42.jpg)
Leg Shaking Habit: যখন তখন পা নাড়ালে কী ক্ষতি হয় জানুন।
Leg Shaking Habit: অনেক মানুষেরই অজান্তে একটি সাধারণ অথচ ক্ষতিকর অভ্যাস রয়েছে, আর তা হল শুয়ে বা বসে পা নাড়ানো। অফিসে বসে কাজ করার সময়, বাড়িতে টিভি দেখার সময়, এমনকী খাওয়ার টেবিলেও অনেকেই নিজের অজান্তেই পা দোলাতে থাকেন। কারও কাছে এটি স্বাভাবিক অভ্যাস মনে হলেও, শাস্ত্রমতে এই ছোট্ট বদঅভ্যাসের প্রভাব হতে পারে অত্যন্ত গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী। জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, অকারণে পা নাড়ানো মানে নিজের ভাগ্যকেই অস্থির করে তোলা।
এই অভ্যাস মূলত মানসিক অস্থিরতার প্রতীক। শাস্ত্র অনুযায়ী, যাঁরা পা স্থির রেখে বসতে পারেন না, তাঁদের মনও স্থির থাকে না। এর ফলে কোষ্ঠীতে চন্দ্র দুর্বল হতে শুরু করে। চন্দ্র মন, আবেগ এবং মানসিক শান্তির কারক গ্রহ। চন্দ্র দুর্বল হলে ব্যক্তি সহজেই বিষণ্ণতা, অস্থিরতা ও অকারণ দুশ্চিন্তায় ভোগেন। এর প্রভাব পড়ে পরিবারের সদস্যদের ওপরেও। বাড়ির পরিবেশে শান্তির অভাব দেখা দেয় এবং অকারণ ঝামেলা বৃদ্ধি পায়।
শাস্ত্রমতে বলা হয়েছে, শুয়ে বা বসে পা নাড়ানোর ফলে মা লক্ষ্মী অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হন। কারণ পা দোলানোকে চপলতা এবং অস্থিরতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। যা স্থায়িত্ব এবং সমৃদ্ধির সম্পূর্ণ বিপরীত। এর ফলে অর্থ সংক্রান্ত কাজে একের পর এক বাধা আসতে শুরু করে। আয় থাকলেও তা ধরে রাখা যায় না। হঠাৎ অপ্রত্যাশিত খরচ বেড়ে যায় এবং সংসারে অভাব ধীরে ধীরে বাসা বাঁধে।
আরও পড়ুন- গলা ব্যথা আর কাশিতে ভুগছেন? কফ সিরাপের বদলে কাজে লাগান এই ঘরোয়া জিনিসগুলো!
অনেকেই অজান্তেই পুজো দেওয়ার সময় বা ধ্যান করার সময় পা দোলান। শাস্ত্রমতে এটি অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়। এর ফলে ঈশ্বর পুজো গ্রহণ করেন না বলে বিশ্বাস করা হয়। পরিবারের ইষ্টদেবতা রুষ্ট হন এবং সংসারের ওপর নেমে আসে অমঙ্গল। এমন অবস্থায় বাড়ির সদস্যদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন- এই ঘরোয়া জিনিস ব্যবহার করলেই তেলাপোকা ও বোলতার যন্ত্রণা শেষ, ঘর ভরবে প্রাকৃতিক সতেজতায়
সন্ধ্যাবেলায় বসে পা নাড়ানোকে বাস্তুশাস্ত্রে বিশেষভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সন্ধ্যা সময়টিকে শক্তির পরিবর্তনের সময় বলা হয়। এই সময় পা দোলালে বাড়িতে নেগেটিভ এনার্জি প্রবেশ করে বলে মনে করা হয়। এর ফলে বাড়ির প্রতিটি সদস্যের ওপর তার কুপ্রভাব পড়ে। কাজকর্মে অকারণ বাধা, মানসিক চাপ এবং অশান্তি ক্রমশ বাড়তে থাকে।
আরও পড়ুন- ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, স্থূলতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন? বাবা রামদেবের আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি জেনে নিন
রাতে শোওয়ার আগে পা নাড়ানোর অভ্যাস পেশাগত জীবনের জন্যও ক্ষতিকর বলে শাস্ত্র জানাচ্ছে। এতে কর্মক্ষেত্রে জটিলতা, সহকর্মীদের সঙ্গে মতবিরোধ এবং অকারণ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। ব্যক্তিগত জীবনেও ভুল বোঝাবুঝি এবং দূরত্ব বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এমন ব্যক্তিরা প্রচুর পরিশ্রম করলেও তার সঠিক ফল পান না।
আরও পড়ুন- শীতের রোদে কাজে লাগান ন্যাচারাল ডি থেরাপি, স্থূলতা-চিনি-বিষণ্ণতা নিয়ন্ত্রণে রাখবে সূর্যের আলো!
খাবার টেবিলে বসে পা নাড়ানোও অত্যন্ত অশুভ অভ্যাস হিসেবে ধরা হয়। খাবার গ্রহণের সময় পা দোলানো মানে অন্ন ও লক্ষ্মীর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করা। এর ফলে জীবনে হঠাৎ লোকসান, আর্থিক ক্ষতি ও সম্মানহানির সম্ভাবনা তৈরি হয়। ধীরে ধীরে জীবন এলোমেলো হয়ে যেতে পারে।
শাস্ত্র বলছে, এই অভ্যাস ত্যাগ করার চেষ্টা করলেই ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সচেতনভাবে পা স্থির রেখে বসার অভ্যাস গড়ে তুললে মনও স্থির হতে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে অর্থ, স্বাস্থ্য ও পারিবারিক শান্তির ওপর। ছোট একটি বদঅভ্যাস ছাড়াই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব, শুধু প্রয়োজন সচেতনতা।
সতর্কীকরণ
এই প্রতিবেদনটি জ্যোতিষ এবং শাস্ত্রভিত্তিক বিশ্বাসের ওপর লেখা। এটি কুসংস্কার বা চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ নয়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us