/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/01/lucky-thread-color-2026-01-01-22-46-14.jpg)
Lucky Thread Color: হাতে সুতো বাঁধার নিয়ম জেনে নিন।
Lucky Thread Color: হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, মানুষের জীবনে শুভ ও অশুভ শক্তির প্রভাব সব সময় কাজ করে। সেই কারণেই প্রাচীন কাল থেকে নানা উপচার ও প্রতীক ব্যবহারের চল রয়েছে, যার মাধ্যমে মানুষ নিজের জীবনকে সুরক্ষিত ও মঙ্গলময় করার চেষ্টা করে। হাতে রংবেরঙের সুতো বাঁধাও তেমনই এক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাসভিত্তিক উপচার। অনেকেই এটি শুধুই অভ্যাস হিসেবে পরেন, কিন্তু শাস্ত্রমতে এই সুতোর রং, পরার নিয়ম এবং সময়ের উপরেই নির্ভর করে তার শুভ ফল।
হিন্দু ধর্মের বহু মানুষ মন্দিরে গিয়ে দেবদেবীর চরণে ছোঁয়ানো সুতো হাতে বাঁধেন। বিশ্বাস করা হয়, এই সুতো দেবতার আশীর্বাদের প্রতীক হয়ে সারাক্ষণ মানুষের সঙ্গে থাকে। তবে যে কোনও সুতো পরার আগে শুদ্ধিকরণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজার থেকে কেনা হোক বা তীর্থস্থান থেকে আনা হোক, সুতো পরার আগে তাতে গঙ্গাজল ছিটিয়ে নেওয়া উচিত। এর মাধ্যমে সুতোর অশুদ্ধতা দূর হয় এবং তা পরিধানের উপযোগী হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন- পরিবার অন্তপ্রাণ, চোখের মণি হন স্বজনেরাই, বাড়ির লোকেদের জন্য প্রাণপাত করেন এই ৫ রাশির ব্যক্তিরা
শাস্ত্র অনুযায়ী পুরুষেরা ডান হাতে এবং নারীরা বাঁ হাতে সাধারণত সুতো বাঁধেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে বৈবাহিক অবস্থার ওপরেও এই নিয়ম বদলায়। সুতো পরার সময় মন শান্ত রাখা এবং ঈশ্বরের নাম স্মরণ করা হলে তার ফল আরও বেশি কার্যকর হয় বলেই বিশ্বাস করা হয়।
আরও পড়ুন- নতুন বছরে এই ৫ ধরনের মানুষ থেকে দূরে থাকুন, না হলে পিছিয়ে পড়বেন!
হলুদ রঙ হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত শুভ বলে মানা হয়। হলুদ রঙের সঙ্গে জ্ঞান, সৌভাগ্য এবং সমৃদ্ধির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। হাতে হলুদ সুতো বাঁধলে কর্মক্ষেত্রে উন্নতি ঘটে বলে মনে করা হয়। জীবনে স্থায়িত্ব আসে, মানসিক অস্থিরতা কমে এবং বহুদিনের ইচ্ছাপূরণ হওয়ার পথ খুলে যায়। যাঁরা নতুন কাজ শুরু করতে চলেছেন বা শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতির কামনা করছেন, তাঁদের জন্য হলুদ সুতো বিশেষভাবে শুভ বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
আরও পড়ুন- আজ বৃহস্পতিবার কোন কাজ করলে আসবে টাকা, জানলে অবহেলা করবেন না!
লাল সুতো সবচেয়ে বেশি প্রচলিত এবং পরিচিত। অধিকাংশ মন্দিরেই প্রসাদ হিসেবে লাল সুতো দেওয়া হয়। এই রঙ শক্তি, সাহস এবং সুরক্ষার প্রতীক। বিশ্বাস করা হয়, লাল সুতো হাতে বাঁধলে অশুভ শক্তি দূরে থাকে এবং দেবদেবীর কৃপা লাভ করা যায়। পারিবারিক অশান্তি কমে, আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয় এবং শারীরিক দুর্বলতা কাটে। বিশেষ কিছু তিথিতে দেবতার চরণে ছুঁইয়ে এই সুতো বাঁধলে তার ফল আরও বৃদ্ধি পায় বলেই ধর্মীয় বিশ্বাস।
আরও পড়ুন- বিড়ালের মূর্তি থেকে অ্যাকোয়ারিয়াম, বাড়িতে রাখুন এই জিনিসগুলি, বদলে যেতে পারে খারাপ সময়
কমলা রঙ সাধারণত ত্যাগ, ধর্ম এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতীক। যদিও বাঙালি সমাজে কমলা সুতো বাঁধার প্রচলন তুলনামূলক কম, তবু শাস্ত্রমতে এই রঙের সুতো সমাজে সম্মান এবং প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করে। যাঁরা নেতৃত্বস্থানীয় কাজে যুক্ত বা সামাজিক সম্মান লাভের ইচ্ছা রাখেন, তাঁদের জন্য কমলা সুতো উপকারী বলে মনে করা হয়। এটি মানুষের মানসিক দৃঢ়তাও বাড়ায়।
কালো রঙকে অনেকেই অশুভ মনে করলেও শাস্ত্রীয় বিশ্বাসে কালো সুতো বিশেষ সুরক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হাতের কব্জিতে কালো সুতো বাঁধলে নজরদোষ, কুনজর এবং অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস করা হয়। দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমে এবং মানসিক শান্তি বজায় থাকে। বিশেষ করে যাঁরা বারবার অকারণে সমস্যায় পড়েন বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান, তাঁদের জন্য কালো সুতো উপকারী হতে পারে।
শাস্ত্রসম্মত নয়
তবে মনে রাখা জরুরি, শুধুমাত্র সুতো বাঁধলেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এমন ধারণা শাস্ত্রসম্মত নয়। বিশ্বাস, নিয়ম পালন এবং ইতিবাচক মনোভাব এই উপচারের মূল শক্তি। সুতো ছিঁড়ে গেলে বা নিজে থেকে খুলে গেলে তা পুনরায় শুদ্ধিকরণ করে পরা উচিত অথবা নতুন সুতো গ্রহণ করা উচিত। সব মিলিয়ে বলা যায়, হাতে রংবেরঙের সুতো বাঁধা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় রীতি নয়, বরং মানুষের বিশ্বাস এবং মানসিক শক্তির সঙ্গে বিষয়টি গভীরভাবে যুক্ত একটি উপচার। সঠিক নিয়ম মেনে, প্রয়োজন অনুযায়ী রঙ বেছে সুতো পরলে তা জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই বিশ্বাস করা হয় শাস্ত্রে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us