/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/19/magh-gupt-navratri-2026-2026-01-19-09-17-46.jpg)
Magh Gupt Navratri 2026: গুপ্ত নবরাত্রি সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
Magh Gupt Navratri 2026: মাঘ গুপ্ত নবরাত্রি ২০২৬ হিন্দু ধর্মে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও রহস্যময় উৎসব। প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হওয়া এই নবরাত্রিকে ‘গুপ্ত’ বলা হয় কারণ এই সময় দেবী শক্তির আরাধনা প্রকাশ্যে নয়, বরং গোপনভাবে করা হয়। শাস্ত্র মতে, এই নবরাত্রি দশ মহাবিদ্যার উপাসনার জন্য সর্বাধিক ফলপ্রদ। সাধারণ গৃহস্থ থেকে শুরু করে তান্ত্রিক, সাধক ও অঘোরী সম্প্রদায়ের কাছে মাঘ গুপ্ত নবরাত্রির গুরুত্ব অপরিসীম।
২০২৬ সালে মাঘ গুপ্ত নবরাত্রি শুরু হচ্ছে ১৯ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ২৮ জানুয়ারি। মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের প্রতিপদ তিথি ১৯ জানুয়ারি ভোর ১টা ২১ মিনিটে শুরু হয়ে ২০ জানুয়ারি ভোর ২টা ১৪ মিনিটে শেষ হবে। এই সময়কালকে শক্তি সাধনার জন্য অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই নয় দিনে নিষ্ঠার সঙ্গে মা দুর্গা বা দশ মহাবিদ্যার আরাধনা করলে বহুদিনের অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ হয় এবং জীবনের বাধা দূর হয়।
মাঘ গুপ্ত নবরাত্রির প্রথম দিনেই ঘট বা বা কলশ স্থাপন করা হয়। ২০২৬ সালে ঘটস্থাপনার শুভ মুহূর্ত রয়েছে সকাল ৭টা ১৪ মিনিট থেকে সকাল ১০টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে কলশ স্থাপন করলে সাধনায় সিদ্ধি লাভ হয় বলে বিশ্বাস। এছাড়াও যাঁরা এই সময়ের মধ্যে করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য রয়েছে অভিজিৎ মুহূর্ত, যা দুপুর ১২টা ১১ মিনিট থেকে ১২টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। শাস্ত্রমতে, অভিজিৎ মুহূর্তে করা যে কোনও শুভ কাজ ফলদায়ক হয়।
এই গোপন নবরাত্রির প্রতিটি দিনের নিজস্ব তিথি ও গুরুত্ব রয়েছে। ১৯ জানুয়ারি প্রতিপদ, ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয়া, ২১ জানুয়ারি তৃতীয়া, ২২ জানুয়ারি চতুর্থী, ২৩ জানুয়ারি পঞ্চমী, ২৪ জানুয়ারি ষষ্ঠী, ২৫ জানুয়ারি সপ্তমী, ২৬ জানুয়ারি অষ্টমী এবং ২৭ জানুয়ারি নবমী তিথি পালিত হবে। অনেক জায়গায় ২৬ জানুয়ারিতেই নবরাত্রির ব্রত পারণ করা হয়। প্রতিটি তিথিতে দেবীর ভিন্ন ভিন্ন রূপের আরাধনা করা হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন- চেনা স্বাদের অচেনা গুণ! নতুন বছরে ভাগ্য ফেরাবে হেঁশেলের এই ৫ মশলা
মাঘ গুপ্ত নবরাত্রির সময় কিছু বিশেষ নিয়ম পালন করা অত্যন্ত জরুরি। এই সময় তামসিক আহার যেমন মাংস, মদ, পেঁয়াজ ও রসুন সম্পূর্ণভাবে বর্জন করতে বলা হয়েছে। মন, বাক্য ও কর্মে পবিত্রতা বজায় রাখা এই নবরাত্রির মূল উদ্দেশ্য। মিথ্যা বলা, অহংকার ও ক্রোধ থেকে দূরে থাকা উচিত। বয়স্ক মানুষ ও নারীদের সম্মান করা এবং কারও মনে কষ্ট না দেওয়া এই সাধনার অঙ্গ।
আরও পড়ুন- মহাশিবরাত্রি কবে, ১৪ না ১৫ ফেব্রুয়ারি? রাতে পূজার সঠিক সময় ও শুভ মুহূর্ত জেনে নিন
শাস্ত্র অনুযায়ী, গুপ্ত নবরাত্রির নয় দিনে চুল, দাড়ি ও নখ না কাটাই শ্রেয়। যাঁরা পূর্ণ নয় দিনের উপবাস করছেন, তাঁদের জন্য লবণ গ্রহণ নিষিদ্ধ বলে ধরা হয়। পাশাপাশি, ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও নিত্য পূজা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে গৃহস্থদের জন্য সতর্কবার্তা রয়েছে—কোনওভাবেই কারও ক্ষতির উদ্দেশ্যে তান্ত্রিক বা তামসিক সাধনা করা উচিত নয়। শাস্ত্রমতে, সামান্য ভুলও জীবনে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
আরও পড়ুন- জেগে দেখা টাকার স্বপ্ন পূরণের সঙ্গী স্বপ্ন! এই ৫টি জিনিস দেয় হঠাৎ অর্থপ্রাপ্তির ইঙ্গিত
এই নবরাত্রির মূল ভাবনা হল আত্মশুদ্ধি ও শক্তি উপাসনা। দশ মহাবিদ্যার আরাধনার মাধ্যমে সাধক নিজের ভিতরের নেতিবাচক শক্তিকে জয় করতে পারেন বলে বিশ্বাস। মা কালিকা, তারা, ষোড়শী, ভুবনেশ্বরী, ছিন্নমস্তা, ভৈরবী, ধূমাবতী, বগলামুখী, মাতঙ্গী ও কমলা—এই দশ মহাবিদ্যার গোপন সাধনাই মাঘ গুপ্ত নবরাত্রির বিশেষত্ব।
আরও পড়ুন- কবে সরস্বতী পূজা, কতক্ষণ থাকবে বসন্ত পঞ্চমী তিথি?
সবশেষে বলা যায়, মাঘ গুপ্ত নবরাত্রি ২০২৬ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং আত্মসংযম, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক উন্নতির এক বিশেষ সময়। শুদ্ধ মনে ও নিয়ম মেনে এই নয় দিন মা শক্তির আরাধনা করলে জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাফল্য আসতে পারে—এমনটাই বিশ্বাস।
সতর্কবাণী
এই প্রতিবেদনটি ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত শাস্ত্রীয় তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us