Magh Month Rules: মাঘে মুলো খাওয়া কেন নিষেধ! কী খাওয়া যাবে না এই মাসে? কোন কাজ থেকে বিরত থাকতে বলছে শাস্ত্র?

Magh Month Rules: মাঘ মাসে মুলো খাওয়া কেন নিষেধ? কোন খাবার ও কাজ এড়িয়ে চলতে বলছে শাস্ত্র? মাঘ মাসের খাদ্য এবং আচরণবিধি সম্পর্কে জেনে নিন বিস্তারিত।

Magh Month Rules: মাঘ মাসে মুলো খাওয়া কেন নিষেধ? কোন খাবার ও কাজ এড়িয়ে চলতে বলছে শাস্ত্র? মাঘ মাসের খাদ্য এবং আচরণবিধি সম্পর্কে জেনে নিন বিস্তারিত।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Magh Month Rules: মাঘে মুলো খাওয়া কেন নিষেধ, জেনে নিন বিস্তারিত।

Magh Month Rules: মাঘে মুলো খাওয়া কেন নিষেধ, জেনে নিন বিস্তারিত।

Magh Month Rules: হিন্দু শাস্ত্রমতে বছরের বারোটি মাসের মধ্যে মাঘ মাসকে অত্যন্ত শুভ ও পবিত্র বলে মনে করা হয়। এই মাসে সূর্যের অবস্থান, তিথি ও গ্রহগত প্রভাবের কারণে আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায় বলে বিশ্বাস। তাই মাঘ মাসে যেমন নানা শুভ কাজ করার রীতি রয়েছে, তেমনই কিছু খাদ্যাভ্যাস ও আচরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশও শাস্ত্রে পাওয়া যায়। এই নিয়মগুলি মানলে ঈশ্বরের কৃপা লাভ হয় এবং অমান্য করলে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বলে ধারণা প্রচলিত।

Advertisment

চলতি বছর ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে মাঘ মাস। এই মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পুজো হয় এবং বাঙালি হিন্দু পরিবারে এই সময় বিয়ে, অন্নপ্রাশন, উপনয়ন প্রভৃতি শুভ অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়। শুভ মাস বলেই এই সময় নিজেকে শুদ্ধ রাখা, সংযমী জীবনযাপন করা এবং খাদ্য ও আচরণে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।

শাস্ত্রমতে মুলো খাওয়া

শাস্ত্রমতে মাঘ মাসে মুলো খাওয়া নিষিদ্ধ। বিশ্বাস করা হয়, এই মাসে মুলো খেলে শরীরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং অজান্তেই আর্থিক ক্ষতি বা মানসিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। মুলো এমন একটি সবজি যা শরীরে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং এটা মাঘ মাসের শীতলতা ও পবিত্র শক্তির বিরোধী বলেই মনে করা হয়। তাই এই পুরো মাসজুড়ে মুলো না খাওয়াই শ্রেয়।

আরও পড়ুন- ওষুদের দরকার পড়বে না, রান্নাঘরের এই মশলাতেই শরীর থাকবে নীরোগ!

এই মাসে তামসিক খাদ্য থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়। পেঁয়াজ, রসুন, মাছ, মাংস এবং যে কোনও ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ মাঘ মাসে অনুচিত বলে ধরা হয়। শাস্ত্র মতে, এই ধরনের খাবার মানুষের মন ও শরীরে অস্থিরতা বাড়ায় এবং আধ্যাত্মিক উন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করে। যদিও সবার পক্ষে সম্পূর্ণ নিরামিষ থাকা সম্ভব না-ও হতে পারে, তবু অন্তত সপ্তাহে একদিন নিরামিষ আহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে পুরো মাস দূরে থাকাই শ্রেয়।

আরও পড়ুন- চা বানানোর এই বিষয়গুলো এড়িয়ে চলুন, সঠিক কায়দা জানুন চিকিৎসকের থেকে

মাঘ মাসে শুধু খাবার নয়, জীবনযাপনের ধরনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় ঘর-বাড়ি পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, ঘরে ধুলো-ময়লা জমে থাকলে লক্ষ্মীদেবী সেই ঘর ত্যাগ করেন। বিশেষ করে যে স্থানে ঠাকুর রাখা হয়, সেই জায়গা প্রতিদিন পরিষ্কার রাখা ও প্রদীপ জ্বালানো শুভ ফল দেয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধু বাহ্যিক নয়, মানসিক শুদ্ধতার প্রতীক বলেও ধরা হয়।

আরও পড়ুন- ঘর হবে শান্তির নীড়! পজিটিভ এনার্জি ও সৌভাগ্য ফেরাতে ঘরে রাখুন এই ৮টি গাছ

এই মাসে কথাবার্তায় সংযম বজায় রাখার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গালিগালাজ, কটু কথা বলা, অন্যের নিন্দা বা সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। শাস্ত্র মতে, মাঘ মাসে উচ্চস্বরে কথা বলা, অযথা রাগ করা বা ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়লে তার নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে জীবনে থেকে যেতে পারে। তাই এই সময় শান্ত, সংযত এবং নম্র আচরণ বজায় রাখা অত্যন্ত শুভ।

আরও পড়ুন- হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অব্যর্থ এই ফল, গুণ জানলে আজ থেকেই খাবেন! 

বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি ও শিশুদের প্রতি আচরণেও মাঘ মাসে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। মাঘ মাসে কোনও বয়োজ্যেষ্ঠকে অপমান করা বা কোনও শিশুর প্রতি কঠোর আচরণ করলে পাপের ভাগ বাড়ে বলে বিশ্বাস। বরং এই মাসে যতটা সম্ভব সাহায্য, সহানুভূতি ও দয়ার মনোভাব দেখানো উচিত। অসহায় মানুষকে সাহায্য করলে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন এবং জীবনে শুভ ফল ফিরে আসে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মাঘ মাস কেবল ধর্মীয় আচারের সময় নয়, আত্মসংযম এবং শুদ্ধ জীবনযাপনের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই মাসে কিছু খাবার ও কাজ থেকে বিরত থাকলে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, মানসিক শান্তি এবং পারিবারিক স্থিতিও বজায় থাকে। তাই শাস্ত্রের নির্দেশ মেনে চলাই এক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের কাজ।

rules Month Magh