/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/30/maghi-purnima-2026-ganga-snan-2026-01-30-16-45-53.jpg)
Maghi Purnima 2026 Ganga Snan: জেনে নিন গঙ্গাস্নানের মাহাত্ম্য।
Maghi Purnima 2026 Ganga Snan: হিন্দু ধর্মে পূর্ণিমা তিথির গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিটি পূর্ণিমাই কোনও না কোনও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে, তবে মাঘ মাসের পূর্ণিমা বিশেষভাবে পবিত্র বলে বিবেচিত। এই তিথি মাঘী পূর্ণিমা নামে পরিচিত। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে গঙ্গাস্নান করলে বহু জন্মের পাপক্ষয় হয় এবং জীবনে শুভ ফল লাভ করা যায়। তাই প্রতিবছর কয়েক লক্ষ মানুষ এই দিনে গঙ্গা ও অন্যান্য পবিত্র নদীতে স্নান করে থাকেন।
মাঘ মাস এমনিতেই সংযম ও পবিত্রতার মাস হিসেবে পরিচিত। শাস্ত্রমতে, এই মাসে শুদ্ধ জীবনযাপন, দানধ্যান এবং ভগবানের আরাধনা করলে জীবনের নানা কষ্ট দূর হয়। মাঘী পূর্ণিমা সেই সাধনার চূড়ান্ত দিন বলেও অনেকে মনে করেন। এই দিন গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে শরীরের পাশাপাশি মনকেও শুদ্ধ করা যায় বলে বিশ্বাস।
কবে মাঘী পূর্ণিমা?
২০২৬ সালে মাঘী পূর্ণিমা পালিত হবে ১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার। এই পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে এবং শেষ হবে ২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার শেষ রাত ৩টা ৩৮ মিনিটে। এই সময়ের মধ্যেই পূর্ণিমা তিথির ধর্মীয় কাজকর্ম সম্পন্ন করা সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়।
আরও পড়ুন- ১৬৫ বছর পর বিরল অর্ধকেন্দ্র যোগ, এই তিন রাশির ভাগ্যে খুলছে অর্থ ও প্রতিপত্তির দরজা
মাঘী পূর্ণিমার দিনে স্নানের জন্য নির্দিষ্ট কোনও একটিমাত্র সময় বেঁধে দেওয়া নেই। পূর্ণিমা তিথি থাকাকালীন যে কোনও সময় গঙ্গাস্নান করা যায়। তবে শাস্ত্র মতে, চাঁদের আলো থাকাকালীন স্নান করলে তার পুণ্যফল আরও বৃদ্ধি পায়। তাই অনেকেই ভোররাতে বা খুব সকালে গঙ্গাস্নান করতে পছন্দ করেন। কেউ যদি সেই সময় স্নান করতে না পারেন, তবে সূর্য ওঠার পর স্নান করলেও কোনও অসুবিধা নেই।
আরও পড়ুন- নিজের গর্ত নিজেই খোঁড়েন! এই ৬ রাশির ব্যক্তিরাই হন নিজের সমস্যার মূল কারণ
এই পবিত্র তিথিতে শুধু স্নানই নয়, আরও কিছু কাজ করলে বিশেষ সুফল পাওয়া যায়। পূর্ণিমার দিনে লক্ষ্মী ও বিষ্ণুর যুগল আরাধনার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই পুজোর ফলে দাম্পত্য জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে। মাঘী পূর্ণিমার সন্ধ্যায় ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে হলুদ রঙের ফুল ও মিষ্টি নিবেদন করলে সংসারে সুখ বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন- জয়া একাদশীতে বিরাট যোগ, কোন পূজায় মিলবে সুখ-শান্তি?
দানধ্যানও এই দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, পূর্ণিমা তিথিতে দান করলে তার ফল বহু গুণ বৃদ্ধি পায়। এই দিনে ঘি, গুড়, শীতের পোশাক, চাল, গম কিংবা ফলমূল দান করা অত্যন্ত শুভ। তবে দানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মন। সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে নয়, শুদ্ধ মনে যতটুকু সম্ভব ততটুকু দান করলেই যথেষ্ট।
আরও পড়ুন- শ্রীকৃষ্ণের এই উপদেশগুলি মেনে চললে জীবন বদলে যাবে!
আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি বাড়ানোর জন্য মাঘী পূর্ণিমার সকালে স্নানের পর সূর্যকে জল অর্পণ করার কথাও বলা হয়েছে। এই সময় সূর্যের উদ্দেশে প্রার্থনা করলে মনে ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার হয় এবং জীবনের বাধা কাটতে সাহায্য করে।
তবে এই বিশেষ তিথিতে কিছু কাজ একেবারেই করা উচিত নয়। মাঘী পূর্ণিমার দিনে ঝগড়া, অশান্তি বা কারও সঙ্গে তর্কে জড়ানো নিষিদ্ধ বলে মনে করা হয়। এই দিনে মানসিক সংযম বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি কালো রঙের পোশাক পরা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এই দিনটি শুভ শক্তির সঙ্গে যুক্ত।
সব মিলিয়ে মাঘী পূর্ণিমা এমন একটি দিন, যা শরীর, মন ও আত্মাকে শুদ্ধ করার সুযোগ এনে দেয়। নিয়ম ও বিশ্বাস মেনে এই তিথি পালন করলে জীবনে শান্তি, পুণ্য ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us