/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/02/maha-shivratri-2026-2026-02-02-12-57-34.jpg)
Maha Shivratri 2026: মহাশিবরাত্রি ২০২৬।
Maha Shivratri 2026: প্রেমের মানুষটি মনের কথা খুলে বলছেন না, কিংবা সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও বিয়ের পথে বারবার বাধা আসছে—এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাশিবরাত্রি এমন একটি পবিত্র তিথি, যেদিন ভক্তিভরে শিব ও পার্বতীর আরাধনা করলে প্রেম ও দাম্পত্য জীবনের জটিলতা দূর হতে পারে। তাই এই বিশেষ দিনে সঠিক নিয়মে ব্রত ও পুজো করলে মনের ইচ্ছা পূরণ হতে পারে। এমনটাই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে শাস্ত্রে।
মহাশিবরাত্রি প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পবিত্র রাতেই ভগবান শিব ও দেবী পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। সেই কারণেই এই দিনটি প্রেম, দাম্পত্য ও সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে উপোস ও তপস্যার মাধ্যমে শিব-পার্বতীর কৃপা লাভ করলে জীবনে মনের মতো সঙ্গী পাওয়া সম্ভব হয়।
যাঁরা ইতিমধ্যে প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন
যাঁরা ইতিমধ্যে প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন এবং সেটিকে পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে চান, তাঁদের জন্য এই মহাশিবরাত্রির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই দিনে সঙ্গীর সঙ্গে মন্দিরে গিয়ে শিব ও পার্বতীর পুজো করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। ভক্তিভরে পুজো করলে দু’জনের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ে এবং সম্পর্কের ওপর জমে থাকা বাধা ধীরে দূর হতে শুরু করে।
আরও পড়ুন- এবছর কবে পড়েছে মহাশিবরাত্রি? জানুন নিশীথ কাল ও চার প্রহরের পুজোর সময়
ধর্মীয় মতে, মহাশিবরাত্রির দিনে হাতে একটি লাল সুতো নিয়ে শিব ও পার্বতীর মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে সাতবার প্রদক্ষিণ করা বিশেষ ফলদায়ক। প্রদক্ষিণের সময় মনে মনে নিজের ইচ্ছা ও সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রার্থনা জানাতে হয়। প্রদক্ষিণ শেষে সেই লাল সুতোটি বাঁধতে হয় এবং দেবী পার্বতীর কাছে মনের কথা জানিয়ে প্রণাম করতে হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে প্রেমের সম্পর্কে স্থায়িত্ব আসে।
আরও পড়ুন- ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মেষ থেকে মীন, কার ভাগ্য খুলবে, কার সতর্ক থাকা দরকার?
এই দিনে লাল রঙের পোশাক পরার আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। লাল রঙকে ভালোবাসা, শক্তি ও বিবাহের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। মহাশিবরাত্রিতে দেবী পার্বতীর উদ্দেশ্যে লাল চুড়ি, লাল ফুল, লাল ওড়না বা লাল বস্ত্র অর্পণ করলে তাঁর কৃপা লাভ করা যায় বলেই বিশ্বাস। দেবীর কাছে প্রার্থনা করতে হয়, যেন তাঁর মতোই নিজের জীবনে একজন বিশ্বস্ত ও ভালোবাসায় ভরপুর সঙ্গী পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন- বিয়ের আগে এই ৪টি মেডিকেল পরীক্ষা করান, বর-কনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করুন!
উপোস পালনও এই ব্রতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সারাদিন উপোস রেখে চার প্রহরে পঞ্চামৃত দিয়ে শিবলিঙ্গের অভিষেক করা বিশেষ পুণ্যফল দেয় বলে মনে করা হয়। নিশীথ কালে অর্থাৎ গভীর রাতে শিব ও পার্বতীর মাথায় জল ঢেলে অভিষেক করলে সেই প্রার্থনা দ্রুত ফলপ্রসূ হয় বলেই ভক্তদের বিশ্বাস। এই সময় নিজের মনের গভীর ইচ্ছা শিবের কাছে নিবেদন করার রীতি প্রচলিত।
আরও পড়ুন- ত্বকের নানা সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে লেবুর রস ও বেসন এইভাবে ব্যবহার করুন!
পুজো ও ব্রত সম্পন্ন হওয়ার পর নিজের অজান্তে হওয়া কোনও ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করাও অত্যন্ত জরুরি। এতে মন শান্ত থাকে এবং ভক্তিতে পূর্ণতা আসে। শাস্ত্র মতে, শুদ্ধ মন ও নিষ্ঠা থাকলে দেবতা অবশ্যই ভক্তের ডাকে সাড়া দেন।
মহাশিবরাত্রি শুধু একটি উপোস বা আচার নয়, এটি আত্মশুদ্ধিরও একটি বিশেষ দিন। এই দিনে নিজের মন পরিষ্কার রেখে, অহংকার ত্যাগ করে এবং সম্পূর্ণ ভক্তিভরে শিব-পার্বতীর আরাধনা করলে প্রেম, সম্পর্ক ও বিবাহ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান সম্ভব বলেই বিশ্বাস করা হয়। তাই যদি ক্রাশের মনের কথা বুঝতে না পারেন বা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন, তবে এই মহাশিবরাত্রিতে ভক্তি ও বিশ্বাসের সঙ্গে ব্রত পালন করে দেখতে পারেন আপনিও।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us