/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/14/makar-sankranti-vrat-katha-2026-01-14-12-23-42.jpg)
Makar Sankranti Vrat Katha: মকর সংক্রান্তির এই ব্রত কথাগুলো মনে রাখার মত।
Makar Sankranti Vrat Katha: হিন্দুধর্মে মকর সংক্রান্তি একটি অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ তিথি। এই দিন সূর্য দেবতা ধনু রাশি ত্যাগ করে মকর রাশিতে প্রবেশ করেন এবং এর সঙ্গে সূচনা হয় উত্তরায়ণের শুভকালের। শাস্ত্র মতে, উত্তরায়ণ দেবতাদের দিন এবং এই সময় করা স্নান, দান, জপ ও উপাসনা মানুষের জীবনে বিশেষ পুণ্য ও আধ্যাত্মিক উন্নতি এনে দেয়। তাই মকর সংক্রান্তিকে শুধু ঋতু পরিবর্তনের উৎসব হিসেবে নয়, বরং মুক্তি ও পুণ্য লাভের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবেও দেখা হয়।
২০২৬ সালে মকর সংক্রান্তি পালিত হচ্ছে ১৪ জানুয়ারি। এই দিনে গঙ্গা, যমুনা বা অন্য কোনও পবিত্র নদীতে স্নান করলে এবং সূর্য দেবতার উদ্দেশ্যে অর্ঘ্য প্রদান করলে অনন্ত পুণ্য লাভ হয় বলে বিশ্বাস। শাস্ত্র অনুযায়ী, এই দিনে ব্রত কথা পাঠ করাও অত্যন্ত শুভ। এই ব্রত কথাগুলি মানুষের মনকে শুদ্ধ করে এবং ধর্মীয় পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে।
আরও পড়ুন- জীবনে সমৃদ্ধি চান? জানুন, রাশি মিলিয়ে মকর সংক্রান্তিতে কী দান করলে পাল্টাবে ভাগ্য!
ভবিষ্য পুরাণ অনুসারে, সূর্য যখন তার দক্ষিণায়ণ যাত্রা শেষ করে উত্তর দিকে অগ্রসর হন, তখন সেই সংক্রান্তিকে মকর সংক্রান্তি বলা হয়। এই সময়টিকে দেবতাদের ঊষাকাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এই দিনে করা যে কোনও ধর্মীয় কাজ বহু গুণে ফল দেয় বলে বিশ্বাস করা হয়। এই কারণেই মকর সংক্রান্তির দিনে ব্রত পালন এবং সংশ্লিষ্ট কাহিনি পাঠের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
আরও পড়ুন- কোন রাশির ভাগ্যে অর্থ, কোন রাশির জীবনে বিদেশযাত্রা? দেখুন আজকের রাশিফল
ব্রত কাহিনি
মকর সংক্রান্তির প্রথম ব্রত কাহিনি সূর্যদেব ও শনিদেবকে ঘিরে। পুরাণ অনুসারে, মা ছায়ার গর্ভে জন্ম নেওয়া শনিদেবকে দেখে সূর্যদেব প্রথমে তাঁকে নিজের পুত্র বলে স্বীকার করেননি। এই ঘটনায় ছায়া অত্যন্ত দুঃখিত ও ক্রুদ্ধ হন এবং সূর্যদেবকে কুষ্ঠরোগে ভোগার অভিশাপ দেন। পরবর্তীকালে যমদেব সূর্যদেবের রোগ নিরাময় করেন এবং পিতাকে শনিদেবের সঙ্গে দেখা করার পরামর্শ দেন। শনিদেব কালো তিল দিয়ে সূর্যদেবকে আপ্যায়ন করলে সূর্যদেব সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে মকর নামে এক গৃহ দান করেন। এই কাহিনির মধ্য দিয়েই মকর রাশির মাহাত্ম্য ও তিল দানের ধর্মীয় গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন- এবারের সরস্বতী পুজোয় অঞ্জলির সময় কখন? জেনে নিন সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট
মকর সংক্রান্তির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাহিনি দেবী গঙ্গার অবতরণ ও রাজা সগরের পুত্রদের মুক্তির সঙ্গে যুক্ত। রাজা ভাগীরথ কঠোর তপস্যার মাধ্যমে দেবী গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে নামতে রাজি করান। মকর সংক্রান্তির দিনেই গঙ্গা পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং কপিল মুনির আশ্রম হয়ে গঙ্গাসাগরে পৌঁছন। গঙ্গার পবিত্র জল রাজা সগরের ৬০,০০০ পুত্রের অস্থি স্পর্শ করলে তাঁরা মুক্তিলাভ করেন। এই কারণেই মকর সংক্রান্তিতে গঙ্গা স্নান এবং গঙ্গাসাগর মেলার বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে।
আরও পড়ুন- সরস্বতী পুজোর আগে কুল খেলে কি রেগে যান বাগদেবী? জানুন বিশ্বাস, পুরাণ ও স্বাস্থ্যগত আসল সত্য
তৃতীয় ব্রত কাহিনি মহাভারতের ভীষ্ম পিতামহকে ঘিরে। ভীষ্ম পিতামহ ইচ্ছামৃত্যুর বরপ্রাপ্ত ছিলেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পরে তিনি সূর্যের উত্তরায়ণ শুরু হওয়ার অপেক্ষায় তীরশয্যায় দিন কাটান। শাস্ত্র মতে, উত্তরায়ণে দেহত্যাগ করলে মোক্ষ লাভ হয়। সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই ভীষ্ম পিতামহ দেহত্যাগ করেন এবং মুক্তিলাভ করেন। এই ঘটনাই মকর সংক্রান্তিকে মোক্ষদায়ক তিথি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই তিনটি পৌরাণিক কাহিনি মকর সংক্রান্তির আধ্যাত্মিক গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। তাই এই দিনে সূর্য উপাসনা, গঙ্গা স্নান, দান এবং ব্রত কথা পাঠ করলে জীবনে পুণ্য, শান্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us