/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/23/matangi-2026-01-23-14-41-47.jpg)
Matangi Navratri 2026: মাতঙ্গী নবরাত্রির পঞ্চম দিনে দেবীর কোন রূপের আরাধনা করা হয়, জেনে নিন।
Matangi Navratri 2026: বর্তমানে চলছে মাতঙ্গী নবরাত্রি—তন্ত্রসাধনার এক গভীর ও গূঢ় অধ্যায়। অনেকেই জানেন না যে এই নবরাত্রি শুধু দেবী আরাধনার আনুষ্ঠানিক উৎসব নয়, বরং মানুষের চেতনা, বাক্, জ্ঞান ও আত্মউন্নয়নের ধাপে উত্তরণের প্রতীক। দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী মাতঙ্গী মূলত সেই শক্তির প্রতিরূপ, যিনি প্রচলিত শুদ্ধ–অশুদ্ধের সীমা ভেঙে জ্ঞানকে সর্বজনীন করেন। তাই মাতঙ্গী নবরাত্রির প্রতিটি দিন এক একটি মানসিক ও আধ্যাত্মিক স্তরের প্রতিনিধিত্ব করে।
মাতঙ্গী নবরাত্রির প্রথম দিনে পূজিত হন শুদ্ধ মাতঙ্গী। এই রূপ দেবীর আদ্যশক্তির প্রতীক। শুদ্ধ মাতঙ্গী সাধকের মনে স্থিরতা, সংযম ও আত্মনিয়ন্ত্রণের বোধ জাগ্রত করেন। এই দিন সাধনার সূচনা মানে নিজের অন্তর্লোক পরিষ্কার করা, অহং ও চঞ্চলতা থেকে সরে এসে শুদ্ধ চেতনায় প্রবেশ করা। তন্ত্রমতে, এই দিনেই সাধকের মানসিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।
আরও পড়ুন- এই পবিত্র কাহিনি না জানলে অপূর্ণ থেকে যায় বসন্ত পঞ্চমীর পূজা
দ্বিতীয় দিনে দেবীর করুণাময়ী মাতঙ্গী রূপের আরাধনা করা হয়। এই রূপে দেবী মাতৃত্ব ও সহানুভূতির প্রতীক। করুণাময়ী মাতঙ্গী মানুষের অন্তরের ভয়, অপরাধবোধ ও মানসিক ভার লাঘব করেন। যাঁরা দীর্ঘদিন মানসিক অস্থিরতা বা আত্মগ্লানিতে ভোগেন, তাঁদের জন্য এই দিন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে ধরা হয়।
আরও পড়ুন- বসন্ত পঞ্চমীতে সরস্বতী পুজোয় কোন হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় করবেন বন্ধু ও বান্ধবীর মন জয়?
মাতঙ্গী নবরাত্রির তৃতীয় দিনে পূজিতা হন বিদ্যা মাতঙ্গী। এই রূপ জ্ঞান, শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, গবেষক, শিল্পী ও লেখকদের কাছে এই দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যা মাতঙ্গীর কৃপায় চিন্তার স্বচ্ছতা, স্মৃতিশক্তি ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পায়—এমনটাই বিশ্বাস করা হয় তান্ত্রিক শাস্ত্রে।
আরও পড়ুন- আজ কেমন যাবে আপনার দিন? জানুন ১২ রাশির সম্পূর্ণ রাশিফল
চতুর্থ দিনে দেবী রূপে আরাধনা করা হয় বাক্সিদ্ধি মাতঙ্গীকে। এই রূপ মানুষের বাকশক্তি ও প্রকাশভঙ্গির অধিষ্ঠাত্রী। কথার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার, যুক্তি ও সৃজনশীল ভাষার জন্ম এই রূপের মাধ্যমেই ঘটে। তন্ত্রমতে, এই দিনে গভীর সাধনায় সিদ্ধি লাভ করলে ব্যক্তির বাক্যে স্বতঃস্ফূর্ত প্রভাব সৃষ্টি হয়।
মাতঙ্গী নবরাত্রির ৫ম রূপ
মাতঙ্গী নবরাত্রির পঞ্চম দিনে পূজা করা হয় মহামাতঙ্গী রূপের। মহামাতঙ্গী হল দেবীর বিস্তৃত ও সর্বব্যাপী রূপ, যেখানে দশ মহাবিদ্যার শক্তি একত্রে প্রকাশ পায়। এই রূপ সাধককে সংকীর্ণ চিন্তার গণ্ডি ভেঙে বৃহত্তর সত্যের উপলব্ধিতে পৌঁছাতে সাহায্য করে। আত্মজ্ঞান ও দার্শনিক উপলব্ধির এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন- বসন্ত পঞ্চমীতে নিবেদন করুন দেবী সরস্বতীর প্রিয় ৫টি ভোগ, মিলবে সাফল্যের আশীর্বাদ
ষষ্ঠ দিন মাতঙ্গী নবরাত্রির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনেই পূজিত হন উচ্ছিষ্ট মাতঙ্গী। এখানেই এসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে—সরস্বতী পুজোর রাতেই দেবীর কোন রূপের পূজা হয়? তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী, সরস্বতী পুজোর রাত অর্থাৎ বসন্ত পঞ্চমীর নিশিথ প্রহরে উচ্ছিষ্ট মাতঙ্গীর আরাধনাই সর্বাধিক প্রচলিত। কারণ সরস্বতী যেখানে বৈদিক জ্ঞানের শুদ্ধ প্রকাশ, সেখানে উচ্ছিষ্ট মাতঙ্গী হল সেই জ্ঞান যা প্রান্তিক, অবহেলিত ও মূলধারার বাইরে থেকেও সত্য। এই রাতের সাধনাকে অত্যন্ত গোপন ও শক্তিশালী বলে মনে করা হয়।
সপ্তম দিনে দেবী পূজিত হন রাজ মাতঙ্গী রূপে। এই রূপ নেতৃত্ব, কর্তৃত্ব ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। রাজ মাতঙ্গীর কৃপায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং ব্যক্তিত্বে দৃঢ়তা আসে। সমাজে নেতৃত্ব দেওয়ার মানসিক শক্তি এই রূপের মাধ্যমেই বিকশিত হয়।
অষ্টম দিনে দেবী পূজিতা হন গুপ্ত মাতঙ্গী রূপে। এই রূপ গূঢ় সাধনা, অন্তর্মুখী ধ্যান ও নীরব আত্মজিজ্ঞাসার সঙ্গে যুক্ত। এই দিনে বাহ্যিক আচার নয়, বরং নিঃশব্দ ধ্যান ও চেতনার গভীরে প্রবেশ করাই মূল লক্ষ্য। অনেক সাধক এই দিনকে নবরাত্রির সবচেয়ে রহস্যময় অধ্যায় বলে মনে করেন।
নবম ও শেষ দিনে আরাধনা করা হয় সিদ্ধ মাতঙ্গী রূপের। এই রূপ সাধনার পরিণতি বা সিদ্ধিলাভের প্রতীক। বিশ্বাস করা হয়, সিদ্ধ মাতঙ্গীর কৃপায় সাধকের চেতনায় পূর্ণতা আসে এবং জীবনের উদ্দেশ্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সব মিলিয়ে মাতঙ্গী নবরাত্রি এক গভীর তান্ত্রিক যাত্রা—যেখানে শুদ্ধতা থেকে শুরু করে সিদ্ধির ধাপে এগিয়ে যেতে হয়। সরস্বতী পুজোর রাতেই উচ্ছিষ্ট মাতঙ্গীর আরাধনা এই যাত্রার কেন্দ্রীয় বিন্দু, যেখানে জ্ঞান আর মুক্তির সীমারেখা মিলিয়ে যায়।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us