/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/07/mauni-amavasya-2026-2026-01-07-20-45-29.jpg)
Mauni Amavasya 2026: জেনে নিন এর তাৎপর্য।
Mauni Amavasya 2026: সনাতন ধর্মে অমাবস্যা তিথির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বছরের প্রতিটি অমাবস্যার নিজস্ব তাৎপর্য থাকলেও, মাঘ মাসের অমাবস্যা অর্থাৎ মৌনী অমাবস্যাকে সকল অমাবস্যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হয়। এই তিথি ধর্মীয় আচরণ, আত্মসংযম এবং আধ্যাত্মিক শুদ্ধতার প্রতীক। মৌনী অমাবস্যার নামের মধ্যেই রয়েছে এর মূল ভাবনা, অর্থাৎ মৌনতা বা নীরবতা। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে নীরব থেকে আত্মসমালোচনা এবং ঈশ্বর স্মরণ করলে মন ও আত্মা উভয়ই পরিশুদ্ধ হয়।
মৌনী অমাবস্যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঋষি মনুর জন্মকথা। বৈদিক শাস্ত্র অনুযায়ী, এই তিথিতেই মানবজাতির আদিপুরুষ মনুর আবির্ভাব হয়েছিল। সেই কারণেই এই অমাবস্যাকে এত পবিত্র এবং তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এই দিনে গঙ্গা-সহ সকল পবিত্র নদীর জল অমৃতসম হয়ে ওঠে। তাই মৌনী অমাবস্যায় গঙ্গা স্নানের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। প্রয়াগরাজের ত্রিবেণী সঙ্গমে এই দিনে লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমবেত হন পুণ্যস্নানের আশায়।
আরও পড়ুন- বাস্তবের 'সত্যবাদী যুধিষ্ঠির'! পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, মিথ্যার আশ্রয় নেন না এই ৪ রাশি
২০২৬ সালে মৌনী অমাবস্যার তারিখ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এই তিথি ১৮ জানুয়ারি নাকি ১৯ জানুয়ারি পালিত হবে। বৈদিক পঞ্জিকা অনুসারে, মাঘ মাসের অমাবস্যা তিথি শুরু হচ্ছে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাত ১২টা ০৪ মিনিটে এবং শেষ হচ্ছে ১৯ জানুয়ারি রাত ১টা ২২ মিনিটে। যেহেতু হিন্দু ধর্মে সূর্যোদয়ভিত্তিক তিথি গণনা প্রচলিত, তাই এই অমাবস্যা ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখেই পালন করা হবে বলে পঞ্জিকা জানাচ্ছে।
আরও পড়ুন- শীতের হিমেল হাওয়ায় সুখ খুঁজে পান, ঠান্ডায় কর্মক্ষমতা বাড়ে এই ৭ রাশির
এই মৌনী অমাবস্যায় একাধিক শুভ যোগের সংযোগ ঘটছে, যা তিথিটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী, এই দিনে শিববাস যোগ এবং সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ গঠিত হচ্ছে। এই যোগে শিব ও শক্তির উপাসনা করলে জীবনে সুখ, শান্তি ও সৌভাগ্য বৃদ্ধি পায় বলেই বিশ্বাস। বহুদিন ধরে আটকে থাকা কাজ এই সময়ে পূজা ও দান করলে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। তাই আধ্যাত্মিক সাধনার পাশাপাশি এই দিনটি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কল্যাণ কামনার জন্যও অত্যন্ত শুভ।
আরও পড়ুন- মানিপ্ল্যান্টে এই দুই সাধারণ জিনিস বেঁধে দিলেই বদলে যাবে ভাগ্য, বিদায় নেবে অর্থকষ্ট!
মৌনী অমাবস্যার ধর্মীয় তাৎপর্য শুধু স্নান বা পূজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই দিনে দান ও সংযমের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শাস্ত্র মতে, মৌনী অমাবস্যায় অন্ন, বস্ত্র, তিল, ঘি বা অর্থ দান করলে অক্ষয় পুণ্য লাভ হয়। পাশাপাশি নীরব উপবাস বা মৌনব্রত পালন করলে মন স্থির হয় এবং অন্তরের অশান্তি দূর হয়। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে এই একদিন নীরব থেকে নিজের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারে।
আরও পড়ুন- খাবার টেবিলে এই ৫ জিনিস রাখলেই শুরু ঘোর অমঙ্গল, পারিবারিক অশান্তি অনিবার্য!
এই তিথিটি পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যেও বিশেষভাবে উৎসর্গীকৃত। মৌনী অমাবস্যায় তর্পণ ও শ্রাদ্ধ করলে পিতৃপুরুষরা সন্তুষ্ট হন বলে বিশ্বাস করা হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী, এই দিনে পিতৃঋণ শোধের সুযোগ পাওয়া যায়। অনেক পরিবারে প্রাচীনকাল থেকেই এই দিনে পিতৃ তর্পণ করার রীতি চলে আসছে। এতে বংশের কল্যাণ হয় এবং পরিবারের ওপর পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ বজায় থাকে বলে মনে করা হয়।
একটি বিশেষ উপলক্ষ
মৌনী অমাবস্যা তাই কেবল একটি তিথি নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ধর্মীয় কর্তব্য পালনের একটি বিশেষ উপলক্ষ। ২০২৬ সালের এই পবিত্র দিনে স্নান, দান, পূজা ও মৌনব্রত পালনের মাধ্যমে মানুষ মানসিক শান্তি ও আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ করতে পারেন। জীবনের কোলাহল থেকে এক মুহূর্ত সরে এসে নিজের অন্তরের দিকে তাকানোর জন্য মৌনী অমাবস্যা এক অনন্য সুযোগ এনে দেয়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us