Mokshada Ekadashi Varat Katha: মোক্ষদা একাদশী ব্রত কথা! পাঠ করলেই বিরাট উপকার, শুনলে অবাক হয়ে যাবেন

Mokshada Ekadashi Varat Katha: মোক্ষদা একাদশী ২০২৫-এ ভগবান বিষ্ণুর কৃপা পেতে উপবাস, পূজা, ব্রতকথা পাঠ কেন জরুরি? এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানুন।

Mokshada Ekadashi Varat Katha: মোক্ষদা একাদশী ২০২৫-এ ভগবান বিষ্ণুর কৃপা পেতে উপবাস, পূজা, ব্রতকথা পাঠ কেন জরুরি? এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানুন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Mokshada Ekadashi Varat Katha: মোক্ষদা একাদশী ব্রতকথা।

Mokshada Ekadashi Varat Katha: মোক্ষদা একাদশী ব্রতকথা।

Mokshada Ekadashi Vrat Katha: মোক্ষদা একাদশী সনাতন ধর্মে সেই বিশেষ তিথি, যে তিথিতে ভগবান বিষ্ণুর কৃপা লাভ করা যায় এবং ভক্তের জীবন থেকে অশুভ শক্তি, দুঃখ-কষ্ট এবং পূর্বজন্মের পাপকর্ম দূর হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। বৈদিক পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতিবছর অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের একাদশী তিথিতে এই ব্রত পালিত হয়। এমনটাও বলা হয় যে, এই তিথি মুক্তি বা পরিত্রাণের দ্বার খুলে দেয়, কারণ 'মোক্ষ' শব্দটির আক্ষরিক অর্থই মুক্তিলাভ। তাই এইদিনে যাঁরা নিষ্ঠাভরে উপবাস, পূজা এবং ব্রতকথা পাঠ করেন, তাঁদের জীবনে শুভ ফল, শান্তি এবং অপার সাফল্য আসে বলেই শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisment

ব্রতকথা অনুসারে, চম্পকনগর নামে এক সমৃদ্ধ রাজ্যে বৈখনস নামে এক ধর্মপরায়ণ রাজা শাসন করতেন। তিনি ছিলেন প্রজাবৎসল এবং ন্যায়পরায়ণতার জন্য সুপরিচিত। একরাতে রাজা একটি ভয়ংকর স্বপ্ন দেখেন। তিনি দেখতে পান, তাঁর পূর্বপুরুষরা নরকে যন্ত্রণা ভোগ করছেন এবং তাঁকে মুক্তির আরজি জানাচ্ছেন। এই দৃশ্য দেখে রাজা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। সকাল হলে তিনি রাজপুরোহিত ও ব্রাহ্মণদের ডেকে পাঠিয়ে পুরো ঘটনা জানান। রাজা জানান যে স্বপ্নটি তাঁর মনে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং তিনি কোনও পথ খুঁজে পাচ্ছেন না।

পর্বত ঋষির ভূমিকা

ব্রাহ্মণরা তাঁকে উপদেশ দেন যে কাছেই পর্বত ঋষির আশ্রম রয়েছে। তিনি তপস্যা ও জ্ঞানবল দিয়ে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ তিন কালই অবলীলায় দেখতে পারেন। রাজা ঋষির কাছে গেলে ঋষি ধৈর্য ধরে তাঁর স্বপ্নের ব্যাখ্যা দেন। ঋষি তাঁকে জানান যে তাঁর পূর্বপুরুষরা কিছু ভুল কর্মের কারণে নরকে অবস্থান করছেন এবং তাঁদের মুক্তির একমাত্র উপায় মোক্ষদা একাদশীর উপবাস পালন। তিনি বলেন, এই একাদশীর ব্রত পালিত হলে পাপমোচন হয় এবং পূর্বপুরুষরা পরিত্রাণ পান।

Advertisment

আরও পড়ুন- এই মন্দিরে প্রার্থনা নাকি ব্যর্থ হয় না, জাগ্রত দেবী গড়বেতার সর্বমঙ্গলা

রাজা ঋষির নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত রীতি অনুসারে উপবাস, জপ, দান এবং বিশেষ ব্রতকথা (Mokshada Ekadashi Story) শ্রবণ করেন। ব্রত শেষ হওয়ার পরেই রাজার পূর্বপুরুষরা নরকযন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভ করেন এবং উচ্চলোক প্রাপ্ত হন। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, এই একাদশীর উপবাস করলে শুধু জীবিত ব্যক্তি নয়, তাঁর পিতৃপুরুষ, অশান্ত আত্মা কিংবা পূর্বজন্মের সকল ঋণ এবং পাপ থেকে মুক্তি মেলে। তাই আজও কয়েক লক্ষ ভক্ত এই তিথিতে ভগবান বিষ্ণুর পূজা করে জীবনের উন্নতি ও কল্যাণ কামনা করেন।

আরও পড়ুন- বহু অলৌকিক কাহিনির সাক্ষী, ৬০০ বছরের ইতিহাস বসিরহাট সংগ্রামপুর কালীবাড়ির

ব্রত পালন করার পর ভক্ত সকালে স্নান করে শুদ্ধচিত্তে ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান করেন। গৃহে বা মন্দিরে শ্রীবিষ্ণুর চন্দ্রবদন রূপে পূজা করা বিশেষ শুভ বলে মানা হয়। তুলসী পাতা এই পূজার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। বলা হয়, তুলসী ছাড়া বিষ্ণুর অর্ঘ্য বা নৈবেদ্য অসম্পূর্ণ থাকে। সারাদিন উপবাসে থেকে ভক্ত সন্ধ্যায় দীপ জ্বালিয়ে ব্রতকথা পাঠ করেন। একাদশী ব্রতকথা (Ekadashi Vrat Katha) শোনার সময় মন শান্ত রাখতে এবং শরীর-মনকে পবিত্র ভাবনায় নিবিষ্ট রাখা বিশেষ জরুরি। শাস্ত্রে বলা আছে যে একাদশী পূজা কখনও হালকা ভাবে করা উচিত নয়, কারণ এই তিথির প্রচণ্ড শক্তি।

আরও পড়ুন- উখড়ার ৩০০ বছরের জাগ্রত সন্ন্যাসী কালী, এর অলৌকিক ইতিহাস শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে!

দ্বাদশী তিথির সকালে উপবাস ভঙ্গ করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ের মধ্যে পারন (Paran) না করলে ব্রত অসম্পূর্ণ থেকে যায় বলে পুরাণে বর্ণিত আছে। তাই ভক্ত সূর্যোদয়ের পর স্নান সেরে সূর্যদেবকে অর্পণ করে উপবাস ভঙ্গ করেন। দ্বাদশীতে দান করার বিশেষ ফল পাওয়া যায়। খাদ্য, বস্ত্র, অর্থ বা যা সামর্থ্য আছে তা দান করলে অশেষ পুণ্য লাভ হয়। সনাতন ধর্মে দানের মাধ্যমে অন্তরের অহংকার ভেঙে যায় এবং জীবনে শান্তির পথ সুগম হয় বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন- হাওড়ার ‘সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি’, ৩০০ বছরের জাগ্রত মন্দির বড় ভরসা ভক্তদের!

মোক্ষদা একাদশী শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি মানসিক পবিত্রতারও পথ। এই দিনে ভক্তের মনে যে ভক্তি, করুণা এবং শুদ্ধতা জাগে, তা জীবনের সব অন্ধকার দূর করে শুভ পথের দিকে নিয়ে যায়। পরিবারে শান্তি, কর্মে সফলতা, আর্থিক স্থিতি—সবক্ষেত্রে এই ব্রতের সুফল কাজে আসে বলেই বিভিন্ন পুরাণে উল্লেখ আছে। তাই আজও ভক্তরা এই তিথিকে জীবনের অন্যতম পবিত্র ও কল্যাণকর দিন হিসেবে পালন করে থাকেন।

Ekadashi Vrat Katha