/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/19/sleep-2025-12-19-18-03-17.jpg)
Nightmares Solution: সহজেই করুন রাতের দুঃস্বপ্নের সমাধান।
Nightmares Solution: শান্তির ঘুম মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, রাতের ঘুম বার বার ভেঙে যাচ্ছে দুঃস্বপ্নের কারণে। কখনও ভয়, কখনও অজানা আশঙ্কা, আবার কখনও মনে কোনও অশুভ ঘটনার আশঙ্কা- এই সব অনুভূতি ঘুম ভাঙার পরও মনকে অস্থির করে রাখে। ঘনঘন দুঃস্বপ্ন দেখা মানসিক চাপ, অবদমিত ভয় বা দীর্ঘদিনের উদ্বেগের ইঙ্গিত হতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
মনোবিজ্ঞানের মতে
মনোবিজ্ঞানের মতে, দিনের বেলায় জমে থাকা চাপ ও নেতিবাচক চিন্তাই অনেক সময় রাতে স্বপ্ন হয়ে ফিরে আসে। আবার জ্যোতিষ ও বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, আমাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস এবং ঘুমের পরিবেশও দুঃস্বপ্নের জন্য দায়ী হতে পারে। তাই দুঃস্বপ্নকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা না গেলেও, কিছু নিয়ম মেনে চললে এর প্রকোপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আরও পড়ুন- স্বাস্থ্য, প্রেম, বিবাহ, আর্থিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন, ২৬-এ কোনপথে মিথুন?
ঘুমোতে যাওয়ার আগে শরীর ও মনকে পরিষ্কার রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্নান করে পরিষ্কার জামাকাপড় পরে ঘুমোলে শরীরের ক্লান্তি কমে এবং মনও শান্ত হয়। বিশেষ করে যে পোশাক পরে খাবার খাওয়া হয়েছে বা যেগুলিতে এঁটো লেগে আছে, সেগুলি পরে ঘুমোলে অস্বস্তি ও নেতিবাচক অনুভূতি বাড়তে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।
আরও পড়ুন- আর্থিক লেনদেনে সমস্যা, শুরু করা যাবে না নতুন প্রকল্প!
বিছানার পরিচ্ছন্নতাও দুঃস্বপ্নের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। অগোছালো বা অপরিষ্কার বিছানায় ঘুমোলে মন অস্থির থাকে। ঘুমোতে যাওয়ার আগে বিছানা ভালোভাবে ঝেড়ে পরিষ্কার করলে মানসিক চাপ কমে এবং ঘুম গভীর হয়। পরিষ্কার পরিবেশ মনকে স্বস্তি দেয়, যা স্বপ্নের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন- বৈভবে জীবন কাটে, সপ্তাহের এই ৪ দিনে জন্মানো শিশুরা জন্মসূত্রেই ভাগ্যবান
রাতে ঘুমোনোর আগে কী ভাবছি, সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। শোওয়ার ঠিক আগে ভয়, দুশ্চিন্তা বা খারাপ খবর নিয়ে ভাবলে সেই চিন্তাগুলিই স্বপ্নে রূপ নিতে পারে। তাই চেষ্টা করুন ঘুমোতে যাওয়ার আগে মনকে হালকা রাখার। শান্ত গান শোনা, চোখ বন্ধ করে কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস নেওয়া বা ভালো কিছু ভাবা উপকারী হতে পারে।
আরও পড়ুন- 'কানের পোকা' নাড়িয়ে দেন! এই ৫ রাশি কথা বলতে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন
জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়, ঘুমোতে যাওয়ার আগে হনুমান চালিশা বা যে কোনও শান্তিপাঠ মনকে স্থির করে। এতে এক ধরনের মানসিক সুরক্ষা তৈরি হয়, যার ফলে ভয়াবহ স্বপ্নের প্রবণতা কমতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রেই এটি আত্মবিশ্বাস ও মানসিক জোর বাড়ায়।
যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দুঃস্বপ্নে ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কিছু প্রতীকী উপায় প্রচলিত রয়েছে। যেমন বালিশের নীচে পেঁয়াজ, কাঁচি বা ধাতব কোনও বস্তু রাখা। বিশ্বাস করা হয়, এগুলি নেতিবাচক শক্তি দূরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে ঘুমের মধ্যে অস্বস্তিকর স্বপ্ন কম আসে।
বাস্তুশাস্ত্র মতে, ঘরের ভেতরে জুতো রাখা উচিত নয়। এতে নেতিবাচক শক্তির সঞ্চার হয় বলে মনে করা হয়, যা ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শোবার ঘরে জুতো থাকলে মানসিক অশান্তি বাড়ে এবং দুঃস্বপ্নের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। বিছানার পাশে ময়ূরের পালক রাখার রীতিও বহুদিনের। এটি মানসিক চাপ কমায় এবং এক ধরনের ইতিবাচক শক্তির অনুভূতি তৈরি করে বলে বিশ্বাস। অনেকেই মনে করেন, এতে ঘুম গভীর হয় এবং খারাপ স্বপ্নের প্রবণতা কমে।
সবশেষে ঘুমোনোর দিকও গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর বা পশ্চিম দিকে মাথা রেখে ঘুমোলে দুঃস্বপ্নের আশঙ্কা বাড়ে বলে জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা হয়েছে। পরিবর্তে পূর্ব বা দক্ষিণ দিকে মাথা রেখে ঘুমোলে ঘুম শান্ত এবং গভীর হয়। সব মিলিয়ে বলা যায়, দুঃস্বপ্ন কোনও অশুভ সংকেত না হয়ে অনেক সময় আমাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন মাত্র। দৈনন্দিন জীবনে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই শান্তির ঘুম ফিরে পাওয়া সম্ভব।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us